আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
সারাদেশস্লাইড

ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে সংসদে ক্ষোভ

ওমেনআই ডেস্ক : সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলে সুপ্রিমকোর্টের রায়ের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংসদ সদস্যরা। বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাত থেকে ফিরিয়ে নেওয়ার যে রায় দেওয়া হয়েছে তা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করে রায় পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে অ্যামিকাস কিউরিদের সমালোচনা করে তারা বলেন, জাতিকে তারা ভুল তথ্য দিয়েছে। অসত্য কথা বলেছে। এরা সুবিধাবাদী। অনেকে এ রায়কে গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেখছেন। এ সময় তারা রিভিউ করার মাধ্যমে ৯৬ ধারা পুনঃস্থাপনের দাবি জানান। মাগরিবের বিরতির পর গতকাল পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে আলোচনার সূত্রপাত করেন মঈনুদ্দিন খান বাদল। এ সময় অধিবেশন কক্ষে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বাদল বলেন, নিজের জীবনের একটি অংশ বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করছি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় সম্প্রতি এমন কিছু সিদ্ধান্ত দেখছি, যা অনভিজ্ঞ।
তিনি বলেন, বিচার বিভাগ ৯৬ ধারা বাতিল করেছেন, যা প্রকৃত সংবিধানে ছিল, সেটি কোথায়? সে বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য চাইব। আমার প্রশ্ন সংসদের কোনো আইন পাস হলে বিচার বিভাগ কী বাতিল করে দিতে পারে। বেসিক স্ট্রাকচার নষ্ট করতে পারে কিনা। বেসিক স্ট্রাকচারের বিষয়ে একমত হতে হবে। ’৭২ সালের সংবিধান অনুসারে ৯৬ ধারা পুনঃস্থাপন করেছিলাম। কিন্তু ওই ধারায় কোথায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হস্তক্ষেপ হয়েছে, সেটি বলতে হবে।
বাদল বলেন, আপনারা জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত, জিয়াউর রহমানের আমল ও ক্ষমতাগ্রহণকে অন্যায় অবৈধ ঘোষণা করেছেন। ওগুলো অবৈধ আর তার আমলে করা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল বৈধ হয়ে গেল? তিনি বলেন, ন্যাচারাল জাস্টিস বলে কথা আছে। আপনি আপনার নিজের বিচার নিজে করতে পারেন না। আপনি কি স্বয়ং ভগবান যে নিজেই নিজের বিচার করবেন?
জাতীয় পার্টির জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, একজন অ্যামিকাস কিউরি ১/১১ সময়ে কালো টাকা সাদা করেন। আজকে তিনি নীতির কথা বলেন। এই সংসদ নতুন কিছু করেনি, যা ছিল সেটিই পুনঃস্থাপন করা হয়েছে। পৃথিবীতে এমন কোনো দেশ নেই, যেখানে সংসদ থাকা সত্ত্বেও সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল রয়েছে।
বাবলু বলেন, প্রধান বিচারপতিসহ সুপ্রিমকোর্টের সব বিচারপতি সেনাশাসিত সরকারের সব সংশোধনকে বাতিল করেন। সেখানে কীভাবে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল থাকে। প্রধান বিচারপতি যদি কোনো অপরাধ করেন, তার বিচার অন্য বিচারপতিরা করবেন, এটি কী করে হয়। তাই আমরা ৭২ সংবিধান পুনঃস্থাপন করেছি মাত্র। এই রায় বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সব ক্ষেত্রে পাকিস্তান থেকে এগিয়ে। সুন্দরভাবে দেশ চলছে। সেই মুহূর্তে এই সংসদ যে ষোড়শ সংশোধনী করেছিলাম সেটি সুপ্রিমকোর্ট বাতিল করেছেন। এ ব্যাপারে আমার কিছু বলার নেই। তবে যারা এই বাতিলের পক্ষে ওকালতি করেছেন তাদের নিন্দা জানাবার ভাষা আমি খুঁজে পাই না। তারা দ্বিমুখী কাজ করেছেন। ’৭২-এ বলেছেন একরকম আর আজকে বলেছেন একরকম। যাদের বলা হয় সুবিধাবাদী।