আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
উদ্যোক্তা

নার্সারিতে ভাগ্য বদল গুল রায়হানের

ওমেনআই ডেস্ক : এক সময়ের শখের নার্সারিই এখন তার আয়ের অন্যতম উৎস। বলছি নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের সুলপান্দী গ্রামের গৃহবধূ গুল রায়হানের কথা। সরকারি চাকরীর পাশাপাশি সবজিসহ বিভিন্ন ফসল ও গাছ লাগিয়ে তিনি শুধু নিজের ভাগ্যই বদল করেননি, পাল্টে দিয়েছেন গ্রামের চিত্র। দীর্ঘদিনের চেষ্টা আর স্বামীর ও সন্তানের প্রেরণায় তিনি এখন সফল নারী। তার এই সফলতার গল্প শুধু তার গ্রামে নয় ছড়িয়ে পড়েছে উপজেলা পর্যায়ে।
গুল রায়হান সুলপান্দী গ্রামের মিজানুর রহমানের স্ত্রী। গুল রায়হান পরিবার পরিকল্পনা অফিসের একজন মাঠ কর্মী। ছোট বেলা থেকেই ফল ও ফুলের গাছ রোপণ করা ছিল তার একটি শখ। এ শখকে তিনি ধরে রেখেছেন বিয়ের পরও। তাই তিনি স্বামীর বাড়ির আঙ্গিনায় বিভিন্ন গাছ রোপণ ও পুকুরে মাছচাষসহ নানা কাজ করে থাকেন। ১৯৯০ সালের দিকে তিনি তাদের বাড়ির জমিতে ফলের চারার সঙ্গে সঙ্গে ফুলের চারাও রোপণ করতে থাকেন। এভাবেই একটি ছোটখাট নার্সারি করার ইচ্ছা তার মনে দানা বেঁধে ওঠে। সেই থেকে শুরু। ক্রমেই তার নার্সারির পরিধি বাড়তে থাকে। এক সময় তার নার্সারিতে জন্মানো ফল ও ফুলের চারা তিনি বাজারজাত করতে থাকেন। উপজেলার বাজারগুলোতে গুল রায়হানের নার্সারির চারার অনেক কদর।
গুল রায়হান জানান, তার রয়েছে পুকুরে মাছ, জমিতে ধান ও বাগানে সবজি। কখনো তার কোন কিছু কিনে খেতে হয়নি। সব তার ঘরে রয়েছে বলেও তিনি জানান। এক সময় স্বামী-সন্তান বাঁধা দিলেও এখন তারা তাকে অনুপ্রেরণা দেয়।
তিনি আরও জানান, দুজন শ্রমিক প্রতিদিন তার নার্সারি পরিচর্যার কাজ করছে। নার্সারিতে উৎপাদিত চারা বিক্রি করে তার প্রতি মাসে ৩০-৩৫ হাজার টাকা আয় হয়।
গুল রায়হান বলেন, ‘আমি একদিন থাকবো না। যারা থাকবে তারা যেন বিষমুক্ত ফসল আবাদ করে। তারা যেন রোগমুক্ত জীবনযাপন করতে পারে। এ প্রক্রিয়া আশপাশের গ্রামসহ সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে হবে।’
উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ আব্দুল কাদির জানান, এ বছর উপজেলা চত্বরে আয়োজিত ফলদ ও বৃক্ষ মেলায় ১২ টি স্টলের মধ্যে একটি স্টল ছিল গুল রায়হানের। তিনি পুরুষের সাথে পাল্লা দিয়ে ফুল ও  ফলের গাছসহ নানা রকমের চারা বিক্রি করছেন। কৃষি অফিস থেকে গুল রায়হানকে উপযুক্ত পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। তিনি একজন সফল নারী উদ্যোক্তা। গুল রায়হান উপজেলা হর্টিকালচারে বিনামূল্যে একটি নার্সারিও করে দিয়েছেন।
Tags

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close