আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
রাজনীতি

যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট কমিটিতে বাংলাদেশ নিয়ে উদ্বেগ

রাজনৈতিক অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিষয়ক সিনেট কমিটি। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের বিরোধকে দায়ী করে ওই প্রস্তাবে রাজনৈতিক সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচ সিনেটর রিচার্ড ডারবিন, জন বুজম্যান, বারবারা বক্সার, মাইকেল বি এঞ্জি ও সিনেটর ক্রিস্টফার এস মার্ফি গত ১১ ডিসেম্বর প্রস্তাবটি পররাষ্ট্র বিষয়ক সিনেট কমিটিতে তোলেন, যা নিয়ে  আলোচনা হয় বুধবার।

স্থানীয় সময় বেলা সোয়া ২টায় ওয়াশিংটন ডিসির ক্যাপিটল ভবনে এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সিনেট কমিটির চেয়ারম্যান রবার্ট মেনেন্ডেজ (নিউ জার্সি-ডেমোক্রেট)। কমিটির অন্য সদস্যরাও এতে অংশ নেন।

‘ফরেন রিলেশন্স কমিটির’ একজন কর্মকর্তা  বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির টেলিফোনের পরও বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ‘দৃশ্যমান কোনো উন্নতি’ না হওয়ায় সিনেট কমিটির বৈঠকে ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করা হয়।
বিশেষ করে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত অস্কার ফারনান্দেজ-তারানকো তার সাম্প্রতিক ঢাকা সফরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দল বিএনপির নেতাদের সমঝোতায় আসার যে পরামর্শ দিয়েছেন, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে কিনা- তা গুরুত্ব পায় বৈঠকে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র বিপন্ন হতে পারে এমন কোনো পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাশা করে না বলে সিনেটর মেনেন্ডেজ মন্তব্য করেছেন।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দেশের গুরুত্বপূর্ণ চাহিদাগুলো এড়িয়ে যাচ্ছে- এমন মন্তব্য করে সিনেট কমিটিতে তোলা রিচার্ড ডারবিনের প্রস্তাবে বলা হয়, সরকারের মেয়াদপূর্তির তিন মাস আগে একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিধান বর্তমান সরকার বাংলাদেশের সংবিধান থেকে বাদ দিয়েছে। অন্যদিকে ১৮ দলের বিরোধীদলীয় জোট চলতি বছর একের পর এক হরতাল-অবরোধ করে যাচ্ছে যাতে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে বিচারে গঠিত ট্রাইব্যুনাল আন্তর্জাতিক মান রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে বলেও তার প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়।

এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের কাছে ছয়টি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে পদক্ষেপ চান সিনেটর রিচার্ড ডারবিন ও চার সহ প্রস্তাবক।

এগুলো হলো- বাংলাদেশের রাজনৈতিক সহিংসতায় উদ্বেগ প্রকাশ করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ফলপ্রসূ আলোচনায় বসতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানাতে হবে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও জনগণের চাহিদা পূরণে রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যর্থতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করতে হবে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে এখনই সহিংসতা বন্ধের উদ্যোগ নিতে এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচির পথ তৈরি করতে আহ্বান জানাতে হবে।

আসন্ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণে পর্যবেক্ষকদের সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তা দিতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি আহ্বান জানাতে হবে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক মতবিরোধ দূর করতে জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব ফারনান্দেজ-তারানকো যে আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছেন, তা এগিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দিতে হবে।

এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতে, মানবাধিকার কর্মীদের হেনস্তা বন্ধে এবং গ্রামীণ ব্যাংকের ‘স্বাধীনতা’ ফিরিয়ে দিতে বাংলদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানাতে হবে।
গত ২০ নভেম্বর কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে দক্ষিণ এশিয়া সম্পর্কিত পররাষ্ট্র কমিটির শুনানিতেও বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close