আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
শিল্প-সংস্কৃতি

বসন্ত বাতাসে সইগো

ওমেনআই ডেস্ক :

বসন্ত বাতাসে সইগো
বসন্ত বাতাসে
বন্ধুর বাড়ির ফুলের গন্ধ
আমার বাড়ি আসে
সইগো বসন্ত বাতাসে॥
বসন্ত এলো বলে! ঋতুরাজের আগমনে প্রকৃতির মতো মানুষের মনেও ছড়িয়ে পড়ে বসন্তের রঙ। বসন্তকে বরণ করে নিতে তাই প্রকৃতির রঙে রঙ মিলিয়ে, প্রকৃতির নকশা শরীরে জড়িয়ে সেজে উঠতে ইচ্ছে করে আমাদেরও। বসন্তের বসন নিয়ে আমাদের আজকের আয়োজন।
প্রকৃতিতে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে বসন্তের আগমনী বার্তা। বসন্তকে বরণ করে নিতে শীতের জীর্ণতা সরিয়ে ফুলে ফুলে সেজে উঠেছে প্রকৃতি। কোকিলের কুহুতান, দখিনা হাওয়া, ঝরাপাতার শুকনো নূপুরের নিক্কন গেয়ে যাচ্ছে বসন্তের গান। ইট-পাথরের এই নগরের প্রকৃতিতে সেভাবে হয়তো দেখা মেলে না বসন্তের রূপমাধুর্য, তবুও বাসন্তীরঙা বসনে আর ফুলের সাজে নগরবাসী ঠিকই বরণ করে নেয় বসন্তকে। পহেলা ফাল্গুনের পরদিনই যেহেতু ভালোবাসা দিবস, তাই ভালোবাসার পোশাকেও ফুটে ওঠে ফাল্গুনের রঙনকশা।
বসন্তবরণের পোশাকে তরুণীদের প্রথম পছন্দ শাড়ি। আর তাতে উজ্জ্বল সব রঙ। বসন্তের শাড়ির নকশায় ব্লকপ্রিন্ট, হ্যান্ডপেইন্ট, এমব্র্রয়ডারি, অ্যাপ্লিক, ডিজিটাল প্রিন্টসহ বিভিন্ন নকশা চোখে পড়বে। শাড়িজুড়ে নকশার পাশাপাশি এখন শুধু পাড়ের নকশাও বেশ চলছে। একরঙের হালকা কাজের শাড়ির সঙ্গে বিপরীত রঙের বাহারি ব্লাউজ বেছে নিতে পারেন। এই যেমন হলুদ, কমলা পাড়ের শাড়ির সঙ্গে লাল ব্লাউজ, সবুজ জমিন হলুদ পাড়ের শাড়ির সঙ্গে কমলা ব্লাউজ পরা যেতে পারে। গরম জাঁকিয়ে বসতে আরও দেরি আছে, এই সুযোগে ভারী কাতানের ব্লাউজখানাও পরে ফেলা যায় এদিন। সুতি শাড়ি তো পরা হবেই। ভিন্নতা আনতে বেছে নিতে পারেন জামদানি, সিল্ক বা মসলিনও।
ফাল্গুনের পোশাক মানেই এখন আর শুধুই শাড়ি নয়, শাড়ির সঙ্গে যোগ হয়েছে স্কার্ট, টপস, ফতুয়া, কুর্তা, লং, কোটি কামিজসহ নানা কিছু। রঙ অঞ্জনস-এর স্বত্বাধিকারী ও ফ্যাশন ডিজাইনার শাহীন আহম্মেদ জানান, ‘লেয়ার পোশাক নতুন বছরেও বেশ জনপ্রিয়। বসন্তবরণে শাড়ি পরতে না চাইলে লম্বা ছাঁটের কিংবা দু-তিন স্তরের লেয়ার দেওয়া পোশাক পরতে পারেন। হালকা শীত-গরমের সময়টায় এ ধরনের পোশাক আরামদায়ক হবে। এখন ফল্গুনে দেশীয় কাটের পোশাকের পাশাপাশি পাশ্চাত্য কাটের দেশীয় পোশাকও অনেকে পরছেন। বসন্তের পোশাকে রঙটাই বেশি প্রাধান্য পায়। লাল, সবুজ, হলুদ, কমলা, গেরুয়া রঙগুলো বেশি দেখা যাবে। পোশাকের নকশায় ফ্লাওয়ার মোটিফ বেছে নিয়েছি।’
বসন্তবরণের অনুষ্ঠানে কিংবা ঘুরে বেড়াতে এদিন ছেলেদের প্রথম পছন্দ পাঞ্জাবি ও টি-শার্ট। পাঞ্জাবি ও টি-শার্টে এ বছর প্রাধান্য পেয়েছে শীতলপাটি, নকশিকাঁথা, গ্রামের প্রকৃতি, ফুল-লাতাপাতাসহ বিভিন্ন লোকজ ও নাগরিক মোটিফ। একরঙা হাতার সঙ্গে প্রিন্টের বডি, একরঙা বডির সঙ্গে ফ্লাওয়ার মোটিফ প্রিন্টের হাতা এবার ছেলেদের পাঞ্জাবির নকশায় গুরুত্ব পাবে। কর্মস্থলে পরার জন্য এদিন বেছে নিতে পারেন ফ্লাওয়ার মোটিফের সুতি ক্যাজুয়াল শার্ট। বসন্ত উপলক্ষে কোনো উৎসবে যোগ দিতে চাইলে পাঞ্জাবির সঙ্গে কোটি কিংবা উত্তরীয় পরতে পারেন। একরঙা পাঞ্জাবির ওপর নজর কাড়বে তসর, খাদি কাপড়ের উজ্জ্বল রঙের ফ্লাওয়ার মোটিফ বা একরঙা কোটি।
