আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
লাইফ স্টাইল

উৎসবে অলঙ্কারের সাজে

ওমেনআই ডেস্ক : এখন থেকেই শুরু হয়েছে ঈদের কেনাকাটা। ঈদে পছন্দের পোশাকের সঙ্গে চাই মানানসই অলঙ্কারও। তবেই না পূর্ণতা পাবে আপনার উৎসবের সাজ। গহনা এখন আর শুধুই শখ নয়, ফ্যাশনের অন্যতম অনুষঙ্গও।
একটা সময় ছিল, যখন ঈদের পোশাক কেনা শেষে কিংবা ঈদের কেনাকাটার বাজেট অবশিষ্ট থাকলে পোশাক মিলিয়ে গহনা কেনা হতো। এখনো তাই হয়। তবে এখন এমনও হয়, শুধু গহনা মিলিয়েও কখনো কখনো পোশাক কেনা হচ্ছে। অর্থাৎ ঈদে গহনাটা এখন গুরুত্ব পায় প্রথম থেকেই। আর ঈদ উপলক্ষে কেনা এক সেট শৌখিন গহনা তো আর শুধুই ঈদের জন্য নয়, বিয়ের অনুষ্ঠান, গেট টুগেদার কত অনুষ্ঠানের জন্যই না তা যতœ করে তুলে রাখা হয়। তাই ঈদ উপলক্ষে গতানুগতিক ধারার বদলে একটু ভিন্ন কিংবা শৌখিন গহনার খোঁজ করেন অনেকেই। চলতি ফ্যাশনে গহনার উপকরণে শুধু পরিবর্তন আসেনি, নকশা এবং ধরনেও পরিবর্তন এসেছে অনেক। গহনায় যোগ হয়েছে ডিজাইনার ভাবনা। ঐতিহ্য আর আধুনিকতার মিশেলে এসেছে নতুনত্ব।

সোনার পাশাপাশি অ্যান্টিক, মেটাল, গোল্ড প্লেটেড, কপার, পিতল, সিলভার ধরনের গহনার এখন চাহিদা বেশি। ভারী গহনার বদলে ব্যবহার হচ্ছে হালকা-পাতলা কিন্তু গর্জিয়াস ধরনের গহনা। স্টোন সেটিংয়ে ব্যবহার হচ্ছে কুন্দন, গার্নেট, মুক্তা, পুঁতি প্রভৃতি। ফ্যাশনেবল গহনার তালিকায় যোগ হয়েছে চোকার, কলার চোকার, বাউটি, লেয়ার চেইন, ঝোমকা, জ্যামিতিক, চাঁদ, পাশা, চৌকা শেপ কানের দুল, কানবালি প্রভৃতি।
হাল ফ্যাশনে গহনার টেন্ড সম্পর্কে জুয়েলারি ডিজাইনার ও কনক : দ্য জুয়েলারি প্যালেসের স্বত্বাধিকারী লায়লা খায়ের কনক জানান, ‘ট্রেডিশনাল এবং ট্রেন্ডির মিশেলে তৈরি হওয়া গহনার প্রতি এখন ফ্যাশনসচেতনদের আগ্রহটা বেশি। আমার নিজেরও এ ধরনের গহনা ভালো লাগে। গহনার ধরন ট্রেন্ডি কিন্তু নকশা ট্রেডিশনাল আবার ট্রেডিশনাল গহনায় ব্যবহার হচ্ছে নতুন কোনো নকশা। গহনার নকশায় মিসরীয় সভ্যতা, ৫০০ বছর আগের নকশা কিংবা ঐতিহাসিক নকশাগুলো তুলে আনার চেষ্টা করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘জড়োয়া, নেকলেসের চেয়ে লেয়ার চোকার, কলার চোকার, রতনচূড়, লেয়ার চেইন, ব্রেসলেট, বাউটি, পয়সা নকশার মালা, মাঝারি নোজ পিন, বড় টিপ এ ধরনের গহনার চাহিদা বেশি। অনেকেই দেখা যায় এখন অন্য কোনো গহনা না পরে শুধু একটা লেয়ার চোকার পরছে। এটা একই সঙ্গে গর্জিয়াস ও হালকা। রতনচূড়ও এখন বেশ জনপ্রিয়। বিয়ের সেই ভারী রতনচূড় নয়, আধুনিকতার ছোঁয়ায় রতনচূড় এখন ব্রেসলেটের সঙ্গে টানা চেইন দিয়ে এক আঙুলের আংটির সঙ্গে আটকে দেওয়া হচ্ছে।’
ন্যাচারাল পাথরের গহনা খুব ঝকমকে না হলেও এখনকার ট্রেন্ডে বেশ জনপ্রিয়। ফ্যাশনে এখন গোল্ড পলিশ, অ্যান্টিক পলিস, মেটাল, পিওর সিলভার, মিক্স সিলভার, কপার, স্টোন, পার্ল বেইজ বিভিন্ন ধরনের উপকরণের গহনা জনপ্রিয়। গোল্ড প্লেটেড, সিলভার, মেটাল গহনার চকচকে রঙটা নয়, বরং এসব গহনার একটু অফ কালার যেমন কপার, অ্যান্টিক, অক্সিডাইজ, রোজ গোল্ড ধরনের কালারগুলো বেশ জনপ্রিয় এবং গহনার এই রঙরূপ ভিন্ন আবেদনও তৈরি করে বলে জানান কনক।
দুই হাতে চুড়ির রিনিঝিনি এখনকার ফ্যাশনে আর আগের মতো নেই বললেই চলে। বরং এখন এক হাতে ব্রেসলেট, বালা বা বাউটির চল বেশি। অন্য হাতে থাকছে ঘড়ি বা আংটি। পাথর বসানো গোলাপ বালা ছাড়াও জ্যামিতিক নকশার বালা পাওয়া যাবে। কেউ চুড়ি পছন্দ করলে এক হাত ভরে চিকন চুড়ি পরতে পারেন। পাশ্চাত্য ধাঁচের পোশাকের সঙ্গে প্রাচ্যের গয়না মানাবে কি? নিশ্চয়ই মানাবে, যদি মানিয়ে নেওয়ার প্রয়াস থাকে ঠিকঠাকÑ বলেন লায়লা খায়ের কনক। পোশাক ও গহনার নিখুঁত যুগলবন্দি তৈরিতে তার পরামর্শ হচ্ছে, আপনি গহনা না পোশাক কোনটিকে ফোকাস করতে চাচ্ছেন, সেটা আগে ভেবে দেখুন। যদি গহনাটাকে ফোকাস করতে চান, তবে হালকা নকশার কোনো পোশাকের সঙ্গে গহনাটি পরুন। হাইনেক গলার পোশাকের সঙ্গে গলায় নয়, কানে বড় একটা দুল পরুন। হালকা কাজের সিল্ক, কাতান, মসলিন শাড়ির সঙ্গে জমকালো গহনা ঈদে পার্টি লুক আনবে। ঈদের সকালে নীল শাড়ির সঙ্গে পার্ল সেটিং গহনা, লাল জরি পাড়ের সুতি শাড়ির সঙ্গে গোল্ডেন কালার গহনা চমৎকার লাগবে। লাল, কালচে ধরনের রঙের সঙ্গে সিলভার, কপার, কালো ধরনের রঙও বেশ লাগে। এ ধরনের রঙগুলো অর্থাৎ অফ কালারগুলো পাশ্চাত্য পোশাকের সঙ্গেও মানিয়ে যায়। খুব ভারী নেকলেসের পরিবর্তে এসব পোশাকের সঙ্গে শুধু চেইনের হালকা নেকলেস বা মালা পরা যায়। তবে গহনা যাই পরুন না কেন, তার আগে পরিবেশ, পোশাক, আরমদায়কতা এবং ট্রেন্ডের বিষয়টি মাথায় রাখুন।
মাদুলি, আড়ং, পিরান, যাত্রা, বিবিয়ানা, দেশাল, বিশ্বরঙে পাবেন দেশীয় উপকরণে তৈরি ভিন্ন ধারার গহনা। অনলাইনভিত্তিক জুয়েলারি শপ সিক্স ইয়ার্ডসে পাবেন বড় ফুলেল নকশায় তৈরি বড় আংটি। ছবিও বসানো রয়েছে এসব আংটিতে। পাওয়া যাবে নকশিকাঁথার ছোট টুকরার বিভিন্ন ধরনের লেখা নকশার গহনা। অনলাইন শপ জাসিয়ায় পাওয়া যাবে বিভিন্ন ধরনের ন্যাচারাল পাথরের গহনা। এ ছাড়া বিভিন্ন শপিংমল এবং মার্কেট থেকে পছন্দের গহনা বেছে নেওয়ার সুযোগ তো রয়েছেই।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close