আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
খেলাধুলাস্লাইড

সেই নেইমার সেই ব্রাজিল

ওমেনআই ডেস্ক : হলুদের উচ্ছ্বাসে প্রাণের দোলা দেখা গেল। এই ব্রাজিলকে খুঁজে ফিরতে হয়েছে। সেসময় এখন অতীতের কোনো কুঁড়েঘরে পড়ে আছে। নেইমার খেলছেন, খেলাচ্ছেন। কোটিনহো-উইলিয়ান-ফিরমিনো-জেসুস-পাওলিনহো ফুল হয়ে ফুটলেন। পায়ে-পায়ে, ছন্দে-ছন্দে ব্রাজিল সুন্দর ফুটবল উপহার দিয়ে কুড়ি আঠারো বিশ্বকাপের শেষ আটে পৌঁছে গেল। নেইমার প্রথমটির মতো দ্বিতীয়টিও পেতে পারতেন। ওচোয়াকে ব্যর্থও করেছেন। বলটি যখন ৮৮ মিনিটে পোস্টের ওপাশে চলে যাওয়ার উপক্রম তখন ফিরমিনোর বুটের চমৎকার
ছোঁয়ায় বল চলে যায় জালে। ২-০ গোলের জয়। এ ফল বলে না ব্রাজিল কী খেলেছে। আসলে ফল তো পুরো পারফরম্যান্স ব্যাখ্যা করতে ব্যর্থ!
ওচোয়ার ইস্পাতকঠিন মনোবল, জাভিয়ার হার্নান্দেজের চুল সাদা করা কিংবা লংপাসে খেলার পরও মেক্সিকোকে হেরে যেতে হলো। রাশিয়ায় অনেক মেক্সিকান সমর্থক এসেছেন। গ্যালারিতে ব্রাজিলের মতো তাদেরও উপস্থিতি ছিল। প্রিয় দলকে সাহস জুগিয়ে গেছেন। খেলা শেষে হাততালি দিয়ে অভিবাদন জানিয়েছেন। ব্রাজিলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে খেলেছিল তারা। কেন যেন! ওই কেন যেন-র এই মানে ফেভারিটরা দেখে ফেলেছে। দিনশেষে গোলব্যবধানই সব!
পরের অর্ধে ব্রাজিল একেবারে ক্ষুধার্ত বাঘ হয়ে যায়। ৫১ মিনিটে উইলিয়ান বক্সে বল বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। যে পায় এমনভাবে। নেইমার এই দফায় পেয়ে যান। বলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। বুটের ছোঁয়ায় বল জালে জড়িয়ে যায়। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় গোল ছিল এটি। এর আগে ৪৮ মিনিটে কোটিনহো শট নিয়েছিলেন। গোল হয়নি। ওই ওচোয়া রুখে দিয়েছেন। ২০১৪ বিশ্বকাপেও ওচোয়া এমন নৈপুণ্য দেখান। ৬১ মিনিটে পাওলিনহো বল পেয়েছিলেন। শটও নেন। তবে গোল হয়নি। মেক্সিকোর গোলরক্ষক অতন্দ্র প্রহরী!