পোশাকের প্যাটার্নে বৈচিত্র্য থাকলেও মূল আকর্ষণ থাকছে রঙ ও নকশায়। প্রকৃতি আর ফুলের রঙনকশা উঠে এসেছে পোশাকে। নতুন পাতার কচি সবুজ রঙ যেমন আছে, তেমনি ঝরাপাতার বাদামি বর্ণও চোখে পড়বে। হলুদ, সবুজ, কমলার নানা শেড প্রাধান্য পেলেও লাল, গোলাপি, নীলের মতো বিপরীত রঙও এখন ঠাঁই করে নিচ্ছে বসন্তের বসনে। রঙ নকশা যেমনই হোক, ফাল্গুনের পোশাকে যেন ঐতিহ্যের ছোঁয়া থাকে সেদিকে লক্ষ রাখার পরামর্শ দিলেন ফ্যাশন ডিজাইনার
লিপি খন্দকার। তিনি আরও বলেন, ‘এখনকার আবহাওয়ার জন্য সুতি ও তাঁত আরামদায়ক হওয়ায় এ দুই ধরনের ফেব্রিক নিয়েই বেশি কাজ করেছি। তবে অ্যান্ডি, খাদি, তসর, সিল্ক, ভিসকসও এখন পরা যেতে পারে। ফুল, লাতা-পাতার সঙ্গে এবার বসন্তের পোশাকের মোটিফ হিসেবে বেছে নিয়েছি কবিতা। বসন্ত মানেই হলুদ। তাই হলুদ রঙটাকে প্রাধান্য দিয়ে ব্যবহার করেছি সবুজ, নীলের বিভিন্ন শেড।’
বিশ^রঙ, রঙ বাংলাদেশ, অঞ্জন’স, বাংলার মেলাসহ বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসে সুতি, তাঁত, তসর, মসলিনের ওপর কাজ করা শাড়ি পাওয়া যাবে। শাড়ির নকশায় প্রাধান্য পেয়েছে ব্লক, স্ক্রিন প্রিন্ট, মেশিন এমব্রয়ডারি প্রভৃতি। পাঞ্জাবির ডিজাইনে উঠে এসেছে উইভিং, ব্লক, জিওমেট্রিক নকশা। কে-ক্রাফটের ফ্লাওয়ার মোটিফের সুতি সালোয়ার-কামিজ ছাড়াও রাখা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের লেয়ার কাট কুর্তি, টপস প্রভৃতি। সুতি ছাড়াও বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসে হালকা শীতের কথা মাথায় রেখে তসর, সিল্কের ওপরও ফাল্গুনের পোশাক তৈরি করা হয়েছে।
বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসে পাঞ্জাবি পাওয়া যাবে ১ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার টাকায়, কোটি ১ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার, সালোয়ার কামিজ ১ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার, শাড়ি ৯০০ থেকে ৬ হাজার, টি-শার্ট ৩০০ থেকে ১ হাজার ২০০, সুতি ক্যাজুয়াল শার্ট ৪০০ থেকে ১ হাজার ৮০০, টপস-কুর্তি ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা। বসুন্ধরা সিটি, পিংক সিটি, গাউসিয়া, নিউমার্কেট, আজিজ সুপার মার্কেটসহ বিভিন্ন মার্কেট থেকে পছন্দমতো বসন্তবরণের পোশাক কিনতে পারেন। একটু ভিন্নধর্মী নকশার পোশাক কিনতে চাইলে যেতে পারেন বিশ^রঙ, রঙ বাংলাদেশ, অঞ্জন’স, বাংলার মেলা, কে-ক্রাফটসহ বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসে।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close