আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
ক্যারিয়ার/জব সার্চ

আউটসোর্সিংয়ে সফল নারী

ওমেন আই :

আউটসোর্সিং পদ্ধতির মাধ্যমে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা প্রতিদিন প্রায় কোটি টাকা বিদেশ থেকে আয় করছেন। বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিংয়ে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। দেশের প্রযুক্তিপ্রিয় তরুণ-তরুণীরা ভালো ইংরেজি ও নানামুখী কাজ শিার মাধ্যমে মেধা ধৈর্যের সাথে কাজ করতে পারলে দেশে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠবে আউটসোর্সিং। চলতি বছরের বেসিস আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ড-প্রাপ্ত নারীদের নিয়ে আজকের আয়োজন।

সময়ের জনপ্রিয় পেশা ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং। অনলাইনে কাজের ত্রে হিসেবে বিবেচিত ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলো দেশের নিবন্ধিত দুই লাখের অধিক ফ্রিল্যান্সার রয়েছে। তবে সফলদের সংখ্যা অর্ধলাধিক। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী রয়েছে।
ফ্রিল্যান্সিং দেশের লাখো তরুণের জীবন বদলে দিয়েছে। নারীরাও ভিন্য ধারার কাজের েেত্র হিসেবে বেছে নিচ্ছেন ফ্রিল্যান্সিং পেশাকে। অনেকের জীবন বদলের মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে নতুন কাজের ত্রেটি। স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি পরিবারেও হাসি ফুটিয়েছেন তারা।
দেশের সফটওয়্যার রফতানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) গত ১৩ এপ্রিল বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ১০০ জন ফ্রিল্যান্সার ও আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করেছে। দেশে ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং পেশাকে উৎসাহিত করতে ২০১১ সাল থেকে প্রতি বছর আউটসোর্সিং পুরস্কার দিচ্ছে বেসিস। এবারের সেরা নারী ফ্রিল্যান্সাররা হলেন সুলতানা পারভীন, সায়মা মুহিব ও মাহফুজা সেলিম।
মাহফুজা সেলিম
ময়মনসিংহের মেয়ে মাহফুজা সেলিম। তিন বোনের মধ্যে তিনিই ছোট। পড়োশোনা ও কাজের খাতিরে গত আট বছর ধরে ঢাকাতেই আছেন বড় বোনের সাথে। বর্তমানে মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতকোত্তর শ্রেণীতে পড়ছেন।
আউটসোর্সিং পেশা শুরু করার আগে ২০১০ সালে গ্রাফিক ডিজাইনের ওপর একটি কোর্স করেন মিরপুরের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে। এরপর চাকরি খুঁজছিলেন। ২০১১ সালের প্রথমদিকে এক বন্ধুর কাছ থেকে শোনেন ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে। তার কথা শুনে বাসায় ইন্টারনেট সংযোগ নেন। ওই বছরে ওডেস্কে একটি অ্যাকাউন্ট খুলে কাজ শুরু করেন।
এরপর বান্ধবীর পরামর্শে ফ্রিল্যান্সিংয়ের কোর্সও করেছিলেন মাহফুজা। এরপর মনোযোগ দিয়ে নিষ্ঠার সাথে ওডেস্কে কাজ করছেন। ধীরে ধীরে কাজের গতি বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি মাসে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা আয় করেন। মাহফুজা শুধু টাকা আয়ের জন্য আউটসোর্সিং করেন না। কারণ তিনি মনে করেন, বাইরের বায়ারদের সাথে তার পরিচিতির সঙ্গে বাংলাদেশের পতাকা বহিবিশ্বে নতুন স্থান করে নিবে।
মাহফুজা সেলিম কাজ করছেন গ্রাফিক্স ডিজাইন নিয়ে। ‘চিলড্রেনস’ বুক ইলাস্ট্রেশনের কাজ বেশি করেন। মূলত শিশুতোষ গল্পগুলোকে চিত্রে রূপ দেন তিনি।
বর্তমানে রেসিপি, বুক রিভিউ, রিজিউম, কাভার লেটার ও লিংকডইনের কাজ করেন ও ভালো সাড়া পান।
আগামীতে আউটসোর্সিং পেশাকে আরো ছড়িয়ে দিতে প্রশিণ ইনস্টিটিউট দিতে চান মাহফুজা।
সুলতানা পারভীন
