আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
উন্নয়নে নারী

ফটোগ্রাফি থেকে সফল নারী উদ্যোক্তা পৌশী

ওমেনআই ডেস্ক : নিজেকে স্বাবলম্বী করার যাত্রা শুরু ফটোগ্রাফি দিয়ে। মাত্র ছয় হাজার টাকায় শুরু করা সেই যাত্রা আজ লাখো টাকায় গিয়ে পৌঁছেছে। নিজেকে গড়ে তুলেছেন একজন সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে। সংক্ষেপে এতক্ষণ যার কথা বলা হলো তিনি হলেন মাহিয়া নাইনান পৌশী। পৌশী জ্যামি নামেই বেশি পরিচিত তিনি। ২০১৪ সালে “পৌশী’জ” নামে একটি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। ফটোগ্রাফি দিয়ে শুরু করে আজ কিভাবে একজন সফল নারী উদ্যোক্তা হয়েছে সেই গল্পই বলবো-

 

পৌশীর শুরুটা হয় মূলত ফটোগ্রাফি দিয়ে। এক বন্ধু পৌশীকে একটি ডিএসএলআর ক্যামেরা উপহার দেয়। তারপরই অনেকটা শখের বশেই ফটোগ্রাফি শুরু করে। সেখান থেকেই আস্তে আস্তে উদ্যোক্তা হয়ে ওঠা। প্রথম একটি বিয়েতে ফটোগ্রাফির জন্য পেয়েছিল ছয় হাজার টাকা। সেই টাকা দিয়েই শুরু করে ব্যবসা। এক হাজার টাকা করে ছয়টি জামা বানায় তিনি। সেগুলোর প্রতিটিকে দুই হাজার টাকা করে মোট ১২ হাজার টাকায় বিক্রি করে। এরপর পুরো ১২ হাজার টাকাই আবার বিনিয়োগ করে। এবার বানায় ১২টি জামা। বিক্রি করে প্রায় ২৪ হাজার টাকায়। সবশেষ এই টাকা দিয়ে নতুন করে বিনিয়োগ করে। আর সেগুলো বিক্রি হয় প্রায় ৪২ হাজার টাকায়। এভাবেই আস্তে আস্তে পৌশীর পথচলা শুরু হয়।

তিনি যখন সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে তখন থেকেই ফটোগ্রাফি শুরু করে মূলত। আর ২০১৪ সাল থেকে অনলাইনে মেয়েদের জামা-কাপড় বিক্রির ব্যবসা শুরু করে। সে ছোটবেলা থেকেই নিজের জামা নিজে ডিজাইন করে বানিয়ে নিতো। টুকটাক নিজে বানাতেও পারত। যেহেতু এ কাজটা ছোটবেলা থেকে সে করে আসছিল এবং খুব ভাল পারত তাই অনেকেই পরামর্শ দিত এ খাতেই কাজ করার। এরজন্যই মূলত মেয়েদের পোশাক বিক্রির উদ্যোগ নেয় সে।

পৌশী ২০০৮ সাল থেকেই ফেসবুক ব্যবহার করে। নিজের ডিজাইন করা পোশাক পরে ছবি দিত ফেসবুকে। সেখানে যারা লাইক বা কমেন্ট করত তাদের বেশিরভাগই নিজের থেকে তার পোশাকের ব্যাপারে কথা বলত। বেশিরভাগ ইতিবাচক কথা বলত তার পোশাক নিয়ে। এর ডিজাইন নিয়ে। সেসময় অনলাইনে কেনাবেচা হত না। তাদের অনেক আফসোস দেখা যেত, যে তারা এ ধরনের ডিজাইনার ড্রেস কোথা থেকে কিনবে তা তারা জানত না। এরমধ্যে অনেকেই তাকে বলত যে, এসব পোশাক যেহেতু সে নিজেই ডিজাইন করে এবং কিছু কিছু নিজেই বানায় তাই সে এগুলোকে বিক্রির উদ্যোগ নিতে পারে। আর যেহেতু তখন মাত্র শুরু এবং সে নিজেও অনেক ছোট তাই বিক্রির ভাল একটি প্ল্যাটফর্ম হয়ে ওঠে ফেসবুক। তাকে কোন ওয়েবসাইট বা পেইজ খুলতে হত না। সে পোশাক পরে নিজের ফেসবুক একাউন্টে যে ছবি দিত সেখান থেকেই সব বিক্রি হয়ে যেত। ২০১৪ সালে যখন সে অনেকটা গোছালোভাবে কাজ শুরু করল তখন মাত্র এক মাসেই তার ১০০টি পোশাক বিক্রি হয়ে যায়।

