আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
খেলাধুলা

ব্যাটিং ব্যর্থতায় আবারও হারলো সালমারা

ওমেন আই :
বিশ্বকাপের মঞ্চে গতকালই অভিষেক হলো বাংলাদেশের মেয়েদের। কিন্তু সম্পূর্ণ নতুন আর আন্তর্জাতিক একটা মঞ্চে নিজেদের মেলে ধরতে ব্যর্থ হলো সালমা খাতুনের দল।

বল হাতে দারুণ এক সূচনার পরেও শেষ পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে আর পেরে ওঠেনি বাংলাদেশের মেয়েরা। সিলেট স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাটিং করা ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১১৫ রানের জবাবে বাংলাদেশের ইনিংস ১৭.৩ ওভারেই ৭৯ রানেই গুটিয়ে যায়। আর দ্বিতীয় ম্যাচে ৩৬ রানের জয় দিয়ে স্বাগতিকদের পরাজিত করা ক্যারিবীয়রা এখন শতভাগ সাফল্য নিয়ে গ্রুপের শীর্ষ দল হিসেবে নিজেদের অবস্থান পাকা করলো।

টসে জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক মেরিসা আগুলেইরা প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। অবশ্য দলীয় ব্যাটসম্যানদের উপর আস্থার কারণেই তার এই সিদ্ধান্ত। কিন্তু প্রথম ওভারেই স্কোরবোর্ডে কোন রান যোগ করার আগেই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান কিসিয়া নাইটকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে দারুণ এক সূচনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক সালমা খাতুন। বোলাররা অধিনায়কের পথ ধরেই একের পর এক ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ব্যাটসম্যানদের উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে আশার আলো দেখান। বিশেষ করে স্পিনারদের কথা না বললেই নয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৮ উইকেটই দখল করেছেন স্পিনাররা। বাকি দু’টি রান আউট। এর মধ্যে খাদিজাতুল কুবরা ২৪ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট। আর সালমা ও ফাহিমা নিয়েছেন ২টি করে উইকেট। মূলত জাহানারা আলমের বদলি হিসেবে পঞ্চম ওভারে ফাহিমা আক্রমণে এসেই ক্যারিবীয় ইনিংসে ধস নামান। তিনি পরপর দুই ওভারে প্রথমে শাকুনা কুইনটাইনকে (১১) বোল্ড এবং কিশোনা নাইটকে (১১) এলবিডব্লি¬উর ফাঁদে ফেললে ক্যারিবীয়দের ইনিংস দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ৩৩। এরপর পঞ্চম উইকেটে এ্যান কিং এবং ডিনড্রা ডোটিন মিলে ৪০ রানের একটি পার্টনারশীপ গড়ে তোলেন। কিন্তু এই জুটিকে কুবরা নিজের দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় ও চতুর্থ ওভারে লং-অনে ফাহিমার সহায়তায় ফিরিয়ে দিলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস আর বাড়তে পারেনি। ডোটিন ৩৪ বলে ৩টি বাউন্ডারি ও ১টি ওভার বাউন্ডারির সহায়তায় ইনিংস সর্বোচ্চ ৩৬ রান করেন। শেষ ৫ উইকেটের পতন ঘটে ৪৪ রানে।

কিন্তু বোলারদের সাফল্যের দিনে আগের মতোই ব্যাটিং হতাশায় বাংলাদেশ নিজেদের ইনিংস ৭৯ রানের বেশি সমৃদ্ধ করতে পারেনি। ১৮ বছর বয়সী ডানহাতি লেগব্রেক বোলার কুইনটাইন ৩ ওভারে ৫ রানে ৩ উইকেট দখল করে বাংলাদেশের ইনিংস গুঁড়িয়ে দেন। স্বাগতিকদের সর্বোচ্চ রান এসেছে রুমানা আহমেদের ব্যাট থেকে। ২৩ বলে রুমানা ৪টি বাউন্ডারির সহায়তায় ২৬ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়া অধিনায়ক সালমা ১৭ বলে ১৭ রান ও আয়েশা রহমান ১৯ বলে ১০ রান সংগ্রহ করেন। স্বাগতিক আর কোন ব্যাটসম্যানই দুই অঙ্কের কোটা স্পর্শ করতে পারেননি।

নিজেদের এই ব্যাটিং ব্যর্থতায় স্বাগতিক অধিনায়ক অবশ্য নতুন কোন যুক্তি দাঁড় করাতে পারেননি। কিংবা ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোলারদের কৃতিত্ব দিতে পারেননি। ম্যাচ শেষে হতাশ কণ্ঠে সেই আগের কথাগুলোই বলেছেন সালমা। পাওয়ার পে¬তে জ্বলে না ওঠাকেই নিজেদের ব্যর্থতার মূল কারণ হিসেবে তিনি দায়ী করেছেন। ৪৪ রানে ৪ উইকেট পতনের পরে ক্রিজে একমাত্র স্বীকৃত ব্যাটসম্যান হিসেবে ছিলেন রুমানা। যোগ্য সঙ্গীর অভাবে তিনিও বেশিদূর যেতে পারেননি। ইনিংসের শেষের দিকে যখন ৩৬ বলে ৫০ রান প্রয়োজন ছিল তখনই মূলত ম্যাচটি হাত থেকে বেরিয়ে গেছে বলে সালমা বুঝতে পেরেছিলেন। তবে বোলারদের কৃতিত্ব দিতে ভুল করেননি স্বাগতিক অধিনায়ক।

অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক আগুইলেইরা মনে করেন বাংলাদেশ ক্রমেই উন্নতি করছে। টি২০তে কোন দলকেই খাটো করে দেখার কোন উপায় নেই। সেটাই আজ বোলিংয়ে প্রমাণ করেছে বাংলাদেশ। তবে একই সাথে তিনি একথাও বলেছেন সব দলেরই বাজে দিন আসতে পারে। সেটাই আজ তাদের ক্ষেত্রে হয়েছে। তবে দিনের শেষে ম্যাচ জয়ে তিনি সন্তুষ্ট। দলের সকলের উপর তার আস্থা ছিল। তাই দলের কম রানেও তিনি মোটেই হতাশ হননি। স্বাগতিক দর্শকদের উচ্ছ্বসিত উপস্থিতিতে পুরো দল অবশ্য কিছুটা নার্ভাস হয়ে পড়েছিল। কিন্তু একই সাথে তিনি একথাও স্বীকার করেন, মেয়েদের ক্রিকেটে এত দর্শকের উপস্থিতি নি:সন্দেহে বাংলাদেশে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তারই বহিঃপ্রকাশ। বিষয়টি বাংলাদেশের মহিলা ক্রিকেটের ওপরও দারুণ প্রভাব ফেলবে বলেই তিনি মনে করেন।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close