আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
জাতীয়

জবানবন্দি দিলেন আবু বকর সিদ্দিক

ওমেন আই :
অপহরণের ৩৫ ঘণ্টা পর গার্মেন্ট ব্যবসায়ী আবু বকর সিদ্দিক উদ্ধার হলেও তিনি তার জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শংকিত রয়েছেন। আজ শুক্রবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের একটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দীর পর সাংবাদিকদের এ শঙ্কার কথা বলেন। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার কলাবাগান এলাকা থেকে সিদ্দিককে উদ্ধার করা হয়। গত বুধবার দুপুর পৌনে ৩টায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার দেলপাড়া এলাকা থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

ফতুল্লার দাপা এলাকাতে অবস্থিত হামিদ ফ্যাশন লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক আবু বক্কর সিদ্দিক। এই প্রতিষ্ঠানটির মালিক বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। সিদ্দিক পরিবেশ আইনজীবিদের সংস্থা বেলার নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের স্বামী।

যেভাবে অপহরণ:

গত বুধবার দুপুর ২টা ২০ মিনিটে কারখানা থেকে বেরিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন আবু বক্কর সিদ্দিক। পৌনে ৩টার দিকে তাদের গাড়িটি ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের দেলপাড়া এলাকাতে ভূইয়া ফিলিং স্টেশনের সামনে আসলে অপর একটি গাড়ি পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। তখন ওই গাড়ি থেকে নেমে আসা দুর্বৃত্তরা অস্ত্রের মুখে আবু বক্কর সিদ্দিককে অপহরণ করে একটি নীল রঙয়ের গাড়িতে করে ঢাকার দিকে চলে যায়। এর পর থেকেই সে নিখোঁজ রয়েছে। এ ঘটনায় সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বাদী হয়ে অজ্ঞাত ৮জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পুলিশ ইতোমধ্যে নিশ্চিত হয়েছে যাত্রাবাড়িতে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার দিয়ে অপহরণ কাজে ব্যবহূত গাড়িটি অতিক্রম করেছে। তবে এর নাম্বার প্লেটটি ছিল ভুয়া।

নারায়ণগঞ্জে মেডিক্যাল চেকআপ ও জবানবন্দী:

বুধবার সকাল ১১টায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আনা হয় এবি সিদ্দিককে। নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের চিকিত্সক ডাক্তার ফরহাদ মেডিক্যাল চেকআপ করান। ডা. ফরহাদ জানান, এবি সিদ্দিকের স্বাস্থ্যের অবস্থা ভাল আছে। শুধুমাত্র তার রক্তচাপ বেশি।

দুপুর সাড়ে ১২টায় আবারো কঠোর নিরাপত্তায় এসপি অফিস লগোয়া নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট যাবিদ হোসেনের আদালতে নেওয়া হয় সিদ্দিককে। পরে সেখান থেকে নেওয়া হয় নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চাঁদনী রূপমের আদালতে। দুপুর ২টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত ওই আদালতে সিদ্দিকের জবানবন্দী গ্রহণ করা হয়।

বেঁচে থাকার আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন সিদ্দিক:

গার্মেন্ট ব্যবসায়ী আবু বকর সিদ্দিক এখনো তার নিজের জীবন নিয়ে শংকিত। তিনি বলেছেন, এখনো নিজেকে নিরাপদ বোধ করতে পারছি না। এখন থেকে পরিস্থিতি বুঝেই চলতে হবে। তবে আমি বেঁচে আসবো এটা ভাবতে পারি নাই।

জবানবন্দী শেষে এবি সিদ্দিক বলেন, ‘বুধবার দুপুরে ফতুল্লার হামিদ ফ্যাশন থেকে বের হওয়ার পর নিজের গাড়িতে করে ঢাকায় ফেরার পথে ফতুল্লার ভুঁইগড় এলাকায় একটি নীল রঙের হাই-এইস আমার গাড়িটিতে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। নেমে গাড়ির ক্ষতি হয়েছে কিনা তা দেখার সময় কয়েকজন ওই গাড়ি থেকে নেমে আমাকে জোর করে তাদের গাড়িতে তুলে নেয়। পরে হাত, পা, চোখ বেঁধে ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টা গাড়ি চলার পর একটি বাড়ির মেঝেতে আমাকে নিয়ে রাখা হয়। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে ওই বাড়ি থেকে বের করে এক থেকে দেড় ঘণ্টা গাড়িতে করে চলার পর আনসার ক্যাম্পের সামনে নামিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা।

নিজ কর্মস্থালে সিদ্দিক, অপহরণের ঘটনাস্থলও পরিদর্শন:

আদালতে জবানবন্দী দিয়ে বের হওয়ার পর সিদ্দিককে নিরাপত্তায় নেওয়া হয় ফতুল্লার দাপায় হামিদ ফ্যাশনে। তিনি এ কারখানার নির্বাহী পরিচালক। শুক্রবার দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে হামিদ ফ্যাশনে প্রবেশ করে শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে কথা বলেন সিদ্দিক। হামিদ ফ্যাশনের পরে তিনি আসেন ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডোর ফতুল্লার দেলপাড়া ভূইয়া পেট্রোল পাম্পের সামনে। বুধবার এ স্থান থেকেই তিনি অপহূত হয়েছিলেন।

পুলিশের অব্যাহত তত্পরতা ও মিডিয়ার ফলাও প্রচারের কারণে উদ্ধার : ব্রিফিংয়ে এসপি

আবু বকর সিদ্দিককে শুক্রবার সকাল ১১টায় এসপি অফিসে আনা হলেও তিনি কিংবা তার পরিবারের কেউ তাত্ক্ষনিক কোন মন্তব্য করেনি। তবে জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর থেকে আমরা নারায়ণগঞ্জ এবং ঢাকা মেট্রোপলেটিন পুলিশ, ডিবি, র্যাব একত্রে কাজ করেছি। আমরা কয়েকটি সূত্র ধরে তদন্ত কাজ চালিয়ে গেছি। প্রশাসনের অব্যাহত তত্পরতার এবং মিডিয়ায় সার্বক্ষনিক প্রচারের কারণে এবি সিদ্দিকের অপহরণকারীরা তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌছাতে পারেনি। তবে ঠিক কি কারণে তাকে অপরহরণ করা হয়েছিলো যে বিষয়টি ধোয়াঁশা রয়ে গেছে। এখানে অনেক প্রশ্ন রয়ে গেছে। ভিকটিম উদ্ধার হলেও অপহরণের যে অপরাধ তা রয়ে গেছে। অপরাধীদের গ্রেপ্তারে আমাদের তদন্ত অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close