আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
ফেসবুক থেকে

আন্দোলন ও নারী

21ওমেন আই: আমাদের জাতিগত পরিচয়ের পেছনে যে উজ্বল এবং অহংকারী ইতিহাস আমরা বহন করি, তার প্রতিটি ধাপেই আছে কত জানা অজানা নারীর ভুমিকা। তাদের কাউকে আমরা চিনি, আবার কেউ কেউ নিজেকে আড়াল করে রেখেই চলে গেছেন পৃথিবী ছেড়ে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি মেয়ে জন্ম নিলেই তার পরিবার মেয়েটির চার পাশে একটি অদৃশ্য বেড়া তৈরী করে দেন। মেয়েটি তার দৈহাক বৃদ্ধির সাথে সাথে একরাশ ভয় আর অনিশ্চয়তা নিয়ে বড় হতে থাকে। আমাদের দেশে রাত ১০টার পর কোনও মেয়েকে একা দেখলে মানুষ ২বার ফিরে তাকায়। বাড়ি ফিরতে দেরি হলে মেয়ের পরিবার অশংকায় কেঁপে উঠে। ঠিক এমন একটি দেশের নারী সমাজ দেশের জন্য যখন আন্দোলন করে তখন আমাদের মাথায় রাখতে হবে, তারা আরেকটি আন্দলনও করে গোপনে। সেটি হলো তার পরিবার এবং এই সমাজের সাথে। সমাজ বা পরিবার খুব সহজেই একজন নারীকে রাস্তায় মিছিলে দেখতে চায় না। আর তাই আমার মতে আমাদের জাতীগত আন্দলনের সাথে যে সব নারীরা জরিয়ে আছেন তাদের স্মরন করা উচিৎ। হ্যা আমি তাদের কথাই বলতে চাই। আর আমার সম্বল হলো নেট, কিছু বই, এবং মহামান্য ইতিহাস ( যে কিনা সরকারের সাথে সাথে পরিবর্তনশীল)
৫২’র ভাষা আন্দোলনে স্বাধিকার আদায়ের লক্ষ্যে জীবন বাজি রেখে বাঙালি নারীরা এগিয়ে এসেছিলেন। জীবনের মায়া ত্যাগ করে গোপন মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করতেন। ‘৫২-এর ভাষা আন্দোলনে যারা সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন তাদের মধ্যে ডা. হালিমা খাতুন, রওশন আরা বাচ্চু, রওশন আরা রেণু, সুফিয়া আহমেদ, তৈফুর, সুফিয়া খান, ড. শরীফা খাতুন প্রমুখ উল্লেখযোগ্য। এসব নারী ‘৫২-তে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার আদায় করেছিলেন। ৫২’র ভাষা আন্দোলন শুধু ভাষার জন্যই যে সংগ্রাম হয়েছিল তা নয়। বিভাগোত্তর কালে প্রতিক্রিয়াশীল শাসন ব্যবস্থার ফলে বাঙালির জাতীয়তা, সংস্কৃতি ও জীবন ধারার উপরে যে আঘাত এসেছিল তারই বিরুদ্ধে ৫২’র আন্দোলন জনগণের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করে।
১৯৫৪ সালের যুক্ত ফ্রন্টের নারী প্রার্থী হিসেবে নূরজাহান মোর্শেদ, দৌলতুন্নেসা খাতুন, বদরুন্নেসা খাতুন, বদরুন্নেসা আহমদ, আমেনা বেগম, সেলিনা বানু, রাজিয়া বানু, তফতুন্নেসা আহমদ, মেহেরুন নেসা খাতুন এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৩ জন নারী সদস্য আইন পরিষদে নির্বাচিত হন। সে সময় প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন নেলীসেন গুপ্তা। এই বিজয়ে নারীদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয় এবং নারীরা তখন রাজনৈতিক কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত হতে থাকে।
১৯৫৪ সালের নভেম্বরে আইন পরিষদের নির্বাচনে সদস্য নূরজাহান রাজিয়া বানু ও বেগম দৌলতুন্নেসাকে প্রাদেশিক সরকার পার্লামেন্টারি সেক্রেটারি করা হয়।

১৯৬৯ সালে সামরিক আইনবিরোধী আন্দোলন চরম আকার ধারণ করলে ১৯ জানুয়ারি আন্দোলনকারী ছাত্রীদের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ করে। সে বছর ২০ জানুয়ারি আসাদ শহীদ হওয়ার পর, এর প্রতিবাদে ও বিক্ষোভ মিছিলে নারীরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ২৪ জানুয়ারি হরতাল পালনের সময় ছাত্রী তরু আহমেদ কালো পতাকা হাতে পুলিশের বেষ্টনী ভেঙে এগিয়ে গেলে তার পেছনে হাজার হাজার নারী-পুরুষ পল্টন ময়দানের দিকে এগিয়ে যান। ৭ ফেব্রুয়ারি বেগম সুফিয়া কামালের নেতৃত্বে মহিলা সংগ্রাম পরিষদ শোক মিছিল বের করেন।
১৯৬৯-এ সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলনের পরই আসে বাঙালির এই মুক্তিযুদ্ধ। বাঙালির মুক্তিযুদ্ধে দলে দলে নারীরা অংশগ্রহণ করেন। যুদ্ধের সময় নারী মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে গঠিত হয় গোবরা ক্যাম্প। এটি পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের এমপি সাজেদা চৌধুরী। তাকে সহযোগিতা করেন কৃষ্ণা রহমান ও ফজিলাতুন নেসা। ওই ক্যাম্পে প্রায় চার শ’ নারী মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে বাংলাদেশের ছাত্র ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ছাত্রীদের নিয়ে সশস্ত্র ব্রিগেড গড়ে তোলে। রোকেয়া খানম এই ব্রিগেডের কমান্ডার ছিলেন এবং ডেপুটি কমান্ডার ছিলেন কাজী রোকেয়া সুলতানা রাকা। যুদ্ধকালীন রাজনৈতিক যোগাযোগ রক্ষা করেছেন বেগম মতিয়া চৌধুরী ও মালেকা বেগম। অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছেন শিরিন বানু মিতিলসহ আরও অনেক বাঙালি নারী। সাড়ে ৪ লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে ৩০ লাখ শহীদের রক্তে গড়া এই বাংলাদেশ। এদেশের নারী রাজনৈতিক ইতিহাসের ঐতিহাসিক ঘটনাবলী এখানেই সমাপ্ত নয়।
গণঅভ্যুত্থানে ইডেন কলেজ থেকে যে মিছিল বের হয়েছিলো তা ছিলো সে দিনে সবচেয়ে জোড়ালো মিছিল। মার মুখি ছিল সে মিছিরের গতি।সেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া ও শামসুন্নাহার হলের ছাত্রীরাই প্রথম কার্ফ্যু ভেঙে মিছিল করেন। সে সময় হাজার হাজার মানুষ তাতে যোগ দিয়েছিল। ১৯৪৭ থেকে এই পর্যন্ত নারী রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীরা বহুবার জেল খেটেছেন। আবার জেল থেকে বেরিয়ে মাঠে নেমেছেন বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনায়। রাজনৈতিক অঙ্গনে কাজ করতে এসে কোন বাধাই তাদের আটকে রাখতে পারেনি। পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও সমানতালে এগিয়ে গেছেন।
৯০’র গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের দু’টি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে ছিল দুই নারী। আজকের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপি প্রধাণ বেগম খালেদা জিয়া।

আফসানা আদনান

ঢাকা ৬ মে (ওমেন আই) // এল এইচ //

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close