তিনি মূলত মেয়েদের পোশাক এবং জুতা নিয়ে কাজ করে। সবাইকে ডিজাইনার ড্রেস দেয় সে। আর একজন ক্রেতা যে নকশা বা ডিজাইনের পোশাক চান তার জন্য সেই একটি ডিজাইনেই পোশাক তৈরি করা হয়। এরকম এক একটি পোশাকের দাম হয় তিন হাজার টাকার মত। ডিজাইনার ড্রেস হিসেবে এগুলোর দাম অনেক কম। এছাড়াও যারা ছাত্রী, এখনও পড়াশোনা করছেন তাদের জন্য  এক হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার টাকার মধ্যে পোশাক বানায় সে। এর বাইরে আছে ডিজাইনার জুতা। সে আরেকটি কাজ করে তা হচ্ছে ডিজাইনার ওয়েডিং ড্রেস। অর্থাৎ বিশেষ নকশা করা বিয়ের পোশাক। তার এসব পোশাকের দাম কমপক্ষে এক লাখ টাকা থেকে শুরু হয়। গড়ে একেকটির দাম এক লাখ ২০ হাজার টাকা। সে এখন পর্যন্ত এমন সাতটি ড্রেস বানিয়েছে এবং তার গ্রাহকদের ডেলিভারি দিয়েছে। অনলাইনে এমন দামি ড্রেসের কাজ নেওয়া এবং তা সফলভাবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ডেলিভারি দেওয়া নজিরবিহীন।

পোশাকের জন্য তার একটি কারখানা আছে খিলখেত এলাকায়। আর জুতার কারখানাটি হচ্ছে পুরান ঢাকার নাজিরা বাজারে। দুটি কারখানাই যাত্রা শুরু করে ২০১৫ সালে। প্রথমটি বছরের শুরুর দিকে আর অপরটি বছরের মাঝামাঝি সময়ে। তার পোশাকের কারখানায় সাত জন নারী দর্জি কাজ করেন। সাত জন সংখ্যাটা হয়ত এখনও অনেক কম শোনা যায়, তবে সামনে এ সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা আছে পৌশীর। এখানে একজন মাস্টার দর্জির তত্ত্বাবধানে আরও ছয় জন নারী দর্জি কাজ করছেন।

পৌশীর শুরুটা মূলত অনলাইনে। তবে এর বাইরে বনানীতে যৌথভাবে তার একটি শো-রুম ছিল। ২০১৬ এর শুরুর দিকে শো-রুমটি নেয় সে। তবে পড়াশোনার ব্যস্ততার কারণে সেবছরই শেষের দিকেই দোকানটি ছেড়ে দেয় সে। তবে অতি শিগগিরই ধানমন্ডির দিকে একটি শো-রুম চালু করার পরিকল্পনা আছে।

তিনি মূলত ইংরেজি মাধ্যমের ছাত্রী। ২০১৩ সালে বটমলি হোমস গার্লস হাই স্কুল থেকে ও-লেভেল এবং একই প্রতিষ্ঠান থেকে ২০১৬ সালে এ-লেভেল সম্পন্ন করে। এখন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ফ্যাশন ডিজাইনিং নিয়ে অনার্স লেভেলে পড়াশোনা করছে।

নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে তিনি একটি দল চালু করেছে। এর নাম ‘ফিমেল এন্টারপ্রেনার্স সোসাইটি’ বা ফেমেনসো। গ্রুপটি চালু করার এক মাসের মধ্যেই প্রায় ৪০ হাজার সদস্য নিবন্ধিত হয়। নারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে যত গ্রুপ আছে তার মধ্যে শুরুর এ সংখ্যাটি উল্লেখযোগ্য। এখানে অনেক নতুন নারী উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসার অনেক সমস্যা সামনে তুলে ধরেন। বিভিন্ন বিষয়ে তারা সমাধান চাইত এ গ্রুপে। সেসব সমস্যার সমাধান করার লক্ষ্যেই একটি সেমিনার বা কর্মশালার উদ্যোগ নেয় পৌশী।

বাংলাদেশের প্রায় ২১ জন প্রতিষ্ঠিত নারী ও দুই জন পুরুষ উদ্যোক্তাকে আলোচক হিসেবে আমন্ত্রণ করে এ সেমিনারে। এখানে তারা তাদের ব্যবসার বিভিন্ন দিক নতুন এবং তরুণ নারী উদ্যোক্তাদের সামনে তুলে ধরেন। তারা কীভাবে ব্যবসা শুরু করেছেন, কোন একটি নির্দিষ্ট পণ্যের জোগান তারা কীভাবে পান সেসব বিষয় তারা তুলে ধরেছেন। আবার যারা ব্যবসায় সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন তারা তাদেরকে প্রশ্ন করেন।

তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করে, একা কখনও উন্নতি করা যায় না। আর সেটা উচিতও না। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ওপরের দিকে উঠতে হবে। কথায় বলে, লিডার্স ক্রিয়েট লিডার্স; নট ফলোয়ার্স। সে সেটা মেনে চলার চেষ্টা করে।

 

সূত্র/আপলোডেড বাই : ইটিভি/অরণ্য সৌরভ

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close