আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
সারাদেশস্লাইড

তবুও ভোগান্তির শঙ্কা

ওমেনআই ডেস্ক : ঈদযাত্রায় নির্বিঘ্নে সড়ক-মহাসড়ক পাড়ি দেওয়া নিয়ে শঙ্কায় ঘরমুখী মানুষ। কারণ ঈদযাত্রা পুরোপুরি শুরু হতে না হতেই মহাসড়কে ২০/৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট লেগে আছে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের মহাসড়ক ব্যবস্থাপনা বিভাগের (এইচডিএম) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী জাতীয় মহাসড়কের ৭৪ দশমিক ২২ শতাংশই ভালো। বাকী ২৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ ভাঙাচোরা। অর্থাৎ মহাসড়কের এক-তৃতীয়াংশের বেহাল অবস্থা। এই খারাপ অংশই ভারী বর্ষা, অত্যধিক গাড়ির চাপ কিংবা দুর্ঘটনা মানুষকে চরম ভোগান্তিতে ফেলতে পারে। গত বছর ঈদুল ফিতরে ৩২ শতাংশ মহাসড়ক খারাপ ছিল। সে তুলনায় এবার মহাসড়কের অবস্থা ভাল বলা হলেও বাস্তবতা ভিন্ন। ঈদযাত্রা শুরু হতে না হতেই মহাসড়কগুলোতে ২০/৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট ঘরমুখী মানুষদেরকে ভাবিয়ে তুলেছে। সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী তিশা পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামাল হোসেন জানান, গতকাল সকাল ৭টায় সায়েদাবাদ থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি বাস কুমিল্লায় পৌঁছতে ১০ ঘণ্টা সময় লেগেছে। তিনি বলেন, ঢাকা থেকে ছেড়ে ওই বাসটি কাঁচপুর ব্রিজ পার হতে সময় লেগেছে চার ঘণ্টা। সুতরাং এবার ভোগান্তির কি অবস্থা হবে তা এখনই অনুমান করা যাচ্ছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, বৃষ্টি বাদলের জন্য এবার ঈদযাত্রায় ভোগান্তি হতে পারে। বিশেষ করে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহসড়কের বেহাল অবস্থা নিয়ে আমরা খুবই চিন্তিত। তিনি বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ঘোড়াশাল অংশ একেবারে অকেজো হয়ে পড়েছে। আবার নরসিংদীর গাউছিয়া অংশে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের কারনে যানজট লেগেই আছে। এসব কারনে এবারের ঈদযাত্রায় ভোগান্তির শঙ্কা রয়েছে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) অধীনে সারাদেশে জাতীয় মহাসড়কের দৈর্ঘ্য ৩ হাজার ৮৯২ কিলোমিটার। অধিদপ্তরের এইচডিএম-এর সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর মধ্যে ১ হাজার ৯৭৭ কিলোমিটার বা ৫৪ শতাংশ মহাসড়কের অবস্থা ভালো। মোটামুটি অবস্থায় রয়েছে ২৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ। বাকী ২০ দশমিক ২১ শতাংশের অবস্থা বেহাল। ৪ হাজার ২৪৬ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়কের মধ্যে ৪২ দশমিক ৮২ শতাংশ মহাসড়কের অবস্থা ভালো। ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ ভাঙাচোরা। বাকী প্রায় ১৭০ কিলোমিটার মহাসড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি বছরের মার্চ মাসে এ প্রতিবেদন তৈরী করা হয়। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সেতু বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, প্রতিবেদন তৈরীর পর অনেক সড়কই মেরামত করা হয়েছে। অনেকাংশে মেরামতের কাজ চলছে। আবার এরই মধ্যে টানা বৃষ্টিতে নতুন করে অনেক সড়ক নষ্ট হয়ে গেছে। ঈদের আগেই সবগুলো সড়ক মেরামত হয়ে যানবাহন চলাচলের উপযোগী হওয়ার কথা। এইচডিএম প্রতিবেদনে বলা হয়েছে দেশের সড়ক-মহাসড়ক রক্ষণাবেক্ষণ, সংস্কার ও পূণনির্মাণে চলতি অর্থ বছরেই প্রয়োজন ১২ হাজার ৯০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। জানতে চাইলে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ঈদে বিশেষ কোনো বরাদ্দ থাকে না। তারপরেও ঘরমুখি যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবে ঈদের আগেই সব ধরণের মেরামতের কাজ শেষ করা হবে। এ তো গেল মন্ত্রণালয়ের কাগজ কলমের হিসাব। প্রকৃত অবস্থা একেবারে