আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
নারী সংগঠন

‘৮০ ভাগ কন্যাশিশু বাল্যবিবাহের শিকার

sisuওমেন আই: রাজধানীর বস্তিতে বসবাসকারী কন্যাশিশুদের ৮০ ভাগই বাল্যবিবাহের শিকার বলে উঠে এসেছে উন্নয়ন সহযোগী সংস্তা ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’- এর দুটি গবেষণা প্রতিবেদনে।
বৃহস্পতিবার সকালে গুলশানের স্পেকট্রা কনভেনশন সেন্টারে ‘নগরায়নের প্রবণতা ও শিশুদের উপর প্রভাব’ এবং ‘রাজধানীর নির্বাচিত পাঁচটি বস্তির অবস্থা বিশ্লেষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদন দুটি প্রকাশ করে সংস্থাটি।

‘নগরায়নের প্রবণতা ও শিশুদের উপর প্রভাব’ গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন জরিপ পরিচালনাকারী সংস্থা দ্য নিয়েলসন-এর ব্যবস্থাপক একেএম ফজলুর রহমান এবং ‘রাজধানীর নির্বাচিত পাঁচটি বস্তির অবস্থা বিশ্লেষণ’ উপস্থাপন করেন সেভ দ্য চিলড্রেনের শিশুদের জন্য প্রোগ্রামের ডিরেক্টর শাহানা নাজনীন।

‘নগরায়নের প্রবণতা ও শিশুদের উপর প্রভাব’ শীর্ষক গবেষণাপত্রে বলা হয়, বস্তিতে বসবাসকারী কন্যা শিশুদের ৮০ ভাগই বাল্যবিবাহের শিকার, যার হার ছেলে শিশুদের মধ্যে শতকরা ৪৬ ভাগ।

গবেষণায় বলা হয়, এসব বস্তিতে বসবাসকারী অভিভাবকদের ৫২ শতাংশ জানিয়েছেন ‘ভালো পাত্র’ পাওয়ায় কন্যাশিশুদের বিয়ে দিয়েছেন। এছাড়া ২০ ভাগ অভিভাবক দরিদ্রতা ও ১৯ ভাগ যৌন হয়রানি শিকার হওয়া থেকে রক্ষা পেতে কন্যাশিশুদের বাল্যবিবাহ দিয়েছেন।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, বস্তিতে বসবাসকারী শিশুদের ৪৪ শতাংশ পোশাক কারখানা, ২৪ শতাংশ বিভিন্ন দোকান ও ৯ শতাংশ ভিক্ষা বৃত্তির কাজে জড়িত।

কর্মজীবী শিশুদের মধ্যে ৯ শতাংশ শারীরিক নির্যাতনের শিকার এবং ১২ শতাংশ ঝুঁকিপূর্ণ কাজ ও বিপজ্জনক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে থাকে।

এছাড়া কর্মজীবী শিশুদের ১১ শতাংশ দৈনিক ১৩ থেকে ১৫ ঘন্টা, ৪০ শতাংশ ১১ থেকে ১২ ঘন্টা এবং ৩২ শতাংশ ৯ থেকে ১০ ঘন্টা কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে।

২০০৪ সাল থেকে জন্ম সনদ নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হলেও এ গবেষণায় বলা হয়েছে, মাত্র ৩৭ শতাংশ শিশুর জন্ম নিবন্ধন করা হয়ে থাকে। এদের মধ্যে ২৭ শতাংশ টাকা খরচের ভয়ে জন্ম সনদ নেয় না।

আবার যেসব শিশুদের জন্ম নিবন্ধন করা হয় না, তাদের অভিভাবকদের ৪১ শতাংশ বিষয়টির গুরুত্ব ‘বোঝেন না’ এবং ৩২ শতাংশ জানেন না কীভাবে নিবন্ধন করা হয়।

তবে গবেষণা ফলাফলে দেখা গেছে, শিক্ষাক্ষেত্রে বস্তির কন্যাশিশুরা বালকদের তুলনায় এগিয়ে আছে।

এতে বলা হয়েছে, কন্যাশিশুদের ৪৭ শতাংশ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। যাদের ৪৩ শতাংশ নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করে। বালকদের মধ্যে ৩৭ শতাংশ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে, যাদের ৩১ শতাংশ নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করে।

