আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
সারাদেশ

সম্পর্ক : শাশুড়ি-জামাতা

খাদিজা খানম তাহমিনা : বিয়ের পর পরই পরাগ বুঝেছিল তার শাশুড়ি তার পরিবারের সবার উপর কর্তৃত্ব ফলানোর বাতিক আছে। শাশুড়ির ওপর কথা বলার সাহস পরিবারের কারো নেই। পরাগের স্ত্রী রায়না মায়ের কথা ছাড়া এক পাও এদিক-ওদিক করে না। মেয়ের উপর মায়ের প্রভাব মাত্রাতিরিক্ত, যা পরাগের খুব একটা ভালো লাগে না। পরাগ স্ত্রীকে যাই বলে, স্ত্রী আগে মায়ের সাথে কথা বলে তারপর নিজের মতামত জানায়। শাশুড়ি যাকে যা বলেন, অন্যায় হলেও তা মেনে নেয় সকলে। শাশুড়ির সেই কর্তৃত্ব এখন পরাগের উপরও ফলাগে চাইছেন। পরাগের বাড়িরর সবাই ব্যক্তি স্বাধীনতায় বিশ্বাসী, কেউ কারো ব্যাপারে নাক গলায় না। সেইরকম একটা পরিবারের সন্তান হয়ে পরাগ শাশুড়ির এমন কর্তৃত্ব মেনে নিতে পারে না। শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে গেলে একান্ত প্রয়োজন ছাড়া শাশুড়ির সাথে কথা বলে না পরাগ। শাশুড়িকে পরাগের বেশ জটিল মনে হয়, তাই যেকোন উছিলায় শ্বশুরবাড়ি যাওয়া থেকেও বিরত থাকে সে।
রিপন, স্ত্রী এবং তার শাশুড়ির সাথে বসে নাস্তা খাচ্ছে আর গল্প করছে। খুব আড্ডা চলে তাদের মধ্যে। শাশুড়ি জোবেদা খাতুন মেয়ের জামাইকে জামাই বলতে নারাজ। তিনি মনে করেন, রিপন তার মেয়ের জামাই নয়, তার ছেলে। রিপনকে তিনি তার ছেলে বলে পরিচয় দিতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। রিপনও শাশুড়িকে মায়ের মতোই ভালবাসে। রিপন তার নিজের মায়ের জন্য যা করে, শাশুড়ির জন্যও ঠিক তাই করে। শাশুড়িকে মা বলেই ডাকে রিপন,যা শুনে শাশুড়ি ভীষণ খুশি। রিপন বলেন, ‘স্ত্রীর মা মানে আমারও মা, সুতরাং এই মায়ের প্রতিও আমার সমান কর্তব্য আছে।

শাশুড়ি- জামাই সম্পর্ক নিয়ে
খুব একটা আলোচনা না হলেও অনেকের ক্ষেত্রেই সম্পর্কটা অনেক মধুর হয়।
সম্পর্ক সুন্দর রাখতে সবারই সমানভাবে এগিয়ে আসতে হবে। জেনে নেওয়া যাক কিছু করণীয়….

জামাইয়ের জন্য করণীয়:
ষ শাশুড়িকে বোঝার চেষ্টা করুন। কোন কিছু আপনার উপর চাপিয়ে দিতে চাইলে, তার কারণ বোঝার চেষ্টা করুন।
ষ বন্ধুর মতো শাশুড়ির সাথে মিশুন, কোন ভুল করলে তা স্বীকার করে নিন, এতে আপনি ছোট হয়ে যাবেন না।
ষ কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্পষ্টবাদী না হয়ে উপায় থাকে না, সেরকম পরিস্থিতিরর সম্মুখীন হলে শাশুড়িকে স্পষ্ট করে নিজের মতামত জানিয়ে দিন।
ষ শাশুড়ির নামে স্ত্রীকে অভিযোগ করে ব্যস্ত করবেন না,মনে রাখুন আপনার স্ত্রীর কিন্তু দুপক্ষেই দায়বদ্ধতা আছে।
ষ শাশুড়িকে মায়ের মতো ভাবুন। প্রথম প্রথম হয়তো একটু অসস্থি লাগবে, ঠেকবে, কিন্তু পরে ঠিক হয়ে যাবে।
ষ নিজের বাড়ি এবং শ্বশুরবাড়ি নিয়ে তুলনামূলক আলোচনায় জড়াবেন না।
ষ আপনি শাশুড়িটর জন্য কিছু করলে তবেই আপনার জন্য করবে বলে আশা করতে পারেন। তাই শাশুড়ি সম্পর্কে বিরোপ মন্তব্য না করে প্রথমে শাশুড়ি এবং শ্বশুরবাড়ির জন্য কিছু করার চেষ্টা করুন।
ষ বয়স হলে অনেকেই একটু মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। তখন সংসার সবাইকে আঁকড়ে ধরে রাখার প্রবণতা আসে। উনার সমস্যাটা বোঝার চেষ্টা করুন।
ষ কথায় কথায় নিজের মায়ের তুলনা টানবেন না। এটা তার পক্ষে অপমানজনক হতে পারে
ষ বিয়ে মানে শুধু স্ত্রী নয়, পুরো শ্বশুরবাড়িকে নিয়ে থাকতে পারলে আপনার স্ত্রী কিন্তু খুশি হবে।

শাশুড়ির জন্য করণীয় :
ষ জামাইকে নিজের ছের মতো মনে করুন। ছোটখাটো ভুলগুলো ধরবেন না।
ষ বিয়ের পর, মেয়ের উপর বেশি কর্তৃত্ব দেখাবেন না। মনে রাখবেন এতে আপনার মেয়ের ভালোর চেয়ে খারাপ হতে পারে।
ষ মেয়ের সংসার মেয়েকে গোছাতে দিন। মনে রাখতে হবে, মেয়েও চায় এখানে মায়ের হস্তক্ষেপ না থাকুক।
ষ আপনার সিদ্ধান্ত মানে সেটা সঠিক হবে, এরকমটা ভাববেন না। ছোটদের কাছ থেকেও অনেক কিছু শেখা যায়।
ষ মেয়ের ব্যাপারে জামাইয়ের মতামত নেওয়া মানেই কিন্তু আপনারর গুরুত্ব কমে যাওয়া নয়।
ষ কখনই মনে করবেন না, মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় মেয়ে পর হয়ে যাচ্ছে।
ষ সবার কথার গুরুত্ব দিন, কারণ সবার কাজ করার পদ্ধতি একরকম হয় না।
ষ জামাই পরের ঘরের ছেলে, ও কি বুঝবে- এমন মনোভাব দূর করুন।
সংসারে ছোটখাটো কারণে নানা অশান্তি দেখা দেয়, একটু বিচক্ষণতা এসব অশান্তি দূর করতে পারে। জামাই- শাশুড়ির মধুর সম্পর্ক সংসারে আনন্দের নতুন মাত্রা যোগগ করে। এর সাথে জড়িয়ে থাকা অন্যান্য সম্পর্কগুলোকেও সুন্দর রাখতে পারে।
আমাদের পারিবারিক সম্পর্কগুলো আরও সুন্দর হোক -এই প্রত্যশা সবার জন্য।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close