আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
সারাদেশস্লাইড

বাংলাদেশে তালাকের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ার কারণ

ওমেনআই ডেস্ক : বাংলাদেশের সমাজে নারী শিক্ষার অগ্রগতি ও নারীদের স্বাবলম্বিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরকীয়া প্রেম, যৌতুকের দাবি এবং পুরুষদের মাদকাসক্তির কারণে দাম্পত্য কলহ থেকে বিবাহ বিচ্ছেদ, তালাক এবং সংসার ভাঙার ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সন্তানরা।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে গত সাত বছরে তালাকের প্রবণতা বেড়েছে ৩৪ শতাংশ। শিক্ষিত স্বামী-স্ত্রীদের মধ্যে তালাকের ঘটনা বেশী দেখা যাচ্ছে। শিক্ষিত মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা ও স্বাবলম্বিতা আসায় এখন স্বামীর সাথে বনিবনা না হলে তারা হয় আলাদা থাকছেন বা বিবাহ বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

তাছাড়া, স্বামীদের দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকা তালাকের একটি অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

গত জুন মাসে পরিসংখ্যান ব্যুরো কর্তৃক প্রকাশিত এক পরিসংখ্যান চিত্রে দেখানো হয়েছে, বিবাহিত নারী-পুরুষদের প্রতি এক হাজার জনের মধ্যে ১.৪ টি তালাকের ঘটনা ঘটেছে গত ২০১৭ সালে। আগের বছর ২০১৬ সালে এ হার ছিল প্রতি হাজারে ১.৫ টি।

পরিসংখানে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশী তালাকের ঘটনা ঘটে বরিশাল বিভাগে। এ অঞ্চলে প্রতি হাজারে ১.৯ টি তালাকের ঘটনা ঘটে। আর সবচেয়ে কম চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে। সেখানে প্রতি হাজার দম্পতির ক্ষেত্রে মাত্র ০.৬ টি তালাকের ঘটনা ঘটে থাকে।

তবে ঢাকা শহরে দুটি সিটি কর্পোরেশনের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যাচ্ছে, এখানে গড়ে প্রতি ঘণ্টায় একটি করে তালাকের আবেদন জমা পড়ছে। এদের শতকরা ৫ ভাগ আপোষের মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছে।

তালাকের ক্ষেত্রে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, স্বামী-স্ত্রী’র মধ্যে ‘বনিবনা না হওয়া’। স্ত্রীর করা তালাকের আবেদনের ক্ষেত্রে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে- স্বামীর পরকীয়া, স্ত্রীর প্রতি সন্দেহপ্রবণতা, যৌতুক দাবি করা, বিদেশে গিয়ে দীর্ঘদিনে ফিরে না আসা, স্বামীর মাদকাশক্তি, পুরুষত্বহীনতা এবং ব্যক্তিত্বের সংঘাত।

অপর দিকে স্বামীদের পক্ষ থেকে তালাকের কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, শরীয়ত মোতাবেক চলাফেরা না করা, স্বামীর অবাধ্য হওয়া, বদমেজাজী, সংসারের প্রতি উদাসীন, সন্তান না হওয়া ইত্যাদি।

স্বামী-স্ত্রীর বনিবনা না হবার ক্ষেত্রে দেশের আটটি বিভাগের মধ্যে দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে রাজশাহী। এর আগে ২০১৬ সালে রাজশাহী ছিল এ ব্যাপারে সবার উপরে। রাজশাহী অঞ্চলে নারীদের তালাক আবেদনে স্বামীর মাদকাসক্তি, ঠিকমত ভরণপোষণ না দেয়া এবং শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ বেশী।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে জমা পড়া তালাকের আবেদন থেকে দেখা যাচ্ছে, সেখানে প্রতিদিন গড়ে ১৪টি সংসার ভাঙছে। তালাকের জন্য আবেদনকারীদের অধিকাংশই নারী। তালাক আবেদনের পর আপোষের মাধ্যমে সংসার টিকে যাবার ঘটনা এখানে কম।

দাম্পত্য বিচ্ছেদের বিষয়ে বিশিষ্ট নারী নেত্রী ও মানবাধিকার প্রবক্তা ফরিদা আখতার বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নারীদের শিক্ষা ও অর্থনৈতিক জীবনে বেশ উন্নতি হয়েছে। কিন্তু নারীদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বা আচরণ সেভাবে উন্নত হয়নি। ফলে পারিবারিকভাবেও নারীদের নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। তবে, নারীরা আগের মত সব কিছু মুখ বুজে সহ্য করতে চায় না বলে নারীরাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তালাকের আবেদন করতে বাধ্য হচ্ছে।

ফরিদা আখতার মনে করেন, এরকম ক্ষেত্রে পারিবারিক ও সামাজিক পর্যায়ে নৈতিকতার দিকটির প্রতিও নজর দেয়া দরকার। তাছাড়া, এরকম ভাঙার সংসারের শিশুদের বা সিঙ্গেল পারেন্ট শিশুদের লালন-পালন ও শিক্ষা-দীক্ষার রাষ্ট্রেরও দায়িত্ব পালন করা উচিত।

এ প্রসঙ্গে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেছেন, যে কারণেই তালাক বা বিচ্ছেদ হোক না কেন, এর কুফলটা পড়ে প্রধানত: সন্তানের ওপর। একটি ভাঙা সংসারের শিশুরা স্বাভাবিক ভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ পায় না; একরকম প্রতিকূলতার মাঝে মানসিক যন্ত্রণা নিয়ে বেড়ে ওঠে। ফলে পরবর্তীতে তাদের মাঝে নানা জটিলতা দেখা দেয়।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close