আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
জাতীয়

রাজধানীতে বস্তিবাসীদের জন্য ২০ তলা ভবন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

ওমেনআই ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন “বস্তিবাসীরা যেন একটু শান্তিতে বসবাস করতে পারে সেজন্যই তাদের বসবাসের জন্য একটু ভালো পরিবেশ দরকার”। রাজধানীর বস্তিগুলো বহুতল ভবনে প্রতিস্থাপিত হবে, যাতে নগরবাসী উন্নত ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে জীবনযাপন করতে পারে। ঢাকা মহানগরীর আধুনিকায়নে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে এমনটাই বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘রাজধানীতে কোনও বস্তি থাকবে না। এর স্থলে ২০ তলা করে ভবন গড়ে তোলা হবে। এখন যেমন বস্তিবাসী ভাড়া দিয়ে থাকেন, তেমনি তখন তারা এসব ভবনেও দৈনিক, সাপ্তাহিক এবং মাসিক ভিত্তিতে ভাড়া দিয়ে বসবাস করবেন।’

প্রধানমন্ত্রী রবিবার (১৯ আগস্ট) সকালে প্যান প্যাসিফিক হোটেল সোনারগাঁওয়ে দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগার প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন নানা প্রয়োজনে দরিদ্র মানুষকে রাজধানীতে আসতে হয়। আবার আমাদের দৈনন্দিন কাজেও এই শ্রমিক শ্রেণির প্রয়োজন পড়ে। তারা যেন একটু শান্তিতে বসবাস করতে পারে সেজন্যই তাদের বসবাসের জন্য একটু ভালো পরিবেশ দরকার।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বস্তিবাসী এখন বস্তিতে যে ভাড়া দিচ্ছেন সে ভাড়াতেই এখানে থাকবেন। অবশ্য তাদের ভাড়া দিয়েই থাকতে হবে। দেশের অর্থনীতির উন্নয়ন হচ্ছে। কাজেই তারাও যেন সেই ছোঁয়াটা পায় সেটা আমাদের দেখতে হবে। কেবল অবস্থাসম্পন্নদের জন্যই নয়, আমাদের উন্নয়ন সকলের জন্য।’

ঢাকা ওয়াসার ২০২৫ সালের মধ্যে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের অংশ হিসেবে খিলগাঁও এলাকায় এই দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগার প্রকল্পটি নির্মিত হচ্ছে। ঢাকার পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাকে একই পাইপলাইনে নিয়ে আসতে চীনের সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সরকার। রাজধানীর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর অংশ হিসেবে রাজধানীতে আরও ৪টি পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এতে পাগলায় বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় দুটি এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সহযোগিতায় রায়েরবাজার এবং উত্তরায় আরও দুটি পয়ঃশোধনাগার প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে।

অনুষ্ঠানে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট একটি ভিডিও উপস্থাপনায় জানানো হয়, ৩ হাজার ৩৭৭ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প ২০২০ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে। ২৪ হেক্টর জমির ওপর বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পে দৈনিক ৫০ কোটি লিটার পয়ঃবর্জ্য পরিশোধনের মাধ্যমে ৫০ লাখ নগরবাসীকে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

উপস্থিতদের মধ্যে এলজিআরডি এবং সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান, চীনের রাষ্ট্রদূত ঝাং জুয়ো এবং ওয়াসার ব্যবস্থপনা পরিচালক প্রকৌশলী তাকসিম এ খান বক্তৃতা দেন।

অন্যান্যের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও হুইপ এবং সরকারের পদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি ও আমন্ত্রিত অতিথিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বস্তি এলাকার পানির ব্যবস্থা আমি করছি, কিন্তু ঢাকা শহরের বস্তিগুলো এখন যে দুরবস্থার মধ্যে আছে সে বস্তি ঢাকা শহরে থাকবে না। আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি, মানুষ কেন এই মানবেতরভাবে জীবনযাপন করবে। তারাও তো মানুষ, তারা তো কোনও না কোনও কারণেই বস্তিতে আসে। তিনি প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর বস্তিবাসীর সঙ্গে কথা বলে জেনেছেন, এখানে কেউ আসেন কাজের খোঁজে, কেউ আসেন সামাজিক সমস্যার কারণে, কেউ আসেন সম্পত্তির দ্বন্দ্বে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৯৬ পরবর্তী সরকার গঠনের পরই সে সময়ই তিনি বস্তিবাসীকে নিজ গ্রামে পুনর্বাসনে ‘ঘরে ফেরা’ কর্মসূচি চালু করেন।