প্রথমার্ধ শেষে বল পজিশনে মেক্সিকো এগিয়ে ছিল। ৫১ শতাংশ বল ছিল নর্থ আমেরিকার দেশটির। অবশ্য গোলে শট তিনটিই ব্রাজিলের। সব মিলিয়ে ব্রাজিলের শুরুটা নড়বড়ে ছিল। ছন্দে ফিরতে একটু সময় নিয়েছে। তবে ফিরেছে। আর যখন ফিরেছে তখন গ্যালারিতে গাইছে এক কিশোরীÑ ব্রাজিল ওলে, ওলে, ওলে।
মেক্সিকানো! মেক্সিকানো চিৎকারে প্রকম্পিত সামারা অ্যারেনায়। শোনা কথা নয়, ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মেক্সিকান সমর্থক রাশিয়ায় এসেছে বিশ্বকাপে দলকে সমর্থন দিতে। গ্রুপ পর্বের উদ্বোধনী ম্যাচে জার্মানি তো খেই হারিয়ে ফেলেছিল মেক্সিকানদের চিৎকারে। আজব ধরনের বাঁশিও নিয়ে এসেছে। এই গোলাকার ও সরু বাঁশির অদ্ভুত আওয়াজ। যেকোনো সুস্থ মানুষের ধৈর্য ধরে রাখা কঠিন। ব্রাজিল মার্সেলোকে প্রথম একাদশে রাখেনি। ফেলিপে লুইসকে নিয়েই মাঠে নেমেছে। ব্রাজিলিয়ানরা ফরমেশনেও পরিবর্তন আনে। ৪-২-৩-১ ফরমেশনে ব্রাজিলের খেলা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রথমার্ধে ব্রাজিলকে দেখে মনে হয়েছে তাড়াহুড়ো নেই। এই অলস পদার্পণে মেক্সিকো খেলার প্রথম মিনিটেই কাজ হাসিল করে ফেলেছিল। ব্রাজিলের গোলরক্ষক অ্যালিসন অবশ্য এ যাত্রায় রক্ষা করেন। ব্রাজিল যেন ঘুম থেকে উঠে দাঁড়ায়। তবে মেক্সিকো ও ব্রাজিলের আক্রমণ ছিল সমানে সমান। নেইমার দুই বার বক্সে প্রবেশ করে মেক্সিকান গোলরক্ষককে ফাঁকা পেয়েও গোল করতে পারেনি। বলে শট নিয়েছেন। তবে বড় জায়গা পাননি। শট নিয়েছেন তবে মেক্সিকোর গোলকিপার ওচোয়া রুখে দেন। কোটিনহো ও নেইমার জুটি গতকালও জমে উঠেছিল। ওয়ান টু ওয়ান খেলেছেন দুজনই।
ম্যাচের দশম মিনিটে হার্নান্দেজ গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন। অবশ্য অফসাইডের ট্র্যাপে পড়েন। ভাষ্যকাররা বলছিলেন খেলার প্রথম ১৫ মিনিট মেক্সিকোর ছিল। ব্রাজিল নিজেদের গুছিয়ে নিতে সময় নিয়েছে। ১৫তম মিনিটে লোজানো বক্সে প্রবেশ করে লুইসকে ফাঁকি দিয়ে বল দিয়েছিলেন হার্নান্দেজকে। হার্নান্দেজ বলটি রিসিভ করতে পারেনি। একেবারে চমৎকার বল ছিল। সামান্য ছোঁয়া দিলেই গোল হয়ে যেত। ব্রাজিল এবার তন্দ্রা থেকে উঠে দাঁড়ায়। নেইমার লেফট উইংয়ে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন। তবে মেক্সিকোর এই সময়ের মধ্যে আক্রমণ ভালো হয়েছে। তবে ব্রাজিলের ডিফেন্স বেশ কড়া নিরাপত্তায় ছিল।
২৫তম মিনিটে নেইমার সুযোগ একেবারে পেয়েছিল। জোরালো শটও নেন। এই প্রথম স্টেডিয়াম অবাক হয়ে দেখল। বল নিয়ে নেইমার এগিয়ে যাচ্ছেন, ডিফেন্স পিছিয়ে যাচ্ছেন, চকিতে পজিশন পরিবর্তন করে সামনে টান দিলেন। ওচোয়া দক্ষ না হলে ব্রাজিল গোল পেয়ে যেত। নেইমারের পায়ে যেন গোলাপ ফুল!
২৫ মিনিটের পর থেকে ব্রাজিলের প্রত্যাবর্তন ঘটে। ব্রাজিল একেবারে ব্রাজিল হয়ে খেলতে থাকে। রাইট উইংয়ে ছিলেন উইলিয়ান, মাঝে পাওলিনহো ও লেফটে নেইমার। কাসেমিরো শুধু বল মাঝমাঠ পার করে দিয়েছেন। কখনো নেইমার আবার কোটিনহো আক্রমণে গেছেন। তবে মেক্সিকোর ডিফেন্স সুশৃঙ্খল ছিল। ব্রাজিলের গোল মিসের মহড়া শুরু হয়। প্রথমার্ধ শেষে গোল হয়নি। তবে নেইমারের ওই দুটি সুযোগ পুড়িয়েছে সমর্থকদের। জেসুসের গোল না পাওয়া নিয়েও আফসোস থাকতে পারে। ৩৩ মিনিটে গোল মিস করেন। তবে দুটি দলই অবশ্য ভারসাম্য ধরে রেখে খেলতে থাকে। এমন ভারসাম্যে অবশ্য উত্তাপ টের পেয়েছে রক্ষণভাগ।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close