আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
জাতীয়

জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়ল বাংলাদেশ

ওমেন আই :
সাবাশ বাংলাদেশ, এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়। জ্বলে পুড়ে মরে ছারখার তবু মাথা নোয়াবার নয়। সুকান্ত ভট্টাচার্য্যের এই বিখ্যাত কবিতা হয়তবা এমন বাংলাদেশের ছবিই এঁকেছিল। যা আজ দেখল পৃথিবী।

বেলা তখন ১১টা ২০ মিনিট। সূর্যটা আস্তে আস্তে উঠে এসেছে মাথার ওপর। কপাল বেয়ে নুয়ে পড়ছে নোনা জল। এই অবস্থায় রাজধানীর প্যারেড গ্রাউন্ডে ‘লাখো’ কণ্ঠ এক সঙ্গে গেয়ে উঠল ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি’। সেই সুর মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ল বাংলার পথে-প্রান্তরে। যে যেখানে ছিলেন, সেখানেই ঠাঁই দাঁড়িয়ে গেলেন। তিন লাখ কণ্ঠের সঙ্গে কণ্ঠ মেলালেন কোটি বাঙালি। এরই মধ্য দিয়ে সূচিত হলো অনন্য এক রেকর্ড। প্যারেড গ্রাউন্ডের মেশিন কাউন্ট অনুযায়ী, ২ লাখ ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষ এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। তবে ৩ লাখের বেশি মানুষ প্যারেড গ্রাউন্ডে উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি অনুষ্ঠান কর্তৃপক্ষের। পৃথিবীর ইতিহাসে এত মানুষ একসঙ্গে কখনো জাতীয় সঙ্গীত গাইনি। এর আগে ২০১৩ সালের ৬ মে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত গেয়ে গিনেজ বুকে স্থান করে নিয়েছিল ভারত। ওই আয়োজনে ১ লাখ ২১ হাজার ৬৫৩ জন অংশ নিয়েছিলেন।

ভোরের আলো বাংলাদেশে পড়তে না পড়তেই রাজপথে নেমে এল লাখো বাঙালি। গণমানুষের পদচারণা, আর বাসের ছাদে উচ্ছল তরুণদের কণ্ঠে ‘সোনার বাংলা’ অন্ধকার ভেদ করে ফুটিয়ে তুলল আলোর রেখা। লাল-সবুজের শাড়ি পড়ে হেঁটে চলেছে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণীসহ গার্মেন্টস কর্মীরাও। সবাই ছুটেছে একই পথে, একই উদ্দেশে। লাখো কণ্ঠে গাইবে ‘সোনার বাংলা’।

তবে যানজট ও ট্রাফিক পুলিশের নানা অব্যবস্থাপনায় লক্ষাধিক মানুষ এই অনুষ্ঠানের উদ্দেশে এসেও যোগ দিতে পারেননি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফার্মগেট এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, অনেকেই ফিরে আসছেন। জানতে চেয়েছিলাম আপনারা ফিরে যাচ্ছেন কেন? এই প্রশ্নের জবাবে গার্মেন্টস কর্মী ফাতিহা বলেন, ‘ভোরে বাসা থাইকা বেরোইছি। কিন্তু তবুও নাকি দেরি হইছে, আমাগো লগে আসা সবাই ফিরতাছে।’ এমন অভিযোগ ছিল অনেকেরই। যারা চরম আকাঙ্ক্ষা থাকা সত্বেও পৌঁছাতে পারেননি নির্ধারিত স্থানে।

পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী বেলা ১১টায় জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার কথা থাকলেও এর ২০ মিনিট পর লাখো কণ্ঠে ধ্বনিত হলো জাতীয় সঙ্গীত। শুধু প্যারেড গ্রাউন্ডেই নয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে সাড়া দিয়ে সারাদেশের মানুষ দাঁড়িয়ে এ জাতীয় সঙ্গীতে অংশ নিয়েছেন। অনুষ্ঠানে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও। সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে পৌঁছানোর কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই তিনি পৌঁছে যান অনুষ্ঠানস্থলে।

অনুষ্ঠানে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আমাদের জাতীয়তা বোধ ও দেশপ্রেম বিশ্ববাসী জানবে। গিনেজ বুক ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম উঠবে বাংলাদেশের, সেজন্যেই আমরা এখানে এসেছি। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ জাগ্রত থাকবে, বিশ্বসভায় মাথা উচু করে বাঁচবে।

সম্মিলিত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনায় অংশ নেন আব্দুল জব্বার, ফাতেমা তুজ জোহরা, ইন্দ্রমোহন রাজবংশী, মীতা হক, রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, তপন মাহমুদ, তিমির নন্দী, বুলবুল মহলানবীশ, শাহীন সামাদ, সুজিত মোস্তফা, ফরিদা পারভীন, চন্দনা মজুমদার এবং ফকির আলমগীরসহ দেশ বরেণ্য শিল্পীরা।

এই বিশাল আয়োজনকে স্বীকৃতি দিতে গিনেজ বুক কর্তৃপক্ষের মনোনীত প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত ছিলেন। প্রতি ৫০ জনে কমপক্ষে একজন প্রতিনিধি উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠান পর্যবেক্ষণ করেন।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close