আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
সারাদেশস্লাইড

রোহিঙ্গাদের ফেরাতে প্রয়োজন রাজনৈতিক সমাধান

ঢাকায় জাতিসংঘ মহাসচিব ও বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্টের যৌথ সংবাদ সম্মেলন

ওমেনআই ডেস্ক : রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত যাওয়ার জন্য রাজনৈতিক সমাধান ও দায়বদ্ধতা দুটোরই প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সফররত জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে গতকাল ঢাকায় ফিরে পাঁচ তারকা একটি হোটেলে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিমও এ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন। আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, রোহিঙ্গাদের পূর্ণ মর্যাদা নিয়ে ফেরত যাওয়ার জন্য রাজনৈতিক সমাধান ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক সমাধান খুব পরিষ্কার। মিয়ানমার সরকার এবং তাদের সামরিক বাহিনীকে রাখাইনে একটি পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে রোহিঙ্গারা ফেরত যেতে পারে। অন্যদিকে বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারে সব উন্নয়ন কর্মকা- বন্ধ করে দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। মিয়ানমার সরকার যদি রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে এগিয়ে এসে রাখাইনে কোনো উন্নয়ন কর্মকা- পরিচালনা করতে চায় তবেই দেশটিকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা করবে বিশ্বব্যাংক।
সংবাদ সম্মেলনে আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, বিশ্ব সম্প্রদায়ের উচিত মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ করা। যাতে রোহিঙ্গারা নিরাপদে ও মর্যাদাপূর্ণভাবে স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে। এ সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা এই রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে হত্যা আর ধর্ষণের যে বিবরণ শুনেছি সেটা অকল্পনীয়। রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা সন্তোষজনক নয়।
জাতিসংঘের মহাসচিব আরও বলেন, বিষয়টি জাতিসংঘ প্রথম থেকেই পর্যবেক্ষণ করছে। রোহিঙ্গাদের জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়কে আরও জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে। নাগরিক হিসেবে পূর্ণ অধিকার ছাড়া মিয়ানমার কখনো রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ হবে না। সব অধিকার নিয়েই নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় বলে রোহিঙ্গারা আমাদের জানিয়েছে।
গত ৮ জুন মিয়ানমার ও জাতিসংঘের মধ্যে যে সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরিত হয়, সেখানে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের প্রশ্নটি উপেক্ষিত হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব আদায়ের প্রথম ধাপ জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচআর) সঙ্গে মিয়ানমারের ‘সমঝোতা চুক্তি’। আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে একটি প্লাটফর্মে পৌঁছলাম। যেহেতু মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের বাঙালি মুসলমান হিসেবে চিহ্নিত করতে চায়। তাই আমরা এ নিয়ে প্রাথমিকভাবে কিছু বলিনি। বিষয়টি সামনের দিকে ঠিক হয়ে যাবে। তবে এর জন্য ধৈর্য ধরতে হবে। রোহিঙ্গারা বিশ্বে সবচেয়ে বৈষম্যের শিকার জনগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে অন্যতম। মিয়ানমারে পরিকল্পিতভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে। এ অবস্থা এভাবে চলতে পারে না। এর একটা সমাধান করতে হবে।
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম বলেন, বাংলাদেশ মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। পৃথিবীর সবচেয়ে বঞ্চিত জনগোষ্ঠী হলো রোহিঙ্গারা। তাদের না আছে দেশ, না আছে জাতীয়তা। তাদের অবস্থার পরিবর্তন করতে হলে আন্তর্জাতিক সমাজের চাপ অব্যাহত রাখতে হবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জিম ইয়ং কিম বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য বিশ্বব্যাংক ইতোমধ্যে ৪৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা করেছে। তবে সেই সহায়তা অপ্রতুল। আমরা চেষ্টা করব তাদের জন্য আরও কিছু করার। বাংলাদেশ সরকারকে তিন বিলিয়ন ডলার নিম্ন সুদে ঋণ দেওয়া হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হবে।
এর আগে সকালে বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তারা কক্সবাজারে পৌঁছান। কক্সবাজার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে তাদের দুখঃ-দুর্দশার কথা শোনেন। এ সময় তাদের সঙ্গে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, জাতিসংঘ শরণার্থীবিষয়ক বৈশ্বিক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের প্রধান ফিলিপ্পো গ্রান্ডি এবং জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিলবিষয়ক নির্বাহী পরিচালক ড. নাতালিয়া খানেমসহ জাতিসংঘের অধীন বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা। সংবাদ সম্মেলন শেষে গতকাল রাতেই পৃথক ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করেন জাতিসংঘ মহাসচিব ও বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট।
বঙ্গবন্ধুর বড় অর্জন মানুষের ভালোবাসা
এদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মন্তব্য করেছেন, ‘বঙ্গবন্ধুর বড় অর্জন মানুষের ভালোবাসা।’ গত রবিবার বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন শেষে মন্তব্য বইয়ে তিনি এমনটাই লেখেন। এর আগে তিনি ধানম-ির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন এবং স্মৃতি জাদুঘর ঘুরে দেখেন।
পরিদর্শন শেষে মন্তব্য বইয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস লেখেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু জাদুঘর পরিদর্শন করতে এসে অভিবাদন জ্ঞাপন করছি এবং নিজেকে ধন্য মনে করছি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনের বড় অর্জন হচ্ছে মানুষের ভালোবাসা এবং শেষ দিন পর্যন্ত জাতিসংঘের অকুণ্ঠ সমর্থন পাওয়া।’
জাদুঘর পরিদর্শনের সময় বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিমও উপস্থিত ছিলেন। তবে এবার অবশ্য জিম ইয়ং কিম কোনো মন্তব্য লেখেননি।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close