আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
জাতীয়স্লাইড

সংসদে প্রশ্নোত্তরে প্রধানমন্ত্রী : কোটা পদ্ধতিই বাতিল

ওমেনআই ডেস্ক : সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার নিয়ে গত কয়েকদিনের আন্দোলনে ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ পদ্ধতি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, পরিষ্কার কথা। কোটা পদ্ধতিই থাকার দরকার নেই। গতকাল বুধবার বিকালে জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি বলেন, ‘সংস্কার করতে গেলে তো কয়দিন পর বলবেন, আবার সংস্কার চাই। কোটা থাকলেই সংস্কার আর না থাকলে কোনো ঝামেলাই নেই। কাজেই কোটা পদ্ধতি থাকারই দরকার নাই। আর যদি দরকার হয়, আমাদের মন্ত্রিপরিষদ সচিব তো আছেই, তাকে তো আমি বলেই দিয়েছি, সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে ওই কমিটি বসে কাজ করবে। এবং সেখান থেকে তারা দেখবে।’
সরকারি দলের সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক সম্পূরক প্রশ্নটি করেন। এর জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী কোটা পদ্ধতি নিয়ে তার সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা গতকালের মতো কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করে বলেন, আগামীকাল (আজ) প্রতিক্রিয়া জানাবেন। রাতে ছাত্রলীগ ঢাবি ক্যাম্পাসে আনন্দ মিছিল করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্দোলন যথেষ্ট হয়েছে, এবার তারা বাড়ি ফিরে যাক। তবে আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাড়ি ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িতদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে।
ঢাকাসহ সারা দেশে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সড়ক-মহাসড়কগুলো প্রায় অচল হয়ে পড়ার মধ্যে গতকাল সংসদে এ ঘোষণা দেন সরকারপ্রধান। আন্দোলনকারীরা মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে দুদিন আগে বৈঠক করলেও প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট ঘোষণা ছাড়া রাজপথ না ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এরই প্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীদের ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়ে বুধবার সকালে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিকালে সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে কথা বলবেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি, এ রকম আন্দোলন বারবার হবে; বারবার শিক্ষার সময় নষ্ট হবে। আজ পর্যন্ত একটা সেশন জট ছিল না। অল্প সময়ের মধ্যে পরীক্ষা দিয়ে পাস করে চাকরি পেয়ে যেত। অথচ এই কয়েকদিন ধরে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ, তার পর আবার ভিসির বাড়িতে আক্রমণ। রাস্তাঘাটগুলোয় যানজট। সাধারণ মানুষ বারবার কষ্ট পাবে কেন? বারবার এই আন্দোলন, এই ঝামেলা মেটাবার জন্য কোটা পদ্ধতিই বাতিল।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্দোলন যারা করেছে তারা আমাদের ছেলেমেয়ে। অনেকে তো আমার নাতির বয়সী। তাদের কিসে মঙ্গল হবে না হবে আমরা কী তার কিছুই বুঝি না।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সাল থেকে কোটা পদ্ধতি চলছে। সময় সময় সংস্কার হয়েছে। কোটা যাই থাক; তার সরকারের আমলে যখন কোটা পূরণ না হয়, মেধা তালিকা থেকে চাকরি দিয়ে দেওয়া হয়। ৩৩ম বিসিএস পরীক্ষায় মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের সুপারিশ এসেছিল ৭৭.৪০ ভাগ। ৩৫তম বিসিএসে চাকরি পেয়েছে ৬৭.৪৯ ভাগ, ৩৬তমতে পেয়েছে ৭০.৩৮ ভাগ। মেধাবীরা কেউ বাদ যায়নি। এটা অনেক দিন ধরে চলে আসছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ছাত্ররা এই খবরটা রাখে কিনা? আমার কথা হচ্ছে বিসিএস পরীক্ষা যারা দেয় তারা সবাই মেধাবী। এমনকি কোটাধারীরাসহ সবাই একসঙ্গে পরীক্ষা দেয়, লিখিত পরীক্ষায় সবাইকে পাস করতে হয়। সেই পাস করা থেকেই তাদের চাকরিটা দেওয়া হয়। সেখানে কোটায় কী সংস্কারে আপত্তি, সেটা স্পষ্ট নয়। তাদের দাবিনামায় এটা বলা আছে, যেখানে কোটায় পাওয়া যাবে না, সেখানে মেধাতালিকা থেকে দেওয়া হবে। ওটা তো বহু আগে থেকেই আমরা কার্যকর করে ফেলেছি। তারা কী এটাও জানে না।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় কোটা সংস্কারের দাবিতে সোচ্চার কয়েকজন শিক্ষাবিদের সমালোচনা করে বলেন, ‘দুঃখ লাগে আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কোনো প্রফেসর এবং শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসররাও আবার এ সুরে কথা বলছেন। তারা কী এটা দেখেন নাই, আমরা ইতোমধ্যে মেধাতালিকায় নিয়োগ দিয়ে যাচ্ছি।’
