আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
আন্দোলন সংগ্রামে নারী

মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতিতনারীদের পুনর্বাসন করে চলেছেন মালেকা

maleka-ওমেন অাই:বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট সংগঠক মালেকা খান। সারা জীবন কাটিয়ে দিয়েছেন অবহেলিত, সুযোগবঞ্চিত, অসহায় মানুষের কল্যাণে। বিশেষ করে অধিকার ও নিরাপত্তাহীন নারীসমাজের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন সবসময়।

নীরবে-নিভৃতে কাজ করতে পছন্দ করেন মালেকা খান। আমাদের গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধে তিনি নিজের ছোট ভাইসহ অনেক আপনজনকে হারিয়েছেন। কিন্তু সেই মুক্তিযুদ্ধকে এগিয়ে নিয়ে যেতে শুরু থেকেই প্রবল বাধা অতিক্রম করে তিনি অগ্রসর ভূমিকা রেখেছেন। শুধু বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রেখেই থেমে যাননি তিনি, যুদ্ধপরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধে নির্যাতিতনারীদের পুনর্বাসন করে এক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৯৭২ সালের জানুয়ারিতে তিনি গঠন করেন কেন্দ্রীয় মহিলা পুনর্বাসন কেন্দ্র। নিজেই এই প্রতিষ্ঠানের পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণ করে এক অনন্য সাধারণ ভূমিকা পালন করেন।

১৯৭১ সালে ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের পুনর্বাসনের জন্য যখন সোনারগাঁ প্রকল্প প্রতিষ্ঠিত হয়, তিনি সেখানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। সে সময়ের সেই দুঃসহ স্মৃতি আজও তাকে আলোড়িত করে।

স্মৃতিতাড়িত মালেকা খান নারী পুনর্বাসন কেন্দ্রের নেয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে বলেন, ’৭৪ সাল পর্যন্ত পাঁচ হাজারের বেশি নারীকে অবাঞ্ছিত মাতৃত্বের অভিশাপ থেকে মুক্ত করেছি, অনেক নারীকে নিজ বাড়িতে ফেরার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। ৪০-এর বেশি শিশুকে দেশের বাইরে দত্তক দেয়ার ব্যবস্থা আমিই করেছিলাম। পাঁচশ’ নারীর জন্য চাকরির ব্যবস্থা করা হয়েছিলো এবং অনেক আহত নারীকে অস্ত্রোপচারের পর কৃত্রিম পা সংযোজন করে দেয়া হয়েছিল। এ ছাড়া এই নারীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা, মা-বাবাহারা বহু ছেলেমেয়ের পড়াশোনার ব্যবস্থা, আয়মূলক কর্মসূচির প্রশিক্ষণসহ নানা কর্মসূচি নেয়া হয়েছিল।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এই দেশকে মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তিনি অবহেলিত খাতগুলোর প্রতি বেশি নজর দিয়েছিলেন। তিনি বেছে নিয়েছিলেন শিল্প- বাণিজ্য খাতকে। সফলভাবে এই খাতেরএকটি প্রজন্মের নেতৃত্বও দিয়েছেন।

তিনি শিল্পপতি এবং ব্যবসায়ী কেন্দ্রীয় চেম্বারের প্রথম নারী প্রতিনিধি। প্রথম নারী তিনি অনেক ক্ষেত্রেরই। নিজের এলাকায় প্রথম নারী মাস্টারস ডিগ্রিধারী এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় গড়ে তোলা সিভিল ডিফেন্সেরও প্রথম উদ্যোগী কর্মী তিনি। তিনি কারাগার থেকে ছাড়া পাওয়া মানুষদের পুনর্বাসনের জন্য কাজ করেছেন। পাশাপাশি তার এলাকা নরসিংদীর শিবপুরকে ‘সুবর্ণ রেখা কানন’ নামে ফুল-ফল, সবজি এবং বৃক্ষরাজি দিয়ে সাজিয়েছেন।শিল্প-বাণিজ্যের সফল উদ্যোক্তা হয়েও তিনি ব্যবসায়ী হতে চাননি।

তার ভাষায়, ‘আমি চেয়েছি একজন সংগঠক হতে, একজন মানুষ হতে।’

ঢাকা ২৭ মে (ওমেন আই)এলএইচ//

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close