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, সুপ্রিমকোর্টের রায় নিয়ে কিছু বলতে চাই না। কিন্তু প্রশ্ন হলো সার্বভৌমত্ব নিয়ে। যারা অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে সুপ্রিমকোর্টে বক্তব্য রেখেছেন, তাদের বক্তব্য আমার কাছে আছে। তারা অসত্য কথা বলেছেন। ভুল তথ্য জাতিকে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। যেমন ড. কামাল হোসেন সাংবাদিকদের জিজ্ঞাসায় বলেছিলেন আমরা ভারতকে অনুসরণ করেছিলাম। এখন ভারতে এটি নেই। তার মতো একজন লোক এ অসত্য বলতে পারেন? ভারতের সংবিধানের ১২৪তম অনুচ্ছেদে পার্লামেন্ট উভয়কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমর্থনে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সুপ্রিমকোর্টের বিচারকদের অপসারণ করার পদ্ধতি বর্ণনা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমীর-উল ইসলাম বললেন কোথাও নেই। তিনি অত্যন্ত আপত্তিকর কথা বলেছেন। আমার খুব দুঃখ লাগে, এরা সংবিধান নিয়ে কথা বলেন, সংবিধান প্রণয়ন করেছেন। আজকে আমার বলতে দ্বিধা লাগে, তারা সুবিধাবাদী। ’৭২ (১৯৭২)-এর সংবিধানে করলেন একরকম আর এখন তার উল্টো বলতে গিয়ে নানা কথা বললেন।
সংবিধানের আর্টিক্যাল ৭০ দেখিয়ে ভুল তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, তারা নিজেদের নামের আগে বিজ্ঞ আইনজীবী বলেন, সংবিধানপ্রণেতা বলেন। আর্টিক্যাল ৭০ নিয়ে কথা বলেছেন। আমি অত্যন্ত দুঃখিত ও ব্যথিত। সব ক্ষমতার মালিক জনগণ। সেই জনগণের ভোটে নির্বাচিত এই সংসদ। আমাদের কেবিনেট সংসদের কাছে রেসপনসিবল।
এ ব্যাপারে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে আইনমন্ত্রীকে আহ্বান জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, মাননীয় আইনমন্ত্রীকে আমরা বলব এ ব্যাপারে বাস্তবসম্মত কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা আমাদের প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, এই সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে তারা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে কথা বলেছেন। সব ক্ষমতার উৎস জনগণ। সেই জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। আইপিইউ-সিপিএ এন চেয়ারম্যান এই সংসদের সদস্য। এখানে আমরা রাষ্ট্রপতিকে ইমপিচ করতে পারি, বাট তাদের করা যাবে না।
তিনি বলেন, অ্যামিকাস কিউরিরা ভুল তথ্য উপস্থাপন করেছেন। তারা বলেছেন বেশিরভাগ দেশেই এই পদ্ধতি নেই। তা হলে তার কাছে প্রশ্ন মালয়েশিয়া, শ্রীলংকাসহ অনেক দেশে নেই। পঞ্চম সংশোধনী বাতিল হলে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল থাকবে কীভাবে? তিনি বলেন, আদালত বাতিল করেছেন এ বিষয়ে কিছু বলা নেই। কিন্তু যারা সমর্থন করেছেন তাদের নিন্দা জানানোর ভাষা নেই। তারা সুবিধাবাদী। আপনি সংবিধান প্রণয়নের সময় বললেন, বেস্ট সংবিধান, বাট এখন কার বিরোধিতা করছেন। কারণ আপনারা সংসদ সদস্য হতে পারেননি।
কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, এ সংবিধান যারা রচনা করেছেন, তাদের বিষয়ে কী বলব। এই সেই ডক্টর কামাল, যার মেয়ের জামাই ইহুদি ডক্টর ডেভিড বার্গম্যান। এই দেশে যখন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বাধার পাহাড় সরিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছিলেন, ডেভিড বার্গম্যান তার বিরোধিতা করেছেন। ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে বছরের পর বছর এ দেশে থেকে যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ নিয়েছেন। আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালকে প্রভাবিত করতে আন্তর্জাতিক মহলে মিথ্যা মেসেজ দিয়েছেন। আমীর-উল ইসলামের সম্পর্কে কী বলব, তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় জনস্টন হাউসের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য তহবিল গঠন করেন। পরে কী দেখা গেল? ওই সংগঠন দুর্নীতিতে জড়ানোর কারণে তাদের বিচার হয়েছে যুক্তরাজ্যে। যেসব ব্যক্তির সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল, তাদের দুর্নীতির দায়ে বিচার হয়েছে। এতে বোঝা যায় তিনি কেমন, কাদের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব।
তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার (এসকে সিনহা) সম্পর্কে কী বলব, বিএনপি-জামায়াতের সময় যে বিচারপতি ছিলেন তার দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিচার করতে চাননি। অথচ ওই বিচারপতি জামায়াতের রুকন ছিলেন।
