আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
উদ্যোক্তা

রত্মার সাফল্য

rotna-boiragi-intro-311x186ওমেন আই: মংলার চিলা ইউনিয়নের এক হতদরিদ্র পরিবারের জন্মেছিলেন রত্না বৈরাগী।
পরিবারের চার ভাই বোনের মধ্যে সকলের ছোট রত্মা। অভাব অনটনের কারণে অল্প বয়সেই একই এলাকার দিনমজুর রবার্ট সরদারের সাথে বিয়ে হয় তার। এক সন্তান জন্মানোর পর সংসার ভাঙ্গে ওই অভাবের কারণেই।
এরপর স্বামীর সংসার ছেড়ে রত্না চলে আসে বাবার বাড়ি। শুরু হয় জীবন যুদ্ধ। কাজের খোঁজে রাস্তায় নামে রত্মা। অন্যের বাড়িতে কাজ করে। কখনো রাস্তায় মাটি কেটে দিন চলাতো।
এরপর সিডরের সর্বনাশা থাবায় আবারো ঘরহারা হয় রত্না। তছনছ হয় মাথা গোঁজার একমাত্র ছনের ঘরটিও।

খোলা আকাশের নিচে অসহায় রত্নার চোখে অন্ধকার নেমে আসে। তবে তখনও ভেঙ্গে পড়েননি তিনি। এসময় রত্নার পাশে দাঁড়ায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা মুসলিম এইড- ইউকে।
সংস্থাটির ইআর প্রকল্পের মাধ্যমে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, খাদ্য ও পুষ্টি বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ পায় রত্না। এখান থেকেই রত্মার জীবনের মোড় ঘোড়ে। প্রাপ্ত প্রশিক্ষণ থেকে বর্তমানে রত্মা তার বাবার বাড়িতে হাঁস মুরগীর খামার করেছেন।
পাশাপাশি এবছর বাবার পরিত্যাক্ত জমিতে ছেলেকে নিয়ে শাক-সবজি চাষ করে পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাড়তি আয় করছেন। স্বপ্ন দেখছেন আরো বড় কিছু করার।

রত্মার জীবনের অভাব নামক শব্দটি এখন যাদুঘরে। এখানেই রত্মা থেমে থাকেনি। নিজের স্বাবলম্বী হওয়ার অভিজ্ঞতা বিলিয়ে দিচ্ছেন প্রতিবেশীদেরও। তার পরামর্শে অনেকেই স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন। পুরো ইউনিয়নে ছড়িয়ে পড়েছে রত্মার সুনাম।
রত্মা বলেন, “বাংলাদেশের অবেহেলিত মেয়েরা একটু সাহস করলেই আর পরনির্ভরশীল হয়ে থাকতে হবে না। কেউ অবলা বলে তাদেরকে গালিও দেবে না।”

ঢাকা ৪ মে (ওমেন আই) // এল এইচ //

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close