উল্টো। রমজানের আগে থেকেই ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-টাঙ্গাইল, ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ভয়াবহ যানজটের কবলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকছে যানবাহন। গত এক সপ্তাহে এ যানজট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে ২০/৩০ কিলোমিটার ছাপিয়ে অর্ধশত কিলোমিটার ছাড়িয়ে যাচ্ছে। দুই ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগছে ৭/৮ ঘণ্টা। ঢাকা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব অংশে যেতে সময় লাগছে ৮/৯ ঘণ্টা। আর কয়েক দিন পর ঈদে ঘরমুখি মানুষ ও যানবাহনের চাপে কি অবস্থা হবে তা সহজেই অনুমান করা যায়। আলাপকালে সেই ভোগান্তির শঙ্কা জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগিরা।
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা-উত্তরবঙ্গ পথের ভোগান্তির মূল জায়গা এখন গাজীপুর-টাঙ্গাইল অংশ। গাজীপুরের চন্দ্রা থেকে ভোগরা পর্যন্ত গত ১৫ দিন ধরে যানজট হচ্ছে। মহাসড়কের এই অংশে চলছে চার লেনের কাজ। স্থানে স্থানে সড়কের দুই পাশের মাটি সরিয়ে নেওয়া, মাটির স্তুপ, নির্মাণসামগ্রী ও যন্ত্রপাতির কারণে সড়ক সংকুচিত হয়েছে। আছে খানাখন্দও। এতে করে এখনই এই পথে পাঁচ-ছয় ঘণ্টা জটে আটকে থাকতে হচ্ছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবহন চালকেরা জানিয়েছেন। এই পথ দিয়ে উত্তরবঙ্গ ও বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ১৬ জেলার যানবাহন চলে। প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগিরা আরও জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুরের ২৫ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ এবং চার লেনের উন্নয়নকাজের জন্য সৃষ্ট ধীরগতির কারণে এবারও ঈদের যাত্রায় দুর্ভোগের আশঙ্কা রয়েছে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, ঈদ উপলক্ষে যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এ মহাসড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রাস্তা প্রশস্তকরণের কাজ চলছে। এ ছাড়া মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দগুলোর সংস্কারকাজ চলছে। ঢাকা-বগুড়া রুটের হানিফ পরিবহনের চালক জয়নাল আবেদীন বলেন, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে এই মুহূর্তে যানজটের প্রধান কারণ হচ্ছে খানাখন্দ ও রাস্তার উন্নয়নকাজ। কোনোরকমে জোড়াতালি দিয়ে মেরামত করা হলেও দু’এক দিন পর সড়কে আগের অবস্থা সৃষ্টি হচ্ছে। ওই চালক জানান, কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক, সফিপুর বাজার, পল্লী বিদ্যুৎ, চন্দ্রা তিন রাস্তার মোড় ও কালিয়াকৈরের সাহেববাজার এলাকায়ও মহাসড়কে ছোট-বড় গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এক ঘণ্টার পথ অতিক্রম করতে সময় লাগছে ৪/৫ ঘণ্টা। ভুক্তভোগিরা জানান, গত কয়েক দিনে ঢাকা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত বাসে যেতে সময় লাগছে ৮/৯ ঘণ্টা। ঈদ যতোই ঘনিয়ে আসছে এ সময় ততোই বাড়ছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক : চার লেনে উন্নীত হওয়ার পরও অর্থনীতির ‘লাইফ লাইন’ বলে খ্যাত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সুফল মিলছে না। প্রতি বছরই ঈদ এলে এই মহাসড়কে ৩০ থেকে ৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতোদিন অবশ্য সওজের দাবি ছিল, চাল লেনে উন্নীত হওয়ার পর এ অবস্থা থাকবে না। কিন্তু গত কয়েক মাসের পরিসংখ্যান বলছে এবারের ঈদেও যানজটের দৈর্ঘ্য আগের মতোই হবে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের হিসাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের অবস্থা ভালো। কিন্তু বাস্তবে মহাসড়কের অনেক অংশই ইতোমধ্যে দখল হয়ে গছে। মহাসড়কের উপরে তৈরী করা হয়েছে বাস, টেম্পু, অটোরিকশা স্ট্যান্ডসহ দোকানপাট। সেগুলোর কারনেও যান চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে। এই মহাসড়কের বিষফোঁড়া হলো কাঁচপুর, মেঘনা ও গোমতী সেতু। এই তিনটি সেতুতে ওঠানামা করার সময় যতো সব অনিয়ম করায় চার লেনের সুফল মিলছে না বলে অনেকেরই অভিযোগ। গতকাল শুক্রবার ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া বাসগুলো কাঁচপুর সেতু পার হতেই লেগেছে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা। আবার মেঘনা ও গোমতী সেতু পার হতে লেগেছে কমপক্ষে তিন ঘণ্টা। এতে করে ঢাকা থেকে যেখানে চার ঘণ্টায় চট্টগ্রাম যাওয়ার কথা সেখানে ৭ ঘণ্টা লেগেছে দাউদকান্দি পর্যন্ত যেতে। ভুক্তভোগিরা জানান, ঈদে যানবাহনের চাপ এ অবস্থার আরও অবনতি হবে। হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল মালেক বলেন, এই তিনটি সেতুর বিকল্প তৈরী না হওয়া পর্যন্ত এ যানজট থেকে রেহাই মিলবে না।
শুধু সেতুর কারনে নয়, বাংলাদেশের দীর্ঘ এ মহাসড়কে এখনও নিষিদ্ধ থ্রি-হুইলার ও ব্যটারীচালিত রিকশা অবাধে চলাচল করে। মহাসড়কের উপরে দাউদকান্দি ও চান্দিনা অংশে টেম্পু ও অটোরিকশার স্ট্যান্ড। এগুলোর কারনেও যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকার অংশে যাত্রাবাড়ী থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত ৮ লেন। ইতোমধ্যে এই ৮ লেনের ২ লেন বেদখল হয়ে গেছে। যাত্রাবাড়ীর হানিফ ফ্লাইওভারের কারনেও এই ৮ লেনের সুবিধা মিলছে না। ৮ লেন ধরে ঢাকায় প্রবেশকালে ফ্লাইওভারের দুদিকে যে রাস্তা গেছে তার প্রস্থ মাত্র ১৫ ফুট। এই সরু রাস্তা দিয়ে যানবাহন চলতে গিয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। গত কয়েক দিন ধরে এই যানজট ভয়াবহ রুপ নিয়েছে। যা ঈদে ঘরমুখি মানুষকেও বিপাকে ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক : ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের গাউছিয়া মার্কেটের কাছে ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ চলছে। নির্মাণযজ্ঞ, সড়ক সরু হয়ে যাওয়া এবং যানবাহনের চাপে তীব্র যানজট এখানকার নিত্যদিনের ঘটনা। যা আসন্ন ঈদে ঘরমুখী মানুষের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যাতায়াত কঠিন করে তুলেছে মাত্র চার কিলোমিটার অংশ। এর মধ্যে এক কিলোমিটার পথ হচ্ছে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের নিচে যাত্রাবাড়ী মোড় থেকে কুতুবখালী পর্যন্ত। বাকি তিন কিলোমিটার দুর্ভোগের নাম নারায়ণগঞ্জের গাউছিয়া মার্কেট এলাকা। যানজট, খানাখন্দ আর সড়কের ওপর নির্মাণযজ্ঞের ফলে এই পথের যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরে ঘরমুখী মানুষের চরম দুর্ভোগে ফেলে দিতে পারে।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের ভুলতার গাউছিয়া মার্কেটের কাছে ফ্লাইওভার নির্মাণের কাজ চলছে দুই বছর ধরে। এতে গাউছিয়া মার্কেটের আগে-পরের ১০ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজট নৈমিত্তিক ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ওঠার জন্য মহাখালী থেকে টঙ্গী- ঘোড়াশাল হয়ে আরেকটি সরু সড়ক আছে, যেটি নরসিংদীর পাঁচদোনায় গিয়ে মহাসড়কে মিশেছে। ওই সড়কেরও কিছু স্থানে বড় বড় গর্তের কারণে চলাচল দায় হয়ে পড়েছে। সব মিলিয়ে ঢাকা থেকে সিলেট পথে দৈনিক প্রায় ৫০০ বাস চলাচল করে। ঈদযাত্রায় তা আরও বেড়ে যায়। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, ঘোড়াশাল সড়কটি যান চলাচলের অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। ঈদে এই পথে বাসগুলো চলতে গিয়ে যানজটের সৃষ্টি হলে তা ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। তাতে ঘরমুখি যাত্রীদের যে ভোগান্তি হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
