আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
সারাদেশ

প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণে সুপারভাইজার গ্রেফতার

ওমেনআই ডেস্ক: টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপাড়ে বাসের ভিতর মানসিক প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় বাসের সুপারভাইজার এরশাদ আলীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এদিকে সোমবার বিকেলে ধর্ষণের শিকার ওই নারীকে আইনী প্রক্রিয়া শেষে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার ওসি মোশারফ হোসেন জানান, রোববার গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে কালিহাতী উপজেলার বেনুকুