আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
অর্থনীতি

নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা বাড়ছে না

imagesওমেন অাই: স্বল্প ব্যাংক ঋণ, ঋণের টাকা পাওয়ায় বিলম্ব ও জামানত জটিলতাসহ নানা সমস্যার কারণে দেশে তৃণমূল নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা বাড়ছে না। উপরন্ত অনেকেই নিরুৎসাহীত হয়ে গুটিয়ে ফেলছেন ব্যবসা।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তৃণমূল নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে কাগজে কলমে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা লেখা থাকলেও বাস্তবে সেসব সুবিধা ভোগ করতে পারছেন না তৃণমূলের নারী উদ্যোক্তারা। বরং ঋণের জন্য গেলে তাদের পরতে হচ্ছে নানা জটিলতায়।
তৃণমূল নারী উদ্যোক্তা সোসাইটির নেতারা জানান, নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টির প্রধাণ অন্তরায় ব্যাংকঋণের ক্ষেত্রে জামানত চাওয়া। তাছাড়া নারীদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করণেও রয়েছে ব্যাপক সমস্যা। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন শোরুমে পণ্য দিলেও বিক্রির পর শোরুমের মালিকরা প্রাপ্ত টাকা পরিশোধ করেন অনেক দেরি করে। ফলে উদ্যোক্তাদের হুমকির মুখে পরতে হয়। এছাড়াও তৃণমূল নারী উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্যের মান উন্নয়ন ও বাজারজাতকরণের জন্য কোনো সংগঠন না থাকায় পণ্যের মান উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নারী উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় ট্রেনিংয়ের অভাব রয়েছে। অধিকাংশ নারী উদ্যোক্তার তথ্যপ্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞান না থাকায় পিছিয়ে পরছেন।
সংগঠনের সভাপতি জেসমিন খান জানান, তৃণমূল নারী উদ্যোক্তাদের ব্যাংক থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার নিয়ম। কিন্তু বর্তমানে ২ লাখ টাকার বেশি ঋণ দেয়া হয় না। সেই ঋণ নিতে গেলেও রয়েছে নানা ঝক্কি-ঝামেলা। এক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতার শোরুম, জমি, জামানতকারী থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু নতুন উদ্যোক্তার ক্ষেত্রে এসব শর্ত মানা অসম্ভব হয়ে পরে। ফলে অনেকেই নিরুৎসাহীত হয়ে গুটিয়ে নেন নিজেকে।
জেসমিন খান বলেন, ‘বিভিন্ন মেলার জন্য পণ্য তৈরি করে উদ্যোক্তারা সে পণ্য ঠিকমতো বিক্রি করতে পারেন না। ফলে সময়মতো টাকা পান না। আবার পণ্য বিক্রি না হলে তা ফেরত আসে। এটিও নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি না হওয়ার অন্যতম একটি কারণ।’
জানা গেছে, ব্যাংক থেকে তৃণমূল নারী উদ্যোক্তারা ১ থেকে ২ লাখ টাকা ঋণ নিলে প্রথম মাস থেকেই ৭ শতাংশ সুদ দিতে হয়। এই নিয়ম নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টিকে নিরুৎসাহিত করছে। নেতাদের দাবি বিনিয়োগ করার ৬ মাস পর থেকে সুদ ধরা হলে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সুবিধা হয়।
সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করে বলেন, ‘ঋণ নিতে গেলে ব্যাংকে অনেক ঘুরতে হয়। ঘুরতে ঘুরতে অনেক সময় ও টাকা খরচ হয়ে যায়। বিনিয়োগ করে লাভ হলে ঋণের টাকা দিতে কোনো কষ্ট হয় না। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে ঋণ ফেরত দেয়ার নিয়ম থাকায় অনেকে ঋণখেলাপি হয়ে যায়। ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে গেলে জামানত ও অন্যান্য কাগজ পত্রের জন্য নারী উদ্যোক্তাদের হয়রানীর শিকার হতে হয়। ফলে ঋণ নিতে তারা অনীহা প্রকাশ করে।’
সরকারি অনুদানে মেলা করলে নারী উদ্যোক্তাদের পণ্য বাজারজাত করতে সহজ হয়। কিন্তু এ ধরণের সুযোগ তৃণমূল নারী উদ্যোক্তাদের জন্য খুবই কম রয়েছে বলে তারা জানান।

অনু সরকার, সূত্র: ওয়েব সাইট
ঢাকা ৮ মে (ওমেন আই)//এলএইচ//

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close