আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
লাইফ স্টাইল

শেষ হচ্ছে আর একটি বঙ্গাব্দ

ওমেন আই:
বাংলা একাডেমি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, বছরের প্রথম পাঁচ মাস (বৈশাখ-ভাদ্র) গণনা করা হয় ৩১ দিনে। বাকি ৭ মাস ৩০ দিনের। সে হিসাবে বছরের শেষ মাস চৈত্র ৩০ দিনের। আজ এই চৈত্রের শেষ দিন। আজকের দিনের জ্বলজ্বলে সূর্যটি অস্ত যাবার মাধ্যমে শেষ হয়ে যাবে আর একটি দিনেরতো বটেই বরং আর একটি বঙ্গাব্দের।

সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বছরের এই শেষ দিনটি বেশ ঘটা করে পালন করে থাকে। এছাড়া সাধারণত এই বসন্তকালে বাসন্তী দেবী ও অন্নপূর্ণা দেবীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। হিন্দু পঞ্জিকামতে, দিনটিকে গণ্য করা হয় মহাবিষ্ণুর সংক্রান্তি নামে। হিন্দুরা এদিন পিতৃপুরুষদের স্মরণ করে থাকে, পুণ্যস্নানও করে থাকে।

সম্রাট আকবর নতুন করে বাংলা সালের প্রবর্তন করার পর জমিদারি উচ্ছেদ না হওয়া পর্যন্ত খাজনা আদায় আর ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে দিনটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ব্যবসায়ী সম্প্রদায় এ দিনে বর্ষ বিদায় উৎসব পালন করে। দোকানপাট ধুয়ে-মুছে বিগত বছরের যত জঞ্জাল, অশুচিতা দূর করা হয়। পরদিনঅর্থাৎ পরবর্তী বছরের শুরুর দিন খোলা হয় ব্যবসায়িক হিসাব-নিকাশের নতুন খাতা। সেই উৎসবটিকেই আমরা জানি হালখাতা নামে। পুরনো বছরের গ্রাহকদের কাছ থেকে বকেয়া টাকা তুলতে বছরের এই দিনটিকেই বেছে নেওয়া হয়। পুরনো বছরের হিসাব-নিকাশ ঘুচিয়ে ফেলে ক্রেতার সঙ্গে নতুন সম্পর্ক তৈরিতে মিষ্টিমুখ করিয়ে থাকেন।

চৈত্র সংক্রান্তির দিন আর একটি বিশেষ দিক হলো। এদিন মূলত বাড়িতে তেতো খাবারের আয়োজন করা হয়। করলা, নিমপাতা ভাজা, সবজি আর নানান রকম ভাজা দিয়ে সাজানো হয় খাবারের থালা। নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উৎযাপন করা হয় চৈত্রসংক্রান্তির পার্বণ। আর এই উৎসবের মধ্যে দিয়ে টের পাওয়া যায় যে দুয়ারে কড়া নাড়ছে বাঙালির সবচেয়ে বড় অসাম্প্রদায়িক উৎসব পহেলা বৈশাখ।

রাত পোহালেই যে নতুন সূর্যটি উঠবে সেটা কেবল একটি নতুন দিনের নয় বরং একটি নতুন বছরেরও। আর সেই দিনটিকে উৎযাপন করতে সকল বাঙালী সারাবছর পুরোপুরি উন্মুখ থাকে। সবাইকে আসছে বছরের অগ্রীম শুভেচ্ছা।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close