বস্তির শিশুদের কার্যক্রমে সরকারের চেয়ে বেসরকারি সংস্থাগুলোর ভূমিকা সবচেয়ে বেশি বলেও গবেষণায় দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের সুপারিশে বলা হয়েছে, বস্তিতে বসবাসকারী কন্যাশিশুদের বাল্যবিবাহ রোধে নারী শিক্ষায় বিনিয়োগ আরো বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে নারী শিক্ষার উন্নয়নে অভিভাবকদের কর্মতৎপরতা বৃদ্ধি ও সহযোগী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

অন্যদিকে ‘রাজধানীর নির্বাচিত পাঁচটি বস্তির অবস্থা বিশ্লেষণ’ প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, বস্তি এলাকায় মোট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে সরকার পরিচালিত প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ২২ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এর বিপরীতে এসব এলাকায় বেসকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) পরিচালিত প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৭৭ দশমিক ১৭ শতাংশ।

কেবল বস্তির শিশুদের জন্য সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের হার মাত্র মাত্র ১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। আর এনজিও পরিচালিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের হার ৮৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

গবেষণাপত্রে বলা হয়, বস্তিবাসী মানুষেরা প্রতিনিয়ত উচ্ছেদ ও অগ্নিকাণ্ডের আতংকে ভুগছেন। এদের ২৫ শতাংশ গত ১০ বছর ধরে কয়েকবার উচ্ছেদ হয়েছেন এবং এখনো উচ্ছেদ আতংকে আছেন। একই সময়ে ৪৫ শতাংশ বস্তিবাসী কয়েকবার অগ্নিকাণ্ডের শিকার হয়েছেন।

বস্তিবাসীর পানি ও পয়ঃনিস্কাশনে এনজিওগুলোর উল্লেখ করার মতো ভূমিকা পালন করে আসছে।

গবেষণায় দাবি করা হয়, বস্তিবাসীর জন্য পানি ব্যবস্থাপনায় সরকারের চেয়ে এনজিওগুলো এগিয়ে আছে।

এতে বলা হয়, সরকার যেখানে বস্তিবাসীদের জন্য মাত্র ২৪ দশমিক ২৯ শতাংশ পানি সরবরাহ করে থাকে, সেখানে বেসরকারি সংস্থাগুলোর অবদান হচ্ছে ৭৫ দশমিক ৭১ ভাগ। পয়ঃনিষ্কাশন প্রণালীতেও সরকারের ভূমিকা অতি নগণ্য। এখাতে সরকারের অবদান মাত্র ৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ। অন্যদিকে এনজিওগুলো ৯৬ দশমিক ৩৭ শতাংশ পয়ঃনিস্কাশন সেবা দিয়ে থাকে।

প্রতিবেদনটির সুপারিশে বলা হয়েছে, এসব বেসরকারি সংস্থাগুলো যদি নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি ও উন্নয়ন ধারণাগুলোর মধ্যে সমন্বয় সৃষ্টি করতে পারে, তবে বস্তিবাসীর জীবনের মান খুব দ্রুত উন্নয়ন করা সম্ভব হবে। এর জন্য বেসরকারি সংস্থাগুলোর একটি প্লাটফর্মে একত্রিত হওয়ার জোর সুপারিশ করা হয়।

বাংলাদেশ আরবান ফোরামের (বিইউএফ) ন্যাশনাল পলিসি অ্যাডভাইজার মোস্তফা কাউয়ুম খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্স এর মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন সেভ দ্য চিলড্রেনের কান্ট্রি ডিরেক্টর মাইকেল ম্যাকগ্রাথ, ডেপুটি কান্ট্রি-ডিরেক্টর কাজী গিয়াস উদ্দিন, এডুকেশন ডিরেক্টর এলিজাবেথ পিয়ার্স প্রমুখ।

সেভ দ্য চিলড্রেনের বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মাইকেল ম্যাকগ্রাথ বলেন, বাংলাদেশ শিশুমৃত্যুর হার হ্রাস ও প্রাথমিক শিক্ষায় শিশুদের সুযোগ বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবুও এসব ক্ষেত্রে এখনও অনেক কিছু করার আছে।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close