আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
উদ্যোক্তাস্লাইড

মিনি গার্মেন্টে তাসলিমার ভাগ্য বদল

ওমেনআই ডেস্ক : নারায়নগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার হাইজাদী ইউনিয়নের উদয়দী গ্রামের বাসিন্দা তাসলিমা আক্তার। ছোটখাট একটি গার্মেন্টসের মালিক তিনি। এলাকায় যেটি ‘মিনি গার্মেন্ট’ হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। এই ‘মিনি গার্মেন্ট’ করেই তাসলিমা আজ একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে সকলের শ্রদ্ধা কুড়িয়েছেন।
বাড়িতে প্রথমে ৫টি সেলাই মেশিন দিয়ে তার পোশাক তৈরি শুরু। পরে স্থানীয় একটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তিনি ২০টি মেশিন ক্রয় করেন। তাসলিমা নিজেই কাপড় কাটিং করেন। এলাকার অনেক নারী তার কারখানায় সেলাইয়ের কাজ করছেন। এতে স্থানীয় অনেক বেকার নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন এলাকার পাইকারি পোশাক বিক্রেতারা অর্ডার দিতে তার বাড়িতে প্রতিদিন ছুটে যাচ্ছেন। উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্ষুদ্র (ফেরি) ব্যবসায়ীরা পাইকারদের কাছ থেকে সেই পোশাক কিনে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করছেন। তাসলিমাকে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের কর্মীরা।
২০১৩ সালে স্থানীয় এক নারীর পরামর্শে ব্র্যাক এর একটি প্রকল্পের অধীনে সেলাই ও কাটিংয়ের ওপর ১৫ দিনের প্রশিক্ষণ নেন তাসলিমা। অল্পদিনের মধ্যেই তিনি পোশাক তৈরির নানা কলাকৌশল রপ্ত করে ফেলেন। পরে বাড়িতে বসেই নারীদের পোশাক তৈরির কাজ শুরু করেন। নজর কাড়া ডিজাইনের পোশাক তৈরি করে অল্পদিনের মধ্যেই এলাকার নারীদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলে দেন তিনি। পাল্লা  দিয়ে বাড়তে থাকে ক্রেতার সংখ্যা। এক সময় তার ব্যবসার পরিধি বৃদ্ধি পায়, বাড়ে সেলাই মেশিনের সংখ্যা। পাশাপাশি তার কারখানায় বিশজন নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। পরে তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
তাসলিমা বলেন, এক সময় সংসার চালাতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। সেলাই কাজ শিখে গার্মেন্টের ফেলে দেওয়া টুকরা কাপড় দিয়ে বাড়িতে বাচ্চাদের পোশাক তৈরি করে আগের তুলনায় ভালো আছি। তবে ব্যবসা করতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে একটি পা ভেঙ্গে যাওয়ায় তার ব্যবসার ব্যাপক ক্ষতি হয়। তিনি এখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।
তিনি জানান, তার বসতবাড়ি পাকা করেছেন, সন্তানদের পড়ালেখা করাতে পারছেন। পাশাপাশি কিছু টাকা মাসে সঞ্চয় করছেন। স্বামীকে এখন আর অন্যের কাজ করতে হয় না।
তাসলিমার স্বামী কাসেম বলেন, আমি আগে পাওয়ারলুমে কাজ করতাম। এখন নিজের কারখানার কাপড় বিভিন্ন বাজারে পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করছি। সংসারের অভাব দূর হয়েছে।
আড়াইহাজার উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আঞ্জুমান আরা বলেন, তাসলিমা আক্তার সমাজের অন্য নারীদের দৃষ্টান্ত।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close