আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
শিল্প-সংস্কৃতি

কলকাতায় তসলিমার টিভি সিরিয়াল নিয়ে বিতর্ক

বিবিসি:
নির্বাসিতা বাংলাদেশী লেখিকা তসলিমা নাসরিনের গল্পকে কেন্দ্র করে একটি টেলিভিশন ধারাবাহিক প্রচার করতে গিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েছে কলকাতার একটি চ্যানেল।

‘দু:সহবাস’ নামের এই টিভি সিরিয়ালটি এ সপ্তাহ থেকে সম্প্রচার হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আকাশ-আট নামের টিভি চ্যানেলটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, এই সিরিয়ালটি শেষ মুহুর্তেও অনিশ্চয়তার মুখে, কারণ এর সঙ্গে তসলিমা নাসরিনের সম্পৃক্ততার কারণে তাদের জনরোষের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

ধারাবাহিকটির বিজ্ঞাপনে চ্যানেল কর্তৃপক্ষও এখন তসলিমার সম্পৃক্ততাকে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করছেন – জানাচ্ছেন সিরিয়ালটির সূচনায় লেখিকার শহরে পা রাখার কোনও পরিকল্পনাই নেই!

গত ছবছর কলকাতায় পা রাখতে না-পারা তসলিমা নাসরিনও বিবিসিকে বলেছেন, তাঁর এই সিরিয়াল নিয়ে অনেকেরই আপত্তি আছে।

কলকাতায় প্রত্যাবর্তন

গত কয়েকদিন ধরেই কলকাতার টিভি চ্যানেল আকাশ-আটে চলছিল দু:সহবাস সিরিয়ালের প্রোমো – যেখানে লেখিকা তসলিমা নাসরিন বলছিলেন, এর মধ্যে দিয়েই কলকাতায় আবার ফিরে আসছেন তিনি।

কিন্তু লেখিকার কলকাতায় ফেরা – রূপকার্থে হলেও – এখনও এতটাই স্পর্শকাতর বিষয় যে চ্যানেলটিকে এখন ঘোষণা করে জানাতে হচ্ছে, তসলিমা নাসরিন কলকাতায় আসবেন না, আর এই ধারাবাহিকও কোনও ধর্মের ভাবাবেগে আঘাত করবে না।

প্রোমোতে অবশ্য এখনও আছে তসলিমার কন্ঠস্বর – যদিও কলকাতায় ফিরছি এ কথা আর তাঁকে বলতে শোনা যাচ্ছে না।

তিনি জানান, ‘আমি শুনেছি আমার ওই ধারাবাহিক নিয়ে অনেকেই ওই চ্যানেলের কাছে আপত্তি জানাচ্ছেন। ওরাও দেখলাম গত দুদিন আমার সিরিয়ালের প্রোমো প্রচার করা বন্ধ রেখেছেন!’

অথচ এই দু:সহবাসকে কেন্দ্র করে তসলিমা অসম্ভব রোমাঞ্চিত ছিলেন, কৃতজ্ঞ ছিলেন ওই চ্যানেলের কর্তৃপক্ষের কাছে।

তিনি বলছিলেন, ‘যেভাবে ওরা এর বিজ্ঞাপন করেছিলেন, আমি সেখানে বলছিলাম দু:সহবাসের হাত ধরে এত বছর পর কলকাতায় ফিরছি – তাতে ভীষণ এক্সাইটিং লাগছিল!’

যে লেখিকার কলকাতা বা পশ্চিমবঙ্গেই যাওয়া নিষেধ, তার গল্প নিয়ে সিরিয়াল করার সাহস দেখিয়ে বা তাকে টিভিতে হাজির করে চ্যানেলের প্রযোজকরা যে দারুণ প্রশংসার কাজ করেছেন, তা বলতেও দ্বিধা নেই তসলিমা নাসরিনের।

তসলিমাকে নিয়ে ক্ষোভ

তবে আকাশ-আট চ্যানেলের অন্যতম অধিকর্তা ঈশিতা সুরানাও বিবিসির কাছে স্বীকার করেছেন – গল্পের লেখিকার নাম তসলিমা নাসরিন বলেই তাদের এখন থেকেই কিছুটা জনরোষের মুখে পড়তে হচ্ছে।

তিনি জানাচ্ছেন, ‘অনেকেই ফোন করে আমাদের বলছেন তসলিমার গল্প নিয়ে কেন সিরিয়াল করতে হবে? আরও তো অনেক লেখক আছেন – তাদের গল্প নিয়ে করলেই তো হয়!’

সেই সঙ্গেই তিনি বলছেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাবাবেগে কেউ আঘাত করলে হিন্দুরা অনেকে যেমন বিচলিত হবেন – এ ক্ষেত্রেও তেমনই কিছু একটা হয়েছে বলে তাঁর ধারণা; এবং জনরোষ যে কিছুটা আছে তা অস্বীকার করা যাবে না।

ওদিকে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন তৃণমূল সরকার তসলিমাকে রাজ্যে ঢুকতে না-দেওয়ার মনোভাবেই এখনও অনড় আছে।

যদিও কলকাতার অগ্রণী কবি সুবোধ সরকারের মতে, শহরের শিল্পী-সাহিত্যিকরা সেই মানসিকতার শরিক নন – কারণ তসলিমাকে তসলিমা করে তোলার পেছনে কলকাতার লেখক-কবিদেরও বিরাট ভূমিকা আছে।

‘কলকাতা এখনও তত অনুদার হয়নি বলেই আমরা ধারণা – এবং রাজনীতিক বা ধর্মব্যবসায়ীদের কথা বলতে পারব না, কিন্তু কলকাতার সাহিত্য জগৎ কিন্তু অবশ্যই তসলিমাকে দেখতে চায়’, বলছেন কবি সুবোধ সরকার!

কিন্তু যারা দেখতে চান না – তারাই অনেক বছর ধরে রাজ্যে ক্ষমতায়, ফলে চট করে তসলিমা নাসরিনের কলকাতায় পা-রাখার এখনই কোনও সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে না।

এদিকে লেখিকা নিজে অবশ্য দু:সহবাসে একটা ছোট চরিত্রে অভিনয়ের কথাও ভেবে রেখেছেন – যেখানে তার লজ্জা উপন্যাসের চরিত্র সুরঞ্জন বাংলাদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গে আসার পর দেখা করবে বাস্তবের লেখিকা তসলিমা নাসরিনের সঙ্গে।

‘সুরঞ্জন যখন শুনবে লজ্জার লেখিকা কলকাতাতেই থাকেন – তখন খোঁজখবর করে তার সঙ্গে গিয়ে একদিন দেখা করবে সে। সিরিয়ালের ওই পার্শ্বচরিত্রে আমি নিজেই নিজের ভূমিকায় অভিনব করব বলে ভেবেছি’, বিবিসিকে বলছিলেন তসলিমা নাসরিন।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close