এ সময় তিনি প্রশ্ন রাখেন, মেধাতালিকা থেকে নিয়োগ যদি না দেওয়া হতো তা হলে ৭৭ ভাগ বা ৭০ ভাগ নিয়োগ কীভাবে পেত তারা? তা ছাড়া যারা কোটায় পাচ্ছে তারাও তো মেধাবী। কোটার মেধাবীদের হিসাব করলে শতভাগ মেধাবীই চাকরি পাচ্ছে।
শেখ হাসিনা বলেন, সকালে তার কাছে যখন ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এসে বলল, আমরা তিন দিন ধরে ঘুমাতে পারছি না। এই চৈত্রের রোদের মধ্যে ছাত্রছাত্রীরা রাস্তায় বসে আছে, এই রোদে বসে থেকে সবার তো অসুখ-বিসুখও হবে। তার পর তারা রাস্তা বন্ধ করে রাখছে। রোগী যেতে পারছে না হাসপাতালে। হয়তো গাড়িতেই মারা যাচ্ছে। কেউ অফিস আদালতে কাজকর্ম করতে পারছে না। জেলা কোটা আছে, কিন্তু জেলায়-জেলায় যে বিশ্ববিদ্যালয় সেখানেও তারা রাস্তায় নেমে গেছে। জেলায় যারা তারাও চায় না কোটা থাক, যখন কেউই চায় না, কোনো কোটাই থাকবে না। ঠিক আছে, বিসিএসে যেভাবে পরীক্ষা হবে, মেধার মাধ্যমে সব নিয়োগ হবে। এতে আর কারো আপত্তি থাকার কথা নয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো শ্রেণি যেন বঞ্চিত না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমাদের সংবিধানে আছে, অনগ্রসররা যেন বঞ্চিত না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য একটা কোটা, মহিলাদের জন্য কোটা আছে। আগে মহিলাদের কী অবস্থা ছিল? আমি ১৯৯৬ সালে যখন সরকারে এসেছি তখন কী একজন মহিলাও সচিব ছিল? একজন মহিলাও কী হাইকোর্টে জজ ছিল? কোথাও ছিল না। এমনকি পাকিস্তানে জুডিশিয়ারিতে কোনো মহিলা ঢুকতে পারবে না, এ আইন ছিল। পরে জাতির পিতা সেই আইন পরিবর্তন করে মেয়েদের ঢোকার সুযোগ করে দেন। চাকরিতে মেয়েদের জন্য ১০ ভাগ কোটাও করে দেন। এখন দেখি আমাদের মেয়েরাও নেমে গেছে রাস্তায়, কোটা সংস্কার, কোটা সংস্কার চাই। সরকারপ্রধান বলেন, আমি ধরে নেব তারা কোটা চায় না। সেতুমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় মহিলা প্রতিনিধিরা বলে দিয়েছে তারা কোটা চায় না। কোটা ছাড়া পরীক্ষা দিয়ে চলে আসবে। খুব ভালো কথা। আমি তো খুশি। কারণ আমি নারীর ক্ষমতায়নে সব থেকে বেশি কাজ করেছি। আজকে সব জায়গায় নারীর অবস্থান আছে। তারা যখন চায় না, তা হলে আর দরকার কী? কোটা পদ্ধতিরই দরকার নেই। আর যারা প্রতিবন্ধী বা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী তাদের আমরা অন্যভাবে চাকরির ব্যবস্থা করে দিতে পারব। তারাও জয়েন করতে পারবে।
আন্দোলনকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোটা নিয়ে এই আন্দোলন তারা যথেষ্ট করেছে। ছাত্রদের বলব, এখন তারা ক্লাসে ফিরে যাক। আর এই ভিসির বাড়ি কারা ভেঙেছে, লুটপাট কারা করেছে, সেই লুটের মাল কোথায় আছে, কার কার কাছেÑ ওই ছাত্রদের খুঁজে বের করে দিতে হবে। সেই সঙ্গে ভাঙচুরের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের অবশ্যই বিচার হতে হবে। ইতোমধ্যে গোয়েন্দা সংস্থাকে জানিয়েছি, এটা তদন্ত করে বের করতে হবে। সেই ক্ষেত্রে আমি শিক্ষক-ছাত্রদের সহযোগিতা চাই। তিনি বলেন, এত বড় অন্যায় আমি কোনোমতে মেনে নিতে পারি না। আমাদের শিক্ষককে আমরা সম্মান করি। আমি প্রধানমন্ত্রী হই, যাই হই যখন শিক্ষকদের কাছে যাই, আমি তার ছাত্রী। সেভাবেই তাদের সঙ্গে আচরণ করি। গুরুজনকে অপমান করে শিক্ষা লাভ করা যায় না, সেটা প্রকৃত শিক্ষা হয় না। হয়তো একটা ডিগ্রি নিতে পারে। প্রত্যেককে অন্তত শালীনতা বজায় রাখতে হবে, নিয়ম মেনে চলতে হবে, আইন মেনে চলতে হবে।
আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা আমরা করে দিয়েছি, যাতে দেশের বাইরে গিয়েও সমান গুরুত্ব পায় শিক্ষার্থীরা। তার পরও আলোচনা হলো, একটা তারিখ নির্দিষ্ট করে দিল। মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে আমি দায়িত্ব দিলাম, কিন্তু সেই সময়টা দিল না।