মতিয়া চৌধুরী বলেন, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়, সবাইকে কৈফিয়ত দিতে হবে। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল একটি চক্রান্ত। এই চক্রান্তকারীদের নিশ্চয়ই জনগণের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।
কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বর্তমান প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে ন্যায়বিচারে প্রতিবন্ধকতা ও বাধা সৃষ্টি অসদাচরণের অভিযোগ করে বলেন, মাত্র কয়েক মাস আগে প্রধান বিচারপতির নির্দেশে অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার অবৈধভাবে দুর্নীতি দমন কমিশনে আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির বিরুদ্ধে কোনো রকম তদন্ত না করতে হাস্যকর কারণের ওপর নির্ভর করে চিঠি দিয়েছেন। তাতে বলা হয়, যে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি দায়িত্ব পালনকালে মৃত্যুদ-সহ অনেক রায় দিয়েছেন। তদন্ত যদি করা হয় সেই বিচার্য বিষয় প্রশ্নবিদ্ধ হবে। এটি করার মাধ্যমে বিচারপতি সিনহা ন্যায়বিচারের প্রতিবন্ধকতা বা বাধা হিসেবে পরিচিত অপরাধগুলো করেছেন, যা দ-বিধির অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আর প্রধান বিচারপতি শুধু সুপ্রিমকোর্টের নাম ব্যবহার করেননি, তিনি সুপ্রিমকোর্টের প্যাড ব্যবহার করেছেন। যদিও এটি ছিল তার নিজস্ব সিদ্ধান্ত।
ড. কামাল হোসেন ও ব্যারিস্টার আমীর-উল হকের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর তার কন্যা শেখ রেহানা মুশতাক সরকারকে কোন দেশ যাতে সমর্থন না দেয় সে ব্যাপারে ড. কামাল হোসেনকে উদ্যোগ নিতে বলেন। কিন্তু ড. কামাল হোসেন তা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। তার ইহুদি জামাই যুদ্ধাপরাধী ট্রাইব্যুনালের বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় ব্যারিস্টার আমীর-উল হকের ভূমিকাও অনেকে জানেন। তিনি বলেন, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে সামরিক ফরমান দিয়ে জিয়াউর রহমান সুপ্রিমকোর্ট জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করেছিলেন। অনেক বিচারপতির বিরুদ্ধে প্রকাশ্য দেশবিরোধী কর্মকা-, দুর্নীতি ও ষড়যন্ত্রের প্রমাণ থাকলেও কোনোই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, এই সংবিধান বেস্ট সংবিধান। চিফ জাস্টিজ অন্যায় করতে পারেন, তার বিচার কে করবে? এই রায় অন্যায়।
তিনি বলেন, অ্যামিকাস কিউরিরা সুবিধাবাদীর মতো কথা বলেন। আমরা আইন করার আগেই সেটি অবৈধ, ঠিক করেনি। তারা ভুল করেছে। এটির রিভিউ করতে হবে।
শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, রক্তের বিনিময়ে এই সংবিধান। ১৯৭২ সালের সংবিধানে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ছিল না। সেখানে ছিল সংসদ করবে বিচারপতির বিচার। যদি তারা অন্যায় করে। অন্যায় না করলে কিসের ভয়। আমি জানতে চাই, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর থেকে আজ পর্যন্ত কতজন বিচারপতির বিচার করেছেন? একজনেরও না। বরং কারো বিরুদ্ধে তদন্ত করা হলে তা বন্ধ করে দিয়েছেন। আমার কাছে তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। একমাত্র জয়নুল আবেদিন তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ শুরু হলেও পরে তা বাতিল করা হয়।
তিনি বলেন, সংসদে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী কিংবা স্পিকারের বিচার করতে পারবে। কিন্তু বিচারপতিরা কি জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে? বিচারপতিদের নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। বিশ্বের মধ্যে ইংল্যান্ড ও ভারতসহ সব গণতান্ত্রিক দেশে বিচারপতিদের ইমপিচমেন্টের দায়িত্ব সংসদে। তা হলে কী কারণে আপনারা জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে থাকতে চান। বিচারপতিদের একটি সীমাদ্ধতার মধ্যে থাকতে হবে। আপনারা বিভিন্ন মিটিং-সেমিনারে গিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য রাখেন। আপনারা তো সেখানেই সংবিধান লঙ্ঘন করেন। কেন বক্তব্য দেন। কোন আশায়। সেই আশা বাংলাদেশে আর হবে না। যে কোনো অন্যায়ের বিচার বাংলার মাটিতে হবে। অ্যামিকাস কিউরিদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কিছু সুবিধাভোগী লোক সংসদের সঙ্গে বিচার বিভাগের মধ্যে বিরোধ লাগিয়ে যদি কোনো সুবিধা পাওয়া যায় সেই চিন্তায় আছেন। সেটি করে লাভ হবে না। বিচার বিভাগ স্বাধীন কতখানি স্বাধীন, পার্লমেন্টের থেকেও বড়।
