আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
উদ্যোক্তা

অসলো বিজনেস ফর পিস অ্যাওয়ার্ড পেলেন সেলিমা আহমাদ

ওমেন আই:
এ বছর ‘অসলো বিজনেস ফর পিস অ্যাওয়ার্ড-২০১৪’ অর্জন করলেন নিটল-নিলয় গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা আহমাদ। ব্যবসার সঙ্গে সামাজিক মূল্যবোধের সমন্বয় ঘটিয়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা সৃষ্টিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এ পুরস্কার দেয়া হয়েছে। গত শুক্রবার নরওয়ের অসলোয় এ ঘোষণা দেয়া হয়। এ পুরস্কার অর্জনের ক্ষেত্রে তিনি দ্বিতীয় বাংলাদেশি ও প্রথম এশীয় নারী। ২০১২ সালে মর্যাদাপূর্ণ এ পুরস্কার পেয়েছেন ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান লতিফুর রহমান।

ব্যবসার মাধ্যমে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার স্বীকৃতির ক্ষেত্রে এটি সর্বোচ্চ পুরস্কার। বিশ্বের ব্যবসায়ী সমাজের কাছেও সম্মানজনক হিসেবে এ পুরস্কার স্বীকৃত। এবারের বিজনেস ফর পিস অ্যাওয়ার্ডের জন্য বিশ্বের ৫০টি দেশের ১২০ জন প্রার্থী ছিলেন। তাঁদের মধ্য থেকে বাংলাদেশের সেলিমা আহমাদ ছাড়াও এ সম্মান অর্জনকারী আরো পাঁচজন হচ্ছেন তিউনিসিয়ার ওয়াইদেদ বউচামুই, যুক্তরাজ্যের স্যার রিচার্ড ব্র্যানসন, নেপালের কেশা কুমারি দামিনি, লেবাননের আদনান কাসার এবং যুক্তরাষ্ট্রের মেরিলিন কার্লসন নেলসন।

এ অ্যাওয়ার্ড কাকে দেয়া হবে তা নির্ধারণ করে শান্তি এবং অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্তদের একটি কমিটি। ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি), ইউনাইটেড নেশনস গ্লোবাল কমপ্যাক্ট এবং অসলোভিত্তিক বিজনেস ফর পিস ফাউন্ডেশন যৌথভাবে তাঁদের খুঁজে বের করেছে। আগামী ১৫ মে নরওয়ের রাজধানী অসলোর সিটি হলে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হবে।

বিজনেস ফর পিস ফাউন্ডেশন জানায়, সেলিমা আহমাদ গাড়ি, সিমেন্ট, চিনি, রিয়েল এস্টেট ব্যবসাসহ আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত। তাঁর এ ব্যবসা শুধু আর্থিক সাফল্যই তৈরি করেনি, সামাজিক পরিবর্তনেও ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে দারিদ্র্যপীড়িত মুসলিম বাংলাদেশের নারীদের দুর্দশা তিনি গভীরভাবে উপলব্ধি করেছেন। এসব নারীকে দক্ষ ও মেধাবী উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি করতে তিনি ভূমিকা রেখেছেন। তিনি আর্থিক ও মার্কেটিং কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নারীদের ক্ষুদ্র গণ্ডি থেকে বেরিয়ে বড় পরিসরে ভাবার পথ দেখিয়েছেন। শিখিয়েছেন কিভাবে সব বাধা জয় করে এগিয়া যাওয়া যায়।

বিজনেস ফর পিস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান পার লিফ স্যাজেগার্ড বলেন, ‘এ সম্মান সেসব প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর জন্য, যাঁরা তাঁদের অর্জনের মাধ্যমে সমাজ ও ব্যবসার মধ্যে একটি গঠনমূলক সম্পর্কের সুফল প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, এ ধরনের গুণাবলি লালন করা অত্যন্ত কঠিন, যার মাধ্যমে সমাজের সংঘাতকে শান্তি ও স্থিতিশীলতার রূপান্তর করা যায়।’

বাংলাদেশের অন্যতম সেরা নারী উদ্যোক্তা হিসেবে দেশি ও আন্তর্জাতিক নানা স্বীকৃতি পেয়েছেন সেলিমা আহমাদ। তিনি বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (বিডাবি্লউসিসিআই) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ পুরস্কার সেলিমা আহমাদকে এক অনন্য ব্যবসায়িক ব্যক্তিত্বের মর্যাদা দিয়েছে। ২০১০ সালে ভারতের নিটোল টাটা গ্রুপের চেয়ারম্যান রতন টাটা এ পুরস্কার পেয়েছিলেন। ২০০৯ সালে এটি পেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেল ইলেকট্রিকের জেফারি আর ইমিল্ট।

২০০৭ সালে নরওয়ের অসলোয় বিজনেস ফর পিস ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৯ সাল থেকে সংস্থাটি পুরস্কার দিয়ে আসছে। এ পুরস্কার দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনটি মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়।

প্রথমত, যিনি বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে সমাজের সব মানুষের কাছে উদাহরণ হয়ে ওঠেন। একই সঙ্গে তিনি নৈতিক ও দায়িত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক চর্চায়ও সাফল্যের নজির স্থাপন করেন, যা ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে উৎসাহিত করে। দ্বিতীয়ত, নৈতিক ও নির্ভরযোগ্য ব্যবসায়িক চর্চায় তিনি একজন স্পষ্টভাষী সমর্থক এবং করপোরেট পরিচালনায় সামাজিক দায়বদ্ধতার ব্যাপারে একনিষ্ঠ। তৃতীয়ত, তিনি এমন একটি ব্যবসা দাঁড় করান, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সফল এবং নিজের সম্প্রদায়ের কাছে স্বীকৃত ও গ্রহণযোগ্য। যে ব্যবসা অর্থনৈতিক সুফল তৈরির মাধ্যমে সামাজিক সুফলও তৈরি করে।

অ্যাওয়ার্ড অর্জনের প্রতিক্রিয়ায় সেলিমা আহমাদ বলেন, ‘এ অর্জন শুধু আমার কাজের স্বীকৃতি নয়, বাংলাদেশের নারীরাও যে বাণিজ্যের মাধ্যমে সামাজিক উন্নয়নে মাধ্যমে ভূমিকা রাখতে পারে এটি তারই স্বীকৃতি।’ তিনি বলেন, ‘আমি নারীদের ক্ষুদ্র পরিসরে দেখতে চাই না। তাদের আরো বড় পরিসরে এগিয়ে আনতে হবে। আমি চাই, তাদের ক্ষমতায়ন হবে, সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং উদ্যোক্তা হিসেবে তারা ভূমিকা রাখবে। সামাজিক পরিবর্তনে এগিয়ে আসবে। সমাজে নারীর এমন একটি চিত্র তৈরির জন্যই আমি কাজ করে যাব।’

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close