আন্দোলন চলাকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাড়িতে হামলার বিষয়টিকে ‘ন্যক্কারজনক’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভিসির বাড়ি ভাঙচুরের ওই ছবি দেখে আমার মনে পড়ছিল ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আমাদের ৩২ নম্বরের বাড়ি যেভাবে ভাঙচুর করে, ঠিক একই কায়দায়। এমনকি সব লকার খুলে গয়নাগাঁটি চুরি করা, টাকা-পয়সা চুরি করা থেকে শুরু করে বাথরুমের কমোড খুলে রাখাÑ সবকিছু ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয়। ভিসি সামনে এসেছিলেন তার ওপর আঘাত পর্যন্ত করতে গেছে। যদিও অন্য ছেলেরা তাকে বাঁচিয়েছে। ভিসির ছেলেমেয়েদের ভয়ে লুকিয়ে থাকতে হয়েছে। একতলা, দোতলা সব একেবারে তছনছ। শুধু তাই নয়, সেখানে যে সিসি ক্যামেরা লাগানো ছিল তারা ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই তা ভেঙেছে এবং ক্যামেরা যেখানে রেকর্ড হয় সে বক্সটা পর্যন্ত সরিয়ে ফেলেছে। কত পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটায়। আমি, এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তারা ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হওয়ার উপযুক্ত নয়, তারা ওখানকার ছাত্র বলে আমি মনে করি না। কারণ কোনো শিক্ষার্থী তার শিক্ষককে এভাবে অপমান করতে পারে না। আর এভাবে আঘাত করতে পারে না। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা। সব থেকে জঘন্য ঘটনা ঘটিয়েছে। এর তীব্র নিন্দা আমরা জানাচ্ছি।
আন্দোলনকারীদের দাবি মেটাতে সরকারের উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা দাবি করেছে। খুব ভালো কথা আমরা তো বসে নেই। মন্ত্রিসভায় বিষয়টা আলোচনা করলাম। আমি মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে নির্দেশ দিলাম আপনি এটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করুন এবং যাকে যাকে দরকার তাকে নিয়ে বসে তাদের দাবির যৌক্তিকতা পরীক্ষা করুন। তাদের সঙ্গে বসে একটা সমঝোতা হলো, পরীক্ষা নিরীক্ষা হচ্ছেÑ এটা কীভাবে হবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নিজে যখন গণমাধ্যমে কথা বললেন, তিনি এটা বলেও দিলেন, আমি নির্দেশ দিয়েছি। অনেকে মেনে নিল, অনেকে মানল না। সারারাত অনেক ছাত্রছাত্রী টিএসসিতে থেকে গেল। কেন? যখন একটা আলোচনা হচ্ছে, তখন এই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার যৌক্তিকতা কী থাকতে পারে। আর তা ছাড়া ভিসির বাড়ি ভাঙা, রাস্তায় আগুন দেওয়া এমনকি চারুকলার পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রার সরাঞ্জামাদি পুড়িয়ে, ভেঙেচুরে তছনছ। এটা কী ধরনের কথা?
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মেয়েরা যে গভীর রাতে হল থেকে বেরিয়ে এলো। আমি সারারাত ঘুমাতে পারিনি। আমি সঙ্গে সঙ্গে নানককে পাঠিয়েছি। সে ওখানে গেল ছাত্রলীগের সভাপতি সাধারণ সম্পাদকসহ। কথা বলল। আমরা এটা নিয়ে দেখছি। তোমরা এভাবে ভাঙচুর করো না। তাদের ফিরে যাওয়ার কথা বলা হলো।
অন্দোলনকারীদের গুজব ছড়ানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ আমিই গড়ে তুলেছিলাম। আজকে ইন্টারনেট, ফেসবুক, ইউটিউব যাই ব্যবহার করা হচ্ছে সেগুলো আমাদেরই করা। বাংলাদেশকে আধুনিক প্রযুক্তি শিক্ষা দেব সেই শিক্ষা দিয়েছিলাম। কিন্তু সেই শিক্ষা গঠনমূলক কাজে ব্যবহার না হয়ে, এখন ব্যবহার হচ্ছে গুজব ছড়ানোর হাতিয়ার হিসেবে। একটা ছেলের মাথায় আঘাত লেগেছেÑ হঠাৎ একজন ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে দিল, সে মারা গেছে। সঙ্গে সঙ্গে ছেলেমেয়ে সব বেরিয়ে গেল। এমনকি মেয়েরা রাত ১টার সময় হলের গেট ভেঙে বেরিয়ে পড়েছে রাস্তায়Ñ শুধু একটা গুজবের ওপর। সেই ছেলেটা যখন বলল, আমি মরি নাই, বেঁচে আছিÑ তখন তাদের মুখটা থাকল কোথায়। তা হলে এই মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে স্ট্যাটাসটা কে দিল? কেন দেওয়া হলো? এই যে মেয়েরা বেরিয়ে এসেছিল, এর পর যদি কোনো অঘটন ঘটত তা হলে তার দায় কে নিত? এটা কি একবার কেউ চিন্তা করেছে।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close