বস্তিবাসীর জন্য তাঁর সরকারের বহুতল আবাসন বাস্তবায়নের পরিকল্পনা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, সবাই ফ্ল্যাট বাড়িতে থাকবে আর আমার বস্তিবাসী থাকবে না, এটা কেমন কথা। বিদ্যুৎ, পানির প্রিপেইড মিটার থাকবে, তারা যতটুকু ব্যবহার করবে তার বিল দেবে। কারণ, শহর যত উন্নত হয় তার কাজের জন্য এ ধরনের কর্মীও লাগে। কাজেই তাদের জীবনমান যেন উন্নত হয় সেদিকেও ভালোভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কিছু পরিকল্পনা করেছে, যেগুলো তিনি দেখে দিয়েছেন। কাজও শুরু হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, ‘এভাবে সমগ্র ঢাকা এবং ঢাকা ছাড়াও পর্যায়ক্রমে যে পরিকল্পনা করা হবে তাতে জেলা, উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত পরিকল্পনা করেই আমরা কাজ করবো। ভবিষ্যতে যে উন্নয়ন হবে তার ছোঁয়া উচ্চবিত্তের পাশাপাশি এই খেটে খাওয়া নিম্নবিত্তরাও যাতে পায় তা নিশ্চিত করা হবে। কারণ, এই নিম্নবিত্ত খেটে খাওয়া মানুষের জন্যই আমার রাজনীতি, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

হাতিরঝিল প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে তাঁর সরকারকে ৬৮টি মামলা মোকাবিলা করতে হয়েছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনও কাজ করতে গেলেই এভাবে বাধা আসে এবং সেই বাধা অতিক্রম করেই আমাদের কাজ করতে হয়। তিনি বলেন, এখন থেকেই যদি আমরা সেই ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত পরিকল্পনা নিয়ে নিই, তাহলে ভবিষ্যতে আর সমস্যা হবে না।

ভূ-উপরিভাগের পানির ব্যবহার বাড়াতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঢাকা ওয়াসার কার্যক্রম আধুনিক ও গতিশীল করার লক্ষ্যে বিলিং সিস্টেমকে ডিজিটালাইজড করা হয়েছে। ফলে গ্রাহক সেবার মান বেড়েছে। বর্তমানে ওয়াসার সিস্টেম লসের পরিমাণ শতকরা ৪০ ভাগ থেকে কমে ২০ ভাগে নেমে এসেছে। অত্যাধুনিক ডিএমএ (ডিস্ট্রিক্ট মিটারড এরিয়া) প্রযুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সিস্টেম লস ৫ শতাংশ পর্যন্ত নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। এটির জন্য ঢাকা ওয়াসা সাউথ-ইস্ট এশিয়ার মধ্যে একমাত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে উন্নয়ন সহযোগীদের প্রশংসা অর্জন করেছে। তিনি বলেন, ঢাকা মহানগরীর পানি শোধনাগারগুলোর পানির উৎস মূলত চারপাশের নদী। নদীর তলদেশের বর্জ্য অপসারণের কাজ শুরু করার জন্য ইতোমধ্যে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

ঢাকা ওয়াসাকে একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁর সরকারের লক্ষ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যারা এখানে কাজ করবেন প্রত্যেককে এ কথা মনে রাখতে হবে, প্রত্যেক মানুষকে সেবা দেওয়ার মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে।’ সরকারি কর্মচারীদের বেতনভাতা বৃদ্ধি এবং আবাসন সুযোগ সৃষ্টির উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি চাইবো এখানকার কর্মরতরা যেন মানুষকে সেবা দেওয়ার বিষয়টার প্রতি লক্ষ্য রাখেন।’

প্রধানমন্ত্রী এ সময় হাতিরঝিলসহ রাজধানীর একটি বড় অংশে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগার প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টিকারীদের সতর্ক করেন।

সূত্র: বাসস

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close