চট্টগ্রামের মেয়ে সুলতানা পারভীন। সাত ভাইবোনের মধ্যে তিনি পঞ্চম। উচ্চমাধ্যমিকের পর বিয়ে হয় নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তার সাথে। রাষ্ট্র বিজ্ঞানে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করার পর ভাবলেন নিজে কিছু করবেন। শুরুতে ২০১২ সালের মাঝামাঝি সময়ে দুই দিনের একটি সেমিনারে অংশ নেন। সেখান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে চট্টগ্রামের বিকন আইটি নামের একটি প্রতিষ্ঠানে আউটসোর্সিংয়ের ওপর প্রশিণ নেন।
প্রশিণ চলাকালে ওডেস্কে অ্যাকাউন্ট খুলে কাজ শুরু করেন। প্রথমে পাঁচ ডলারের একটি প্রজেক্ট পান ইয়াহু অ্যান্সারের। তখন দেখলেন আউটসোর্সিংয়ে নিজের পছন্দের বিষয়ে কাজ করার অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। তাই লেখালেখির বিষয়ে আবারো মনোযোগ দেন।
তিনি মনে করেন তার এখনো শেখার অনেক বাকি আছে। তাই নিজেকে আরো ভালোভাবে তৈরি করতে চান তিনি। শুধু টাকার জন্য নয়, শেখার জন্যও কাজ করছেন তিনি। আগামীতে নিজস্ব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে লেখালেখি (কনটেন্ট রাইটিং) সেবা দিতে চান সুলতানা পারভীন। এ ছাড়া নিজস্ব একটি রেসিপি সাইট করার পরিকল্পনাও রয়েছে তার।
সুলতানা মনে করেন, আউটসোর্সিংয়ে পুরুষদের চেয়ে নারীদের সম্ভাবনাই বেশি। ঘর, বাচ্চা-কাচ্চা সামলে ঘরে বসেই এই কাজটি করা যায়। এই কাজে ধরাবাঁধা কোনো সময় নেই বলে ইচ্ছেমতো করা যায়। নতুনরা আউটিসোর্সিংয়ে আসতে চাইলে সবার আগে ভালো ইংরেজি জানা দরকার। এরপর যে যে কাজে আগ্রহী সেই কাজটি ভালোভাবে জেনে তারপর কাজ শুরু করা ভালো। আউটসোর্সিং উন্নতি করতে যথেষ্ট ধৈর্য থাকতে হবে। আর সবচেয়ে যে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত সেটা হলো সময়ানুবার্তিতা।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্বন্ধে জানতে চাইলে সুলতানা পারভিন বলেন, ‘আমার নিজের নামে একটি সাইট খুলতে চাই। মূলত আমার কাজগুলো এখান থেকেই সম্পন্ন হবে। এ ছাড়া নতুন যারা ওয়েব ডেভেলপিংয়ে আগ্রহী তাদের জন্য প্রশিণ কেন্দ্র দেয়ার ইচ্ছা আছে। পাশাপাশি নারীদের আউটসোর্সিংয়ে আগ্রহী করে তোলার চেষ্টা করব।
সায়মা মুহিব
ঢাকা সিটি কলেজ থেকে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনকারী সায়মা মুহিব তিন ভাইবোনের মধ্যে সবার বড়। ২০১১ সালে কলেজে পড়াকালীন ইন্টারনেটে ইউটিউব ভিডিও এবং আর্টিকেল পড়ে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন, ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট কাজ শেখেন। ওডেস্কে প্রোফাইল খুলে শুরু করেন সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের কাজ। বর্তমানে ওয়েব ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্টের কাজও করেন। ওডেস্কে সর্বোচ্চ পাঁচ রেটিংয়ে প্রোফাইল থাকা সায়মা মুহিব বর্তমানে দিনে ১৫-১৬ ঘণ্টা কাজ করেন। এখন সায়েমার প্রতি মাসে আয় এক লাখ টাকার বেশি। তিনি বলেন, ‘আউটসোর্সিং বিষয়টি ধৈর্যের। নারীরা বাইরে চাকরি করার চেয়ে ঘরে বসে আউটসোর্সিং করতে পারেন। এতে নির্দিষ্ট সময় বা অফিস করার প্রয়োজন না থাকায় নারীরা অনায়াসে ঘরে বসে ফ্রিল্যান্সিং করতে পারেন।
সায়মা মুহিবের স্বামী মহিউদ্দিন মুহিবও আউটসোর্সিং পেশায় আছেন। গত বছর তিনিও বেসিস আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ড পান।
আউটসোসিং পেশায় আসার পিছনে কে অনুপ্রেরনা দিয়েছে জানতে চাইলে সাংমা জানান, মূলত স্বামীর অনুপ্রেরণাতেই অনেকাংশে এগিয়ে গেছি আমি। বর্তমানে সংসারের পাশাপাশি সায়মা মুহিবের ফ্রিল্যান্সিং দুনিয়ায় কাজের ক্ষেত্র প্রসারিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। বর্তমানে মাসে দেড় লাখের অধিক আয় করেন তিনি। সায়মা মনে করেন, ফ্রিল্যান্সার ছাড়া ডিজিটাল বাংলাদেশ অসম্পূর্ন। আগামীতে দ ফ্রিল্যান্সার তৈরিতে কাজ করতে আগ্রহি সাংমা মুহিব।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close