আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
জাতীয়স্লাইড

চোখের পলকে ফুরিয়ে এল দিন

ওমেনআই ডেস্ক: মায়ের ছোট সন্তানের মতো ফেব্রুয়ারিও বছরে সবচেয়ে ছোট মাস। বাঙালির মাতৃভাষা অধিকার প্রতিষ্ঠার অবিস্মরণীয় সংগ্রামের সঙ্গেও মাসটি অচ্ছেদ্যভাবে জুড়ে আছে। এর পয়লা থেকে একুশের গ্রন্থমেলা শুরু হয়েছিল, সেই মেলা আজ শেষ। দিনগুলো যেন চোখের পলকে পেরিয়ে গেল। যাঁরা নতুন বইয়ের খোঁজে বা বই নিয়ে আড্ডা জমাতে মেলায় যেতেন, আজকের পর বেলা গড়ালে আর সেই তাগিদ থাকবে না। মনের মধ্যে একরকমের খালি খালি, ব্যথাকাতর অনুভব জাগবে। সময়ের চাকা ঘুরে চলে, কার সাধ্য তাকে আটকায়।

বিদায় সমাগত বলেই গতকাল মেলার ফটক খোলা থেকেই অনেক মানুষের সমাগম ঘটেছে। ঢাকার বাইরে থেকেও এসেছেন অনেকে। তেমনই তিন বন্ধুর সঙ্গে দেখা ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশের স্টলে। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকে গাড়ি ভাড়া করে এসেছেন পেশায় সাংবাদিক বিকুল চক্রবর্তী, সব্যসাচী পুরকায়স্থ ও সুকান্ত চক্রবর্তী। বিকুল বললেন, এই মেলার সঙ্গে প্রাণের টান অনুভব করেন। সেই টানে প্রতিবারই আসেন। এখান থেকে কিনেছেন কথাশিল্পী শওকত আলীর আত্মজীবনী অবিস্মৃত স্মৃতি এবং গল্পের বই বামন। মেলার পরিবেশ তাঁদের কাছে খুবই ভালো লেগেছে, তবে শেষের দুই দিন সকাল থেকে মেলা শুরু করলে তাঁদের মতো দূর থেকে যাঁরা আসেন তাঁদের সুবিধা হয় বলে মন্তব্য করলেন।

ইত্যাদির প্রকাশক জহিরুল আবেদীন অবশ্য বললেন, এমন অনেককেই স্টল দেওয়া হয়েছে, যাঁদের নিজস্ব প্রকাশনা নেই। অনেক ক্ষেত্রেই পাঠকেরা ভালো বইটি বেছে নিতে পারেন না। এখন সময় এসেছে বইয়ের মান বিচার করে মেলায় স্টল বরাদ্দ দেওয়া। আর মানসম্মত বইয়ের জন্য প্রকাশকদের নিজস্ব পাণ্ডুলিপি সম্পাদক ও বানান সংশোধনের দক্ষ জনবল থাকা প্রয়োজন। এ জন্য বাংলা একাডেমি এবং প্রকাশক সমিতি যৌথভাবে সম্পাদনাবিষয়ক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দক্ষ জনবল সৃষ্টি করতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করলেন।

আগের রাতের বৃষ্টির স্মৃতিচিহ্ন হয়ে মেলার মাঠের কোথাও কোথাও খানিকটা করে পানি জমে আছে। ক্রমেই তাতিয়ে উঠতে থাকা আবহাওয়া ফের আর্দ্র কোমল হয়ে উঠেছে এই বৃষ্টিতে। ফলে শেষ বেলার মেলার ভিড়েও গতকাল বেশ স্বস্তির সঙ্গে স্টলে স্টলে ঘুরে পছন্দের বই কিনতে পেরেছেন গ্রন্থানুরাগীরা। প্রথমার স্টলে মেলার ফটক খোলার পর থেকেই ভিড় জমেছিল প্রচুর। ফুরসত ছিল না বিক্রয় প্রতিনিধিদের। তাঁরা জানালেন, এবার মেলার শুরু থেকেই বিক্রির ধারাবাহিকতা খুব ভালো ছিল। মেলায় প্রথমা প্রকাশন এনেছে খন্দকার রেজাউল করিমের এই আমেরিকা সেই আমেরিকা। স্টিফেন হকিং-এর থিওরি অব এভরিথিং: মহাবিশ্বের জন্ম এবং শেষ পরিণতি, আনিসুল হকের উপন্যাস আলো-আঁধারের যাত্রী ভালো বিকোচ্ছে।

অ্যাডর্ন পাবলিকেশনসের স্টলের সামনে রোজই আড্ডা জমে লেখক-পাঠক-প্রকাশকদের। এখানে কথা হলো অ্যাডর্নের প্রকাশক জাকির হোসেন, সময়-এর ফরিদ আহমেদ ও লেখক আহমাদ মাযহারের সঙ্গে। এবার বড় কোনো প্রাকৃতিক, রাজনৈতিক বিরূপ পরিবেশ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। বিক্রিও ভালো। সন্তুষ্টির সঙ্গেই মেলা শেষ করতে পারার কথাই বললেন তাঁরা।

মেলায় প্রকৃতি-পরিচয় এনেছে সৈয়দ নিজারের বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভব, বিকাশ ও বিউপনিবেশায়ন। মেঘ এনেছে আল ইমরান সিদ্দিকীর ধূপছায়াকাল। এপিপিএল এনেছে হোলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলায় নিহত অবিন্তা কবিরের অনন্য নক্ষত্র। অন্যপ্রকাশ এনেছে নন্দিত কথাশিল্পী হ‌ুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে মাজহারুল ইসলামের স্মৃতিকথা হ‌ুমায়ূন আহমেদের মাকড়া ভীতি এবং অন্যান্য, সৈয়দ শামসুল হকের উপন্যাস নদী কারো নয়, তাবারক হোসেনের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস শ্বেতপদ্ম, আনিসুজ্জামানের প্রবন্ধ বিদ্যাসাগর ও অন্যান্য। জনান্তিক এনেছে নওরোজ ইমতিয়াজের রম্য সংকলন অখাদ্য। বাতিঘর এনেছে ওমর কায়সারের উপন্যাস অ্যাকুরিয়ামের দিনগুলো, রাত্রি প্রকাশন এনেছে ফারজনা শিকদারের উপন্যাস নিয়তির জলকাব্য, জয়তী এনেছে সুমনকুমার দাশের প্রবন্ধ চৌদ্দ ভুবন। এমন আরও অনেক নতুন বই আসবে আজ মেলার শেষ দিনে, আসবেন পাঠকেরাও। ব্যাগ ভরা নতুন বই নিয়ে ঘরে ফিরবেন আবার নতুন করে এই প্রাণের মেলাকে ফিরে পাওয়ার আশায়।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close