ঢাকা-চট্টাম মহাসড়কে দীর্ঘ ২০ কিলোমিটার যানজট : এদিকে নারায়ণগঞ্জ থেকে আমাদের স্টাফ রিপোর্টার জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় থেকে যানজট প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যানজট। এ যানজট মেঘনা সেতু হয়ে বাউশিয়া পর্যন্ত জানিয়েছেন পরিবহন শ্রমিকরা। গতকাল সাপ্তাহিক ছুটির দিন ও মেঘনা ব্রীজের উপর কাভার্টভ্যান ও ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষের কারণে ও ধীরগতিতে টোল আদায় ও মহাসড়কে ছুটির দিনে অতিরিক্ত গাড়ির চাপ ও বন্দর উপজেলার জাঙ্গাল এলাকায় এক সড়ক দূর্ঘটনার কারণে এ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও মেঘনা ও কাঁচপুর সেতুতে এক লেনে গাড়ি চলাচল করায় আরো বেশি যানজট হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। যানজট নিরসনে পুলিশ ভোর থেকে কাজ করে যাচ্ছে। যানজটের আটকা পড়ে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। যানজটের কারণে মহাসড়কে যান চলাচলে ধীরগতি ছিল। ওই সময়েও মহাসড়কের গাড়িগুলো ধীর গতিতে চলতে দেখা যায়।
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি শেখ শরিফুল আলম জানান, শুক্রবার ছুটির দিন থাকায় মহাসড়কে বাড়তি গাড়ির চাপ ছিল। মেঘনা ব্রীজের উপর কাভার্টভ্যান ও ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষের পর যানজটের সূত্রপাত হয়। তাছাড়া মেঘনা টোল প্লাজায় টোল আদায়ে ধীর গতির কারনে এ যানজট দীর্ঘ হতে থাকে। এ যানজট সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় থেকে গজারিয়া উপজেলার বাউশিয়া এলাকা পর্যন্ত বিস্তার লাভ করে।
ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী সুন্দরবন পরিবহনের যাত্রী আবু তাহের ফয়সাল, ইকরাম হোসেন ও রশিদ আমিন বলেন, মহাসড়কের সানারপাড় এলাকায় একটি সড়ক দূর্ঘটনায় যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। ওই এলাকা থেকে এ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। কুমিল্লাগামী সেতু পরিবহনের যাত্রী সুফিয়া বেগম ও আব্দুল আউয়াল বলেন, রমজান মাসে তীব্র যানজটে দীর্ঘক্ষন বাসে বসে থেকে কোমর ব্যাথা হয়ে আছে। মদনপুর থেকে দাউদকান্দি স্বাভাবিকভাবে দেড় ঘন্টা সময় লাগে। দুই ঘন্টা হাটলে হয়তো গৌন্তব্যে পৌছাতে পারতাম। যানজটের কারনে ৪ ঘন্টা বাসে বসে থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার পথ এগিয়ে আসতে পারলাম। বোরাক পরিবহনের যাত্রী খায়রুল আলম খোকন বলেন, ঢাকা থেকে দুপুরে রওনা হয়ে বিকেলে ৫টার দিকে মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় আসলাম। বৃষ্টি হওয়ার কারনে হয়তো তেমন সমস্যা হয়নি। কিন্তু রোদ থাকলে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হতো।
ইতি পরিবহের চালক সানাউল্লাহ বলেন, কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশ সবচেয়ে বেশি সমস্যা সৃষ্টি করেছে। তারা যানজট নিরসনের চেয়ে বেশি সমস্যা সৃষ্টি করেছেন। টাকা পেয়ে উল্টো পথে গাড়ি চলাচলের সুযোগ করে দিয়েছেন। এতে করে গাড়িগুলো এলোমেলো ভাবে চলছে।
তিশা পরিবহনের শ্রমিক বাদশা মিয়া বলেন, বৃহস্পতি ও শুক্রবার রাতে বৃষ্টি হওয়া, শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন ও মেঘনা টোল প্লাজায় ধীরগতিতে টোল আদায় ও মহাসড়কে ছুটির দিনে অতিরিক্ত গাড়ির চাপ ও বন্দর উপজেলার জাঙ্গাল ও সানারপাড়া এলাকায় সড়ক দূর্ঘটনার শিকার হওয়ায় যানজট দীর্ঘ হয়। ফলে মহাসড়কে অতিরিক্ত গাড়ির চাপ সৃষ্টি হয়ে যানজটে পরিণত হয়। কাঁচপুর হাইওয়ে থানার সার্জেন মাহবুবুর রহমান বলেন, মেঘনা ব্রীজের উপর কাভার্টভ্যান ও ট্রাক মুখোমুখি সংঘষের পর গাড়ি সরাতে দেরি হওয়ার যানজট দীর্ঘ হতে থাকে। তাছাড়া আরো দুটি স্থানে সড়ক দূর্ঘটনা ঘটেছিল। সোনারগাঁ থানার ওসি শাহ মো. মঞ্জুর কাদের পিপিএম জানান, মহাসড়কে গাড়ির অতিরিক্ত চাপ থাকার কারনে এ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এ যানজটের প্রভাব শাখা পথগুলোতে এসে পড়েছে। যানজট নিরসনের হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি সোনারগাঁ থানা পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close