আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
আপন ভুবন

‘শিশু আইন’ থেকে বঞ্চিত সুমি

sumi-oiওমেন আই : পুলিশ দম্পতি হত্যা মামলার আসামি গৃহকর্মী খাদিজা খাতুন সুমি। বয়স তার ১১। শিশু হলেও ‘শিশু আইন’ থেকে বঞ্চিত রয়েছেন তিনি। এমনই দাবি করেন আসামি সুমির আইনজীবী সৈয়দ নাজমুল হুদা।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সরকার শিশুদের জন্য যে আইন তৈরি করেছেন তার একটিও সুমির উপর প্রযোজ্য হয়নি। এমনকি দেশের সর্বোচ্চ আদালতও সুমিকে শিশু আইনের অধিকার দেয়নি।”

তিনি আরো বলেন, “শিশু আইনে বলা আছে, কোনো মামলায় শিশুকে আদালতে হাজির করা যাবে না। জামিনের ক্ষেত্রে শিশু সবচেয়ে অগ্রাধিকার পাবেন। এছাড়া কোনো শিশু হতে জবানবন্দি নিতে হলে তাকে অবশ্যই ঘরোয়া পরিবেশে তার পিতা-মাতার সামনে বা আইনগত অভিভাবকের সামনে এবং প্রবিশন অফিসারের সামনে (সমাজ সেবা অফিসার) রেখে তাদের উপস্থিতিতে জবানবন্দি নিতে হবে।”

কিন্তু সুমির ক্ষেত্রে এর কোনোটিই প্রযোজ্য হয়নি বলে দাবি করেন আইনজীবী নাজমুল হুদা।

তিনি জানান, প্রায় ৯ মাস ধরে বিনা বিচারে সুমি সংশোধন কারাগারে আটক রয়েছেন। কারাগারে মানবেতর জীবন যাপন করছে সে। কাজের মেয়ের মতোই নাকি তাকে রাখা হচ্ছে। করতে হচ্ছে ঘর মোছা থেকে সকল কাজ। আর এতে তার মানসিক অবস্থারও অবনতি হয়েছে।

আইনজীবী আরো জানান, আগামী ৬ মে এ মামলায় ঢাকার মহানগর দায়রা জজ মো. জহুরুল হকের আদালতে চার্জ শুনানির জন্য দিন ধার্য রয়েছে। ওই দিন সুমির জামিন চাইবেন তিনি।

তিনি বলেন, “সুমি এ মামলায় সম্পূর্ণ পরিস্থিতির শিকার। যেখানে এ মামলায় সুমি সাক্ষী হতে পারতো সেখানে তাকে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হচ্ছে।”

এদিকে গত ৯ মার্চ এ মামলায় ডিবির ইন্সপেক্টর মোঃ আবুয়াল খায়ের মাতব্বুর মেয়ে ঐশীসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

অন্য আসামিরা হলেন-ঐশীর বন্ধু আসাদুজ্জামান জনি (২৭), মিজানুর রহমান রনি (২৫)।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, আসামি ঐশী রহমান অত্যন্ত কৌশলী ও সুচতুর মেয়ে ছিলেন। পরিবারের প্রথম সন্তান হওয়ায় তিনি বাবা-মা ও আত্মীয় স্বজনদের অত্যন্ত আদরের ছিলেন। এ কারণে নিজের ইচ্ছামতো চলতেন। আসামি আসাদুজ্জামান জনি এবং মিজানুর রহমান রনির মতো উচ্ছৃঙ্খল বন্ধুদের সঙ্গে মিশে পরিবারের বাইরের পরিবেশের প্রতি মোহগ্রস্থ হয়ে পড়ে ঐশী। ফলে তিনি নিজ পরিবারের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। যে কারণে বাবা-মার শাসন তার প্রতি অমানবিক আচরণ হিসেবে সে ভাবতেন। তার বন্ধু জনি কর্তৃক সে দুবাইয়ে ড্যান্স করার প্রস্তাব পায়। সে দুবাই যাওয়ার জন্য বাবা মাহফুজুর রহমানের কাছে ৩০ হাজার টাকা চায়। বাবা টাকা দিতে পারবে না জানিয়ে দুবাই যেতে নিষেধ করলে সে ঘটনার এক মাস আগে চামিলীবাগের বাসা থেকে বনশ্রীতে বন্ধু জনির সহায়তায় ১৫ দিন সাবলেট ছিল। ওই সময়ই সে বন্ধু জনিকে নিয়ে বাবা-মাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

অভিযোগপত্রে আরো বলা হয়, ঐশী সুচতুর ও সুকৌশলী হওয়ার কারণে বাবা-মাকে হত্যার পর সে নিজের মোবাইল ফোন ব্যবহার না করে মা স্বপ্না রহমানের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে কৌশলের আশ্রয় নিয়ে মিথ্যা কথা বলে বাসা থেকে মালামালসহ পালিয়ে যায়। যে ড্যাগার জাতীয় ছোরা দিয়ে বাবা-মাকে হত্যা করেছিল এবং যে কাপে ঘুমের ওষুধ মিশ্রিত তাদের চা পান করিয়েছিল তা ধীরস্থির ভাবে ধোয় এবং তাতে থাকা নিজের হাতের ছাপ নষ্ট করে।

ঐশীর ভাই ঐহী রহমান যাতে ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী না হতে পারে সেজন্য সে মা-বাবাকে হত্যার সময় ভাই ঐহী রহমানকে বাথরুমে আটকে রাখে। হত্যার পর ভাই ঐহীকে বাথরুম থেকে বের করে। খুনের ঘটনা ঘটিয়ে কোনো প্রকার অনুশোচনা না করে অভিজ্ঞ খুনির মতো সে মায়ের হাতের চুড়ি ও আংটি খুলে নেয়। এসব আচরণ তার শক্ত মানসিকতাই প্রমাণ করে।

হত্যার পরিকল্পনা করার পর ৬ পাতা ঘুমের ওষুধ সবার অজ্ঞাতে সংগ্রহ করে ঐশী এবং এসব ঘুমের ওষুধ খাইয়ে বাবা-মাকে খুন করে।

এছাড়া আসামি সুমির বিরুদ্ধে বলা হয়, তার সামনে কফিতে ঘুমের ওষুধ মেশানোর পরও তা মাহফুজুর ও স্বপ্না রহমানকে না জানানো কিংবা ঘটনার সময় চিৎকার না দেয়া এবং লাশ গোপনে সহায়তার করেছেন সুমি।

সুমির বাড়ি রাঙ্গামাটি জেলার সদর থানার নতুন বাজার গ্রামে। জন্মের পর তার বাবাকে বাবা বলে ডাকার সৌভাগ্য হয়নি। তার মায়ের সাথে বাবার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। পরে মা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সৎ বাবার নাম নুরু মিয়া। পেশায় একজন জেলে (মৎসজীবী)। সৎ বাবার সাথে টিকতে না পেরে ঢাকায় গৃহকর্মীর কাজ করতে আসে সুমি।

ঢাকা ২ মে (ওমেন আই) // এল এইচ //

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close