আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
জাতীয়

নজরুলের সন্তানদের নিরাপত্তা দেবে কে?

image_89869_0ওমেন অাই: গডফাদার নূর হোসেনের দেয়া ৬ কোটি টাকার বিনিময়ে র‌্যাব-১১ এর সিওসহ অন্যরা ৭ জনকে হত্যা করেছে এমন অভিযোগ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নিহত নজরুল ইসলামের পরিবারের। তবে অভিযোগ করার পর থেকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন নজরুলের পরিবারের সদস্যরা। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকবার নজরুলের শ্বশুর শহীদুল ইসলামকে হুমকিও দেয়া হয়েছে বলে তিনি পুলিশ সুপারকে অবহিত করেছেন।

এদিকে আতঙ্কে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে হত্যাকাণ্ডের শিকার নজরুল ইসলামের ছেলে-মেয়েরা। তাদের ধারণা স্কুলে গেলে অপহরণ করে নিয়ে তাদেরকেও খুন করা হবে।

মঙ্গলবার দুপুরে নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম ও তার বাবা (নজরুলের শ্বশুর) শহীদুল ইসলাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে র‌্যাবের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে ওই অভিযোগে কী লেখা হয়েছে তদন্তের স্বার্থে তা এখন সাংবাদিকদের বলতে নারাজ নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম।

পুলিশ সুপার ড. মহিদ উদ্দিনের কাছে অভিযোগ জমা দেয়ার পর সেলিনা ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘এবো বড় একটা ঘটনা প্রশাসনের লোকজন জড়িত না থাকলে নূর হোসেন ও তার সহযোগীদের পক্ষে ঘটানো সম্ভব নয়। নূর হোসেন ও তার সহযোগীরা গ্রেপ্তার না হলে সিদ্ধিরগঞ্জে কেউ নিরাপদ নয়। নতুন পুলিশ সুপার আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন দ্রুত খুনীদের গ্রেপ্তার করার চেষ্টা করছেন। সম্প্রতি নজরুল ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে যে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছিল তারও ব্যবস্থা নেবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘স্বামীর লাশ পাওয়ার পর দুইদিন হুমকি এসেছিল। তবে এখন হুমকি না এলেও চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। ছেলেমেয়েদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি। মামলার সুরহা না হওয়া পর্যন্ত ওদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছি।’ তিনি নজরুল হত্যাকাণ্ড নিয়ে রাজনীতি না করার জন্য রাজনীতিকদের প্রতি আহ্বান জানান।

এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন নিহত নজরুলের শ্বশুর সাবেক চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম, ভাই আব্দুস সালাম, শ্যালক সাইদুল ইসলাম এবং সম্প্রতি নূর হোসেনের চাচাতো ভাই মোবারকের দায়েরকৃত মিথ্যা মামলার আসামিরা।

সন্ধ্যায় সরেজমিনে সিদ্ধিরগঞ্জে মিজমিজি এলাকায় নজরুলের বাড়িতে গেলে সেলিনা ইসলাম জানান, স্বামীর হত্যাকারীদের বিচার চাওয়ার পর থেকে তার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। তার তিন ছেলে-মেয়ে। বড় ছেলে তরিকুল ইসলাম নাঈম (২১) পড়লেখা করেন পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার মিশনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। দ্বিতীয় ছেলে ফাহিম (১৪) পড়ে ঢাকার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণীতে। আর সবার ছোট মেয়ে তানহা পড়ে ঢাকার ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে পঞ্চম শ্রেণীতে।

সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সেলিনা ইসলাম বলেন, ‘স্বামীকে হারিয়েছি। এখন এই সন্তানদের বুকে জড়িয়ে আমাকে বেঁচে থাকতে হবে। কিন্তু নিরাপত্তার অভাবে আমি সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে পারছি না। বড় ছেলে নাঈমের কলকাতার স্কুল খুলে গেছে। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে সন্তোষজনক নিরাপত্তা না পাওয়ায় এখনো তাকে স্কুলে পাঠাতে পারছি না। আমি সরকারের কাছে আবেদন করছি যাতে করে আমার সন্তানদের নিরাপত্তা প্রদান করা হয় এবং তাদের পড়ালেখা চালিয়ে যেতে সব ধরনের সহযোগিতা করেন।’

নিহত নজরুলের তিন সন্তান তরিকুল ইসলাম নাঈম, ফাহিম, তানহা বাংলামেইলকে বলে, আমরা আর পড়ালেখা করতে চাই না। আমরা স্কুলে গেলে আব্বুর মতো আমাদেরকেও অপহরণ করে নিয়ে মেরে ফেলবে।

এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন বলেন, ‘মামলাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। আমরা তদন্তে বেশকিছু দূর এগিয়েছি তবে তা যথেষ্ট নয়। যতদূর এগিয়েছে তার আলোকে গন্তব্যে পৌঁছতে সময় লাগবে। বর্তমানে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে আমরা এগুচ্ছি।’

র‌্যাবের বিরুদ্ধে তদন্তের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘র‌্যাবের বিরুদ্ধে তদন্ত করা আমাদের কাজ নয়, মামলার তদন্ত করা আমাদের কাজ। র‌্যাবের বিরুদ্ধে তদন্ত করার বিষয়ে আমরা কোনো ইনস্ট্রাকশন পাইনি।’

নজরুলের শ্বশুরের করা নূর হোসেন ও তার সহযোগিদের ১১টি অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার লাইসেন্সগুলো বাতিল করেন জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান মিয়া। এরপর মঙ্গলবার থেকে নূর হোসেন ও তার বাহিনীর অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ ৪টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি আবদুল মতিন জানান, ইতোমধ্যেই লাইসেন্স বাতিলকৃত ৪টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জের বাতেনপাড়া এলাকায় নূরউদ্দিনের বাড়ি থেকে একটি, নূর হোসেনের সহযোগী জামালউদ্দিনের বাড়ি থেকে ১টি ও আরিফুল হক হাসানের বাড়ি থেকে দু’টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

অপরদিকে র‌্যাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার পর নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের শ্বশুর শহীদুল ইসলামকে মেসেজের মাধ্যমে হুমকি দেয়া হয়েছে। তবে এ হুমকিটি কোনো মোবাইল নম্বর থেকে নয় অনলাইন থেকে পাঠানো। শহীদুল ইসলাম জানান, হুমকির মেসেজ কোনো মোবাইল নম্বর নয়, অনলাইন থেকে পাঠানো হচ্ছে। নৃশংস সাত খুনের ঘটনায় র‌্যাব জড়িত থাকার তথ্য প্রকাশের পর থেকেই এ হুমকি দেয়া হচ্ছে।

সেই সঙ্গে এ ঘটনা নিয়ে আর কোনো আন্দোলন না করতে কিংবা বেশি কথা না বলতে সতর্ক করে দিয়ে ওই মেসেজ বলা হয়, ‘বেশি বাড়াবাড়ি করলে পরিবারের আরো অনেককে হারাতে হবে।’

জেলা পুলিশ সুপার ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘সকলকে নিরাপত্তা দেয়া আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। বিশেষ করে কোনো চাঞ্চল্যকর মামলার বাদিদের ক্ষেত্রে সেটা আরো কঠোর। হুমকি দেয়ার অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

ঢাকা ৭ মে (ওমেন আই)//এলএইচ//

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close