সেলিম বলেন, অ্যামিকাস কিউরিরা হচ্ছেন সুবিধাভোগী। ড. কামাল হোসেন ও ব্যারিস্টার আমীর-উল হক মোনাফেক। তারা আইনের মারপ্যাঁচ লাগিয়ে সুবিধা নিতে চান। বিচার বিভাগ স্বাধীন কিন্তু কতটুকু। সেটি পার্লামেন্টের চেয়ে বেশি হতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, সংসদ যদি এই রায় গ্রহণ না করে তা হলে এই রায় কার্যকর হবে না। প্রধানমন্ত্রী এরা নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী শত্রুকে শত্রু মনে করতে হবে। ওই রায়ে ইমপিচমেন্ট বন্ধ হবে না। এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সংসদকে রুখে দাঁড়াতে হবে। ৩৫০ সংসদ সদস্যকে কাজ করতে হবে। বিচারপতিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা আর্টিক্যাল ৭ লঙ্ঘন করেছেন, আপনাদেরই রিভিউ করে এই রায় বাতিল করতে হবে।
এটি কোনো বৃহত্তর ষড়যন্ত্র কিনা সেটি বিবেচনায় আনার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনাই হচ্ছে আমাদের বাহাত্তরের মূল সংবিধান। এই সংবিধানকে অবজ্ঞা করার অধিকার কারো নেই। ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করলেন, কিন্তু সংবিধানের সঙ্গে কোথায় সাংঘর্ষিক তা আদালত স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। বরং আদালত রায়ের মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করেছেন। অ্যামিকাস কিউরি ড. কামাল হোসেনরা ঘন ঘন ভোল পাল্টান। ওয়ান-ইলেভেনের সময় মাইনাস টু ফর্মুলা তাদের সৃষ্টি। আইন বিভাগের সঙ্গে বিচার বিভাগের দ্বন্দ্ব সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে। আমরা আশা করব, সর্বোচ্চ আদালত রায়টি পুনর্বিবেচনা করবেন।
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল রাষ্ট্রের জন্য একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। এটি ভেবে দেখা দরকার। তিনি বলেন, আমি এখানে কাউকে ছোট করতে চাইছি না। কিন্তু স্বাধীনতার মূল চার স্তম্ভের প্রতি আমাদের সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। আপনি সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করবেন আবার তার মধ্য থেকে সুপ্রিম জুডিশিয়াল রেখে দেবেন তা হয় না। বাংলাদেশে আর অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতায় আসার উপায় নেই। তাই পাকিস্তানের সংবিধানের সঙ্গে আমাদের সংবিধানকে মেলালে চলবে না। রাষ্ট্রের সব গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভের প্রতি সবাইকে শ্রদ্ধা ও আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি সংসদের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান।
অধ্যাপক আলী আশরাফ বলেন, সংবিধানের বলা আছে কার কী কাজ। আপনি সংবিধানের প্রটেক্টর। দেশের মানুষ আজ সচেতন। বাংলাদেশ আজ এগিয়ে চলছে। মানুষের আশা আকাক্সক্ষার বিষয় বিবেচনা করে এই রায় রিভিউ করার আহ্বান জানান তিনি।
আলোচনা শেষে সভাপতির আসনে থাকা স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ষোড়শ সংবিধানের রায় নিয়ে অনেকে সংসদে কথা বলেছেন। মহামান্য আদালত যে রায় দিয়েছেন তা সংবিধান সম্পর্কিত। তাই অনেকেই পয়েন্ট অব অর্ডারের পরিবর্তে কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী এ বিষয়ে আলোচনা করার জন্য আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাই এ বিষয়ে পরবর্তী নির্ধারিত দিনে এ বিষয়ে আলোচনার সুযোগ থাকবে।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close