আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
নারী নির্যাতনস্লাইড

রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা গেল

ওমেনআই ডেস্ক : শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দগ্ধ করা মুক্তিযোদ্ধার কলেজপড়ুয়া মেয়ে মুক্তিকে বাঁচানো গেল না। সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে তিনি পৃথিবীর সকল মায়া মমতা ত্যাগ করে চির বিদায় নেন। মুক্তিযোদ্ধার বক্তব্য তার পরিবার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার।
সাঁথিয়া উপজেলার নাগডেমরা গ্রামের উন্মুক্ত জলাশয় দখলকে কেন্দ্র করে মুক্তিযোদ্ধা মোজ্জাম্মেল হক ও তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী সালাম গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ১৯ আগস্ট (রবিবার) দুপুরে সালাম গ্রুপ মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলা চালায়।
ওই হামলায় সালামের নেতৃত্বে ৩০/৪০ জন সন্ত্রাসীরা দেশিয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অংশ নেয়। এসময় বাড়ির পুরুষ সদস্যদের না পেয়ে হামলাকারীরা মোজ্জাম্মেল হকের পাবনা এ্যাডওয়ার্ড কলেজের দর্শন দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী মুক্তি খাতুনের ওপর পেট্রোল ঢেলে আগুনে লাগিয়ে দেয়। তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে সাঁথিয়া ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করেন। ডাক্তার জানান, মুক্তির শরীরের ৬২ শতাংশ দগ্ধ হয়ে গেছে।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ২৬ আগস্ট (রবিবার) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের আইসিইউতে হস্তান্তর করা হয়। লাইফ সাপোর্টের দুইদিন পরে সোমবার দিবাগত রাতে মুক্তি পৃথিবী ছেড়ে চলে যান বলে জানান তার বড় ভাই নাসির উদ্দিন।
মুক্তিযোদ্ধা মোজ্জাম্মেল হক বলেন, আমি এবং আমার পরিবার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। পরিবার ও মেয়ের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা করায় বিভিন্ন ভাবে আসামিরা হুমকী দিচ্ছে। তারা আদালত থেকে জামিন নিয়ে এসে দেখে নিবে বলেও হুমকী দিয়ে আসছে। আমি ভয়ে বাড়ি থেকে সাঁথিয়া থানায় পুলিশের ভ্যানে যাতায়াত করছি। মামলার প্রধান আসামি নাগডেমরা গ্রামের শাহজাহানের ছেলে সালাম ও কেসমত আলীর ছেলে জাহিদ এখনো আটক হয়নি।
নাক-ডেমড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুন-উর রশিদ বলেন, শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন জ্বালানোর ঘটনাটি জঘন্য ও বর্বতা। ন্যক্কারজনক এই ঘটনার তিনি তীব্র নিন্দা ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
সাঁথিয়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কয়েকজন সদস্য বলেন, সালাম ও মোজাম্মেলের বিরোধ দীর্ঘ দিনের। পুলিশ শক্ত হাতে সঠিক দায়িত্ব পালন করলে এ ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটত না।
সাঁথিয়াবাসী মনে করেন, ২৯ জুলাই দুই পক্ষের সংঘর্ষের পরে পুলিশ যদি সঠিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখত তাহলে ১৯ আগস্টের এ ঘটনা ঘটত না। মুক্তিযোদ্ধা মোজ্জাম্মেল হকের সঙ্গে সালামের রাজনৈতিক বিরোধই কলেজপড়ুয়া মেয়ে মুক্তির জীবনের কাল হয়ে দেখা দিল।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close