আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
সারাদেশ

শ্রম হিসেবে স্বীকৃতি নেই নারীদের গৃহস্থালি কাজের

ওমেনআই ডেস্ক : নারীরা নিজ গৃহে পুরুষের তুলনায় তিনগুণ কাজ করলেও শ্রম হিসেবে স্বীকৃতি মিলছে না এসব কাজের। গবেষণায় দেখা গেছে, নারীরা বাসায় যে গৃহস্থালির কাজ করেন তার মূল্য দেশের মোট জিডিপির প্রায় ৭৭ থেকে ৮৭ ভাগ। কিন্তু তাদের এ অবদানকে যুক্ত করা হচ্ছে না দেশের জিডিপিতে। নারীর গৃহশ্রমকে হিসাবের আওতায় আনা ও আর্থসামাজিক স্বীকৃতির দাবি বিশ্লেষকদের।
তিন সন্তান আর স্বামী নিয়ে শিউলি বেগমের সংসার। সকাল থেকে রাত অবধি চলে তার সংসার নামক যন্ত্রের চাকা। সকালে পরিবারের জন্য নাস্তা বানানো, সন্তানদের পড়াশুনা করানো, স্কুলের জন্য প্রস্তুত করা সবই করতে হয় তাকে। বাচ্চাদের পড়াশুনার পাশাপাশি ঘর ও সংসারের সমস্ত বিষয়েই মাথা ঘামাতে হয় শিউলি বেগমকে। কিন্তু সমাজ বা রাষ্ট্র ব্যবস্থার চোখে তিনি কোন কাজই করেন না।

নারীরা সংসারে পুরুষের চেয়ে তিনগুণ বেশি কাজ করলেও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি না থাকায় গৃহস্থালির কাজের মূল্যায়ণ হচ্ছেনা বলে অভিযোগ তাদের। শিউলি বেগম নামে এক গৃহিনী বলেন, ‘ঘরে কাজরে মূল্য নারীরা তাদের ঘর থেকেই পায় না, বাইরে আর কি পাবে। আমার মতে রাষ্ট্রেরই এটা মূল্যায়ন করা উচিৎ।’

শিউলি বেগমের একার নয়, রাজধানী কিংবা গ্রামাঞ্চল সবজায়গাতেই এ অবস্থা দৃশ্যমান। গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডির ২০১৪ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৫ বছরের উপরের একজন নারী গড়ে প্রতিদিন পুরুষের তুলনায় তিনগুণ কাজ করেন, যা ঘণ্টা হিসেবে গড়ে প্রায় ৮ ঘন্টা। নারীদের এসব কাজের মূল। জিডিপিতে অর্ন্তভুক্ত করা হলে তার বার্ষিক মূল্য হতো মোট জিডিপির প্রায় ৮৭ ভাগ

সিপিডির রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘নারীর এই অবদানটাকে আমরা গণনার ভেতরে আনতে পারি এবং আমাদের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক বিষয়গুলোর মাধ্যে এটিকে আরো ভালোভাবে স্বীকৃতি দিতে পারি সেটা ভাবতে হবে।’

আর নারীবাদী সংগঠনগুলো তাদের শ্রমকে জিডিপির অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি তাদের জন্য পেনশন সুবিধাসহ বেশ কিছু দাবিও তুলে ধরেন।

বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের প্রধান নির্বাহী রোকেয়া কবির বলেন, ‘নারীদের পেনশনের ব্যবস্থা করা। সহনীয় মূল্যে নিরাপদ পানি এবং জ্বালানির ব্যবস্থা করা।’

ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বিশ্ব গড়াসহ মোট সতেরোটি লক্ষ্য নির্ধারণে গেল বছর জাতিসংঘ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণী অনুষ্ঠানে নারীর শ্রমকে জিডিপিতে অর্ন্তভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়। আর বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের জিডিপিতে নারীর অবদান নিরুপণ করতে অবৈতনিক কাজের মূল্য অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close