আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
নারী নির্যাতনস্লাইড

পার্বতীপুরে ১০ বছরের কিশোরী ধর্ষিত, দেড় মাস পর মন্ত্রীর নির্দেশে মামলা

তারা গত বৃহস্পতিবার দুপুরে পার্বতীপুর আওয়ামী লীগের সভাপতি হাফিজুল ইসলাম প্রামানিকের বাসায় অবস্থানরত প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার এর নিকট বিচারপ্রার্থী হন।

মন্ত্রী ছুটিতে থাকা থানার ওসিকে মোবাইলে ফোনে মামলা রেকর্ড না করায় তিরস্কার করেন এবং কারন জানতে চাইলে তিনি (ওসি) কোন জবাব দিতে পারেননি।

অবশেষে মন্ত্রীর নির্দেশে শুক্রবার মামলা রেকর্ড করার পর আজ শনিবার (২৫ আগষ্ট) সকাল ১১টায় ধর্ষিতা কিশোরীকে ফরেনসিক পরীক্ষা করার জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় পার্বতীপুর মডেল থানা পুলিশ।

মামলার বাদী ও কিশোরীর পিতা সিরাজুল ইসলাম, প্রতিবেশী গোলাপ হোসেন, মোসলেম উদ্দিনসহ অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, কিশোরীটি ধর্ষণের পর থেকে গ্রাম্য টাউট আমজাদ, আবুল, কাশেম, বাচ্চু গং গ্রাম্য শালিশে সুবিচার পাইয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দীর্ঘসূত্রিতার আশ্রয় নেয়।

পরে বাদী তার মেয়ের ধর্ষণের বিচার না পেয়ে ঘটনার ১০দিন পর পার্বতীপুর মডেল থানায় ধর্ষণের অভিযোগ এনে গোবিন্দপুর (মাঝাপাড়া) গ্রামের মৃত তছির উদ্দিনের পুত্র ফয়জার হাকিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।

ওসি অভিযোগটি তদন্তের দায়িত্ব দেন এসআই আব্দুল হামিদকে। এসআই আব্দুল হামিদ তদন্ত শেষ করার পর মামলার বাদী ও স্বাক্ষীদেরকে মিমাংশা বৈঠকের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণের টাকা আদায় করে প্রস্তাব দেন। মিমাংশা না করলে প্রতিপক্ষরাও পাল্টা মামলা করলে বিপদে পড়তে হবে বলেও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। তারা মিমাংশা করতে অপারগতা প্রকাশ করলে এসআই হামিদ তাদেরকে স্পষ্ঠ জানিয়ে দেন, তাদের আর থানায় আসার প্রয়োজন নেই।

সিরাজূল ইসলাম ও প্রতিবেশী গোলাপ হোসেন আরও জানান, বিষয়টি থানার ওসি হাবিবুল হক প্রধানকে জানানো হলে তিনি বলেন, এখন ধর্ষণের কোন আলামত পাওয়া যাবেনা। তাই এখন মামল নাা করে ক্ষতিপূরণ নিয়ে মিমাংশা করে ফেলাই ভাল।

ধর্ষিতার পিতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দারোগাকে আসামী গ্রেফতার করার জন্য বললে দারোগা আব্দুল হামিদ শুধুই হাসে।

সংক্ষুব্ধরা জানায়, যেকোন ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করার পাশাপাশি তাৎক্ষনিক ভিকটিমের ফরেনসিক পরীক্ষা করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও এসআই হামিদ তা না করে ১৫/২০দিন বিলম্ব ঘটায়।

এভাবেই মামলা রেকর্ড করাকালীন পর্যন্ত গ্রাম্য টাউট ও থানা পুলিশ পৃথকভাবে মোট দেড়মাস বিলম্ব ঘটিয়ে ধর্ষণের আলামত বা প্রমাণাদি বিনষ্ঠ করার ষড়যন্ত্র করে।

তারা জানায়, পুলিশ মামলা রেকর্ড না করায় তারা বাধ্য হয়েই কিশোরীটিকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (দিমেক) ভর্তি করায়। দায়িত্বরত চিকিৎসকের প্রাথমিক পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ ফলাফলেও পাওয়া গেছে ধর্ষণের আলামত।

এখন পর্যন্ত ধর্ষণে অভিযুক্ত ফয়জার হাকিমকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে থানার ওসির মোবাইলে ফোন করলে তাকে পাওয়া যায়নি।

ওসি তদন্ত ফোনে বলেন, সিরাজুল ইসলামের দায়ের করা মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে, মামলা নং- ২৩। থানার কেউ তাদেরকে মিমাংসা করার পরামর্শ দেয়নি বরং বাদী ও আসামী পক্ষই গ্রাম পর্যায়ে মিমাংসা করতে তৎপর থাকায় এবং তাদের অনুরোধেই মামলা রেকর্ড করতে বিলম্ব ঘটে। মন্ত্রীর নির্দেশে তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করে এসআই আব্দুল হামিদকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

এসআই আব্দুল হামিদ বলেন, ঘটনার একমাস পর মামলার অভিযোগ দেয়া হয়। তাই বাদীকে বলা হয়েছে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যাবেনা। তখন তারা আদালতে মামলা করবেন বলে চলে যান। আমি বা থানার ওসি সাহেব মামলার মিমাংসা করা বা ক্ষতিপূরণ নিয়ে দেয়ার কথা বলিনি।

গত ৯ জুলাই রাতে ফয়জার কিশোরীটিকে ফুসলিয়ে নিয়ে গিয়ে নির্জন ও অন্ধকারাচ্ছন্ন জায়গায় ধর্ষন করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসময় মেয়েটির আর্তচিৎকারে লোকজন ফয়জারকে আটক করে। পরে লোকজনকে ধাক্কা মেরে সে পালিয়ে যায়।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close