আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
রাজনীতি

‘বেশি বাড়াবাড়ি ভালো নয়’

full_277870796_1400920579ওমেন আই: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘অবৈধ সরকারের বাজেট পাস করার অধিকার নেই। এই বাজেট গণ্য হবে না। এজন্য আজ না হয় কয়েকদিন পর জবাবদিহি করতে হবে। কারণ এই সংসদে জনপ্রতিনিধি নেই। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের ভোট কেন্দ্রে জনগণ যায়নি।’

শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আইনজীবীদের সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি এবং বিএনপির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া।

এই সমাবেশ সুপ্রিমকোর্ট চত্ত্বরে হওয়ার কথা থাকলেও পুলিশী বাধার কারণে তা প্রেসক্লাবে স্থানান্তর করা হয়। বেলা সোয়া বারেটার দিকে বেগম খালেদা জিয়া প্রেসক্লাবে এসে পৌঁছান। নির্ধারিত জায়গায় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত না হওয়ায় স্বল্প সংখ্যক আইনজীবীদের উপস্থিতিতে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বেগম খালেদা জিয়া বলেন, ‘ যেভাবে গুম, খুন হচ্ছে আমি বলেছি, আমি মানুষের পাশে আছি, এইজন্য তারা আমার পেছনে লেগেছে। আওয়ামী লীগ নানাভাবে মামলা দিয়ে ষড়যন্ত্র করছে যাতে আমাকে আটকানো যায়। কিন্তু আমি কিছুর ভয় পাই না।’
নারায়ণগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর এবং ফেনীর ঘটনায় অবিলম্বে সকল দোষীদের গ্রেপ্তার জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, ‘ টেলিফোন কথোপকথনে সব ফাঁস হয়ে গেছে। ফেনীতে দুই হাজারী পরস্পরকে দোষারোপ করছে। কাউকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। গ্রেপ্তারকৃত র‌্যাব সদস্যদের জামাই আদরে রাখা হয়েছে। রিমান্ডে তাদের জিজ্ঞাসা করলে সরকারের গোপন তথ্য ফাঁস হয়ে যাবে।’

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘এখনও অনেকে ভাবে বিএনপি কেন কর্মসূচি দেয় না, দিবো সময় মতো দিবো। কারণ এরা জনগণের কাছে পঁচে গেছে। জনগণের কাছে দুই পয়সার দাম নেই। আমরা সুযোগ দিয়েছি। জনগণের কাছে আরেকটু পচুক, আরেকটু গলুক, এদের সময় ঘনিয়ে এসেছে। এদেরকে আরেকটু পঁচতে দিতে হবে। মানুষের একটু কষ্ট হবে। সবাই যখন বেরিয়ে আসবে তখন তারা আপনাদের কাছে আত্নসমর্পণ করবে। যারা অবৈধ অস্ত্র দিয়ে অপকর্ম করছে তারা মাফ পাবে, কিন্তু যারা করাচ্ছেন তারা মাফ পাবেন না।’

খালেদা জিয়া বলেন, আজ অনেক আ্ইনজীবীকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অনতিবিলম্বে তাদের মুক্তি দিতে হবে।
মানুষ যেমন র‌্যাবের নাম শুনলে আতঙ্কিত হয়। এই সরকার বিএনপির জনসভার কথা শুনলে আতঙ্কিত হয়। বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত।’

তিনি বলেন, র‌্যাবের কারণে সশস্ত্র বাহিনীর ভাবমূতি নষ্ট হচ্ছে। এরা আর বিদেশ যেতে পারবে না। আমরা নিজেরাই বলবো র‌্যাব বিদেশ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এসে দেশের মানুষ খুন, গুম করছে।’

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আমরাতো এখনো আন্দোলন শুরুই করিনি। শুধু মাত্র শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করছি। আপনারা এতো টাকা বানিয়েছেন। তা ভাগাভাগি নিয়ে নিজেরা মারামারি করছেন। আল্লাহর একটা বিচার আছে।’

তিনি বলেন,‘ ভয়ে আজকে সরকার জাতীয়তাবাদী দলকে সমাবেশ করতে দেয় না। তাদের পায়ের নিচে মাটি নেই। আইনজীবী নেতাদের সুপ্রিম কোর্টের সমাবেশে ঢুকতে দেয়া হয়নি। গেটে তালা দিয়েছে। এর আগে ২২তারিখেও সমাবেশ করতে দেয়নি। আমাদের কাছে বৈধ অনুমতি ছিলো। তারা এতো দুর্বল তারা মানুষকে ভয় পায়।’
খালেদা জিয়া বলেন, ‘পুলিশের বন্দুকের জোরে তারা ক্ষমতায় টিকে আছে। যারা টাকার বিনিময়ে মানুষ খুন করে। তাদের দিয়ে এই সব করানো হচ্ছে। তাদের ওপর ভরসা করে টিকে আছে। এ অবস্থায় বেশি দিন চলতে পারে না।’
খালেদা জিয়া বলেন, ‘অতি বাড়াবাড়ি ভালো নয়, তিনি বলেন, কথায় আছে অতি বাড় বেড়োনা ঝড়ে পড়ে যাবে, অতি ছোট হলে ছাগলে খেয়ে ফেলবে। আপনাদের ছাগলে খেয়ে ফেলবে।’
সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে গণতেন্ত্রর কথা বলা হয়, কিসের গণতন্ত্র ? কোথায় গণতন্ত্র ? আইনের শাসন, কোথায় আইনের শাসন ? কোথায় সুশাসন ? মানবাধিকার পদে পদে লঙ্ঘিত হচ্ছে। বিচার বিভাগ দুই রকমের। সরকারি দলের জন্য একরকম। আর সাধারণ মানুষ বা বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা অপরাধ না করলেও শাস্তি পেতে হবে। আর সরকারি দলের লোকজন খুন করলেও তারা পার পাচ্ছে। আমরা আইনের শাসন চাই, সুশাসন চাই। উন্নয়ন, দারিদ্র বিমোচন চাই।

সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহাবুব হোসেন, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহাবুব উদ্দিন খোকন, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

ঢাকা ২৪ মে (ওমেন আই)এলএইচ//

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close