আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
জাতীয়

কেনিয়ায় সন্তান জন্মদানের প্রথা বদলে যাচ্ছে

ওমেনআই ডেস্ক : কেনিয়ায় ১৫ বছর আগেও নবজাতক মৃত্যুর হার ছিল হাজারে ৭৪ জন। চলতি বছর সেটি কমে হাজারে ৫২ জনে নেমে এসেছে ঠিকই, তবে এটি যথেষ্ট নয় বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের গবেষণায় এমন তথ্য উঠে আসে।

দেশটিতে এই নবজাতক মৃত্যুর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয় সেখানকার প্রচলিত একটি প্রথাকে। যেখানে বাড়ির ভেতরে ধাত্রীর মাধ্যমে সন্তান জন্ম দিতে হয়।

নারীদেরকে এমন গৎবাঁধা বিশ্বাস থেকে বের করে তাদেরকে সচেতন করে তুলতে দেশটির বেশিরভাগ হাসপাতালে চালু করা হয়েছে বিশেষ প্রসূতি ইউনিট যা সেখানকার মায়েদের চিন্তাধারা বদলে দিয়েছে।

কেনিয়ার কাজিয়াদো প্রদেশের ইবিসিল শহরের মেলচিজেদেক হাসপাতালে কয়েকদিন আগে এক সন্তানসম্ভবা নারী ভর্তি হন।

সন্তান প্রসবের দুইদিনের মাথায় হাসপাতাল থেকে খালাস পান তারা। দুজন পুরোপুরি সুস্থ বলে জানান চিকিৎসকরা।

এই মা’কে সাধারণ ওয়ার্ডের বদলে রাখা হয়েছিল হাসপাতালটির বিশেষ প্রসূতি বিভাগ মানিয়াটায়।

মা ও শিশুর জন্য মানিয়াটার পরিবেশ বেশ আরামদায়ক।

মা ও শিশুর জন্য যে স্থানটি বেশ আরামদায়ক। এমনটিই জানান মা মিসেস ফেইট।

“এখান থেকে আমি অনেক ভাল অভিজ্ঞতা নিয়ে যাচ্ছি। যখন গর্ভ যন্ত্রণায় ছিলাম আমাকে কোন ধরণের বিরক্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি। এখানে মায়েদের গোপনীয়তার দিকটি খেয়াল রাখা হয়েছে।”

মানিয়াটার নার্সরাও তার প্রতি পূর্ণ মনোযোগ দিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন,’ মানিয়াটায় তাপমাত্রা এমন রাখা হয় যেখানে খুব ঠাণ্ডাও লাগেনা আবার গরমও না। এজন্য এই স্থানটি বেশ আরামদায়ক।”

একই হাসপাতালে ভর্তি হতে এসেছিলেন ২৪ বছর বয়সী ইভনসিয়ালেল নামের এই সন্তানসম্ভবা নারী।

তাকেও সরাসরি মানিয়াটা বিভাগে ভর্তি করা হয়। সুরক্ষিত ওই ওয়ার্ডেই চলে তার যাবতীয় পরীক্ষা নিরীক্ষা।

কেনিয়ার অনেক নারী হাসপাতালের পরিবর্তে বাড়িতে সন্তান জন্ম দিয়ে থাকেন।

মানিয়াটা বিভাগে গিয়ে দেখা যায় মিসেস ইভনের মতো আরও বহু অন্তসত্ত্বা নারীদের সেবা দিচ্ছেন এখানকার অভিজ্ঞ চিকিৎসক, যাকে সবাই মাসায়ে আন্টি বলে ডাকেন।

তিনি বলেন, “আমি সাধারণ ম্যাটারনিটি ওয়ার্ডে কাজ করেছি। তবে ওই ওয়ার্ড অনেক ঠাণ্ডা থাকতো। সেক্ষেত্রে মানিয়াটার ওয়ার্ডগুলো উষ্ণ আর আরামদায়ক।”

প্রতিটি হাসপাতালে আরও বেশি বেশি এ ধরণের বিভাগ চালু করা উচিত এবং এতে অনেক প্রাণ রক্ষা হবে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি জানান , “হাসপাতালে স্বস্তিকর পরিবেশ না পাওয়ায় এখনও অনেক পরিবার বাড়িতেই সন্তান প্রসবের ব্যাপারে আগ্রহী। তবে মানিয়াটার মতো বিভাগ খোলা হলে তারা হাসপাতালে আসতে আগ্রহী হবে।”

মেলচিজেদেক হাসপাতালের এই বিশেষায়িত প্রসূতি ওয়ার্ডগুলোয় নারীদের প্রিনাটাল ও পোস্ট নাটাল সেবা অর্থাৎ সন্তান ধারণের পর থেকে ভূমিষ্ঠ হওয়া পর্যন্ত সব ধরণের সেবা দিয়ে থাকে।

এখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্স এর গুরুত্ব সম্পর্কে বলেন, “এ ধরনের সুবিধা থাকায় এখনকার মায়েরা হসপিটালে নার্সের মাধ্যমে সন্তান ভূমিষ্ঠের ব্যাপারে আগ্রহী হচ্ছেন। এখন তারা আর বাসায় দাই মা দিয়ে সন্তান প্রসবের ঝুঁকি নিতে চান না। এতে শিশু মৃত্যুর হার কমেছে। কারণ তারা বুঝতে শিখেছে যে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে সবকিছু করলে মা ও শিশু দুজনই ভাল থাকবে।”

মিসেস ফেইট ও মিসেস ইভনের মতো এখন অনেক নারীই তাদের প্রসূতি সংক্রান্ত যাবতীয় চিকিৎসায় এসব আধুনিক হাসপাতালে আসতে আগ্রহী হচ্ছেন।

হাসপাতালে মা ও শিশুর যেকোন জটিল পরিস্থিতি সামাল দেয়ার সুবিধা থাকে।

তবে সবার এই সুযোগ নেই। এখনো অনেক নারীকে সমাজের প্রথা অনুযায়ী বাড়ির ভেতরে অরক্ষিত পরিবেশে সন্তান জন্ম দিতে হয়।

তবে তারাও মনে করে মানিয়াটাই হল সন্তান জন্ম দেয়ার সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা। এখানকার নার্সরাও ঠিক এমনটাই মনে করেন।

সেখানকার একজন নার্স জানান, “হাসপাতালে এই বিশেষ ইউনিটটি খোলার পর থেকে পাঁচজন মা তাদের সন্তান প্রসবের সেবা নিতে এসেছিলেন। সাধারণ ওয়ার্ডে আসার ক্ষেত্রে আমরা নারীদের এতো আগ্রহ দেখিনি।”

“তবে এটা ঠিক যে বাড়িতে সন্তান প্রসব মা ও শিশু দুজনের জীবনের জন্যই অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। জটিল পরিস্থিতি সামাল দেয়ার কোন ব্যবস্থা বাড়িতে থাকে না। যেটা কিনা হাসপাতালে পাওয়া অনেক সহজ।”

এ ধরণের গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প মায়েদের হাসপাতালমুখী করার ব্যাপারে আরও সচেতন করবে বলে আশা করেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এতে নবজাতক মৃত্যুর হার শূন্যের কোটায় নেমে আসবে বলে তাদের ধারণা।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close