আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
ফেসবুক থেকে

মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্ন আজও বাস্তবায়ন হয়নি

শ্যামলী নাসরীন চৌধুরী

যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় বিএনপি ও জামায়াতের ধ্বংসাৎদক কার্যক্রম শহীদদের প্রতি অবমাননার শামিল। আর হীন এ কাজের জন্য রাজনৈতিক দল দুটির নেতা-কর্মীদের শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। প্রতিবছর বিজয়ের মাসে বিশেষ করে বুদ্ধিজীবী দিবসে ডা. আলীমের কথা স্মরণ করে আমি শোকাচ্ছন্ন হয়ে পড়ি। তবে প্রিয়জন হারানোর কষ্টে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়লেও নতুন প্রজন্মকে বুদ্ধিজীবী দিবস সম্পর্কে জানানোর তাগিদ অনুভব করি। আমি মনে করি, মুক্তিযোদ্ধারা দেশকে ঘিরে যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তার বাস্তবায়ন আজো হয়নি। তবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারগুলো আশ্বস্ত হয়েছে। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় বিএনপি-জামায়াত যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মানবতাবিরোধীদের বিচার কাজ শুরু করেছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে সে ধারাবাহিকতায় যুদ্ধাপরাধ বিচার প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে নিয়েছে। এখন আমিসহ অন্য শহীদ পরিবারগুলোর একটিই চাওয়া, তা হলো- দ্রুত যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হোক। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কার্যক্রম নিয়ে আমি সন্তুষ্ট। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এ অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে আমার কোনো প্রশ্ন নেই। তবে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা ও আনুষঙ্গিক সেবা আরও বাড়ালে বিচার কাজেও গতি বাড়বে বলে আমার বিশ্বাস।

দেশে যে রাজনৈতিক সহিংসতা হচ্ছে তা অনাকাক্সিক্ষত। বহু আৎদত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশের এ দুরবস্থার জন্য মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করেননি। হঠকারী রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণেই বর্তমানে দেশের এ অবস্থা। জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের দুরবস্থা শুরু হয়। আমরা যাতে স্বাধীন বাংলাদেশের সুফল উপভোগ করতে না পারি তার জন্যই পরাজিতরা দেশে অস্থির অবস্থা তৈরি করছে। কারণ তারা কখনোই চায়নি স্বাধীন বাংলাদেশের মানুষ সুখে থাকুক। দেশে যে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটছে তা একটি ষড়যন্ত্রের অংশ। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এবং খালেদা জিয়া আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রে জড়িত। বিদেশি চক্রের ম“ দেওয়ার কারণেই এ অপশক্তির আজ এত দুঃসাহস। এমনকি তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাধাগ্রস্ত করছে। আর এ অপশক্তিকে বাধা দেওয়া গেলেই দেশের সার্বভৈৗমত্ব বজায় থাকবে, বিজয় পরিপূর্ণভাবে অর্জিত হবে। অর্থাৎ অপশক্তি নিশ্চিহ্ন হলেই আমরা সম্পূর্ণ স্বাধীনতা ফিরে পাব। আমি মনে করি, দেশের যা কিছু অর্জন তা এসেছে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোকদের আন্তরিকতার কারণে। আর এ ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে যুদ্ধাপরাধীদের মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর করতে হবে। জামায়াত-শিবিরের ‘জ্বালাও-পোড়াও’ রাজনীতির বিনাশ করতে হবে। দেশ অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে গেছে। আমাদের প্রবৃদ্ধি বেড়েছে, শিক্ষা ও কৃষিতে উন্নতি হয়েছে। তবে যেসব ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে আছি তাও পূরণ সম্ভব হবে দেশে বিদ্যমান অপশক্তির নিশ্চিহ্নের মাধ্যমে। বাংলাদেশ অনেক আগেই উন্নত দেশের তালিকায় স্থান পেত। কিন্তু উগ্র মৌলবাদী চক্রের ষড়যন্ত্রের কারণেই তা সম্ভব হয়নি। ডা. আলিম মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা দিয়ে ও গোপনে তাদের জন্য গাড়িভর্তি ওষুধ পৌঁছে দিয়ে সাহায্য করতেন। আর এ কারণে সহজেই তিনি আলবদর বাহিনীর চোখে পড়ে যান। ১৯৭১ সালের ১৫ ডিসেম্বর বিকাল সাড়ে ৪টায় আলবদর বাহিনী ডা. আলীমকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর ১৮ ডিসেম্বর রায়েরবাজার বধ্যভূমি থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করি। ডা. ফজলে রাব্বির পাশেই চোখ ও হাতবাঁধা অবস্থায় তার মৃতদেহ পড়ে ছিল। আমি মনে করি, দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান কমেছে। তবে কিছু রাজনৈতিক নেতার দেশ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আন্তরিকতার অভাব রয়েছে। মুক্তিযোদ্ধারা দেশকে ঘিরে যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তার বাস্তবায়ন আজো হয়নি। তবে আমরা অর্জনের পথেই আছি। অনুলেখক : জিন্নাতুন নূর
সৌজন্য: বাংলাদেশ প্রতিদিন

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close