আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
স্বাস্থ্য

মাথা টাক হওয়ার কারণ

ডা. এসএম বখতিয়ার কামাল

একজন মানুষের মাথায় গড়ে লাখ থেকে দেড় লাখ চুল থাকে এবং প্রতিটি চুল গড়ে ২ থেকে ৮ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে। তবে জানার আগে বলে দিই বংশগত ও হরমোনজনিত কারণ ছাড়া মাথার চুল পড়লে মনে করবেন আপনার যে কোনো একটি অসুখের লক্ষণ হিসেবে চুল পড়ছে। কেননা চুল পড়া অনেক সময় অন্য অসুখের লক্ষণ হিসেবেও দেখা যায় এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এ রোগের নাম অ্যালোপেসিয়া বা টাক জাতীয় অসুখ।
একটা চুল গড়ে ২ থেকে ৬ বছর পর্যন্ত বাঁচে এবং যখন এই চুলটি মরে যায়, তখন সেই জায়গায় আবার নতুন চুল গজায় নির্দিষ্ট চক্রের মাধ্যমে। এই চক্র আবার তিনটি পর্যায়ে ভাগ করা হয়। অ্যানাজেন, ক্যাটাজেন ও টেলোজেন। চুল বৃদ্ধির মূল কাজটি হয় অ্যানাজেন পর্যায়ে থেকে, যা সাধারণত ২ থেকে ৬ বছর পর্যন্ত হতে থাকে।
চুলের বৃদ্ধি ১.২৫ সেন্টিমিটার প্রতিমাসে অথবা ১৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত এক বছরে বাড়ে কিন্তু বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে চুলের এই বৃদ্ধির হার কমতে থাকবে। প্রতিটি চুল টেলোজেন পর্যায়ের পর পড়ে যায় এবং এই পড়ার হার হচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০টি প্রতিদিন। আমাদের মাথার প্রায় ৮৫ শতাংশ চুল অ্যানাজেন পর্যায়ে থাকে। প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ চুল টেলোজেন পর্যায়ে থাকে এবং এর পরেই শুরু হয় টেলাজেন প্রক্রিয়া, যা ২ থেকে ৪ মাস পর্যন্ত হয়। টেলোজেন পর্যায়ের পর একটি চুলের গোড়ায় নতুন চুলের আবির্ভাব ঘটে এবং পুরনো চুলটি পড়ে যায়। হরমোনের কমবেশি হওয়ার কারণে চুল উঠে যেতে পারে। যেমন থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা কম বা বেশি হলে, গর্ভবতী অবস্থায় এবং সন্তান জন্মের পর হরমোনাল ভারসাম্য পরিবর্তিত হয় বলে তখন চুল বেশি পড়ে নারীদের। হরমোনের এ পরিবর্তন আবার আগের অবস্থায় ফিরে গেলে পুনরায় চুল গজায়। তবে তা আগের অবস্থায় যেতে এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। কিছু কিছু ওষুধের কারণে কোনো কোনো ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় চুল পড়তে পারে। যেমনÑ জন্মনিয়ন্ত্রণের বড়ি হঠাৎ করে সেবন ছেড়ে দেওয়া, প্রেসারের ওষুধ, রক্ত তরলীকরণের ওষুধ, হরমোন, মানসিক অসুস্থতার ওষুধ ইত্যাদি। এ ছাড়াও কিছু অসুখে, যেমনÑ অ্যানিমিয়া, টাইফয়েড, জন্ডিস, ম্যালেরিয়া, ডায়াবেটিস, ভিন্ন ধরনের চর্মরোগ বা মাথার খুশকি ইত্যাদিতে চুল পড়ে যেতে পারে। অনেক সময় অসুখ ভালো হওয়ার পরও চুল আর আগের অবস্থায় ফিরে যায় না।
বংশগত কারণে পুরুষের চুল পড়া স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে মেনে নিলে আর অন্য তেমন কিছু করার দরকার আছে বলে মনে করি না। বয়োবৃদ্ধির সঙ্গে চুল কমতে থাকবেÑ এটা অবধারিত পরিবর্তন। তবে কতটা বা কী হারে চুল পড়ছে, সেটি বিবেচ্য বিষয়। বয়স বাড়তে থাকার সঙ্গে চুল কমতে থাকাটা আপনার মনের চাপ বৃদ্ধি করলেও এটি একটি নির্দিষ্ট পর্যায় পর্যন্ত অসুখ বলার কোনো উপায় নেই। নারীদেরও চুল ক্রমে কমতে থাকে। বংশগত টাক বা অ্যান্ডোজেনিক অ্যালোপেসিয়া স্বাভাবিক চুল পড়বেই; একটু বেশি দ্রুত হারে। অ্যান্ডোজেনিক টাকের দুটো প্রধান উপাদান হলো জেনেটিক প্রভাব ও পুরুষ যৌন হরমোন। পুরুষের চুল পড়ার জেনেটিক প্রভাব বেশ জটিল। অনেকগুলো পারস্পরিক ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত। বিস্তারিত জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো। তিনি আপনাকে বিস্তারিত ধারণা দিতে পারবেন।
লেখক: সহকারী অধ্যাপক, চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগ, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল
চেম্বার : কামাল স্কিন সেন্টার, গ্রিন রোড, ঢাকা ০১৭১১৪৪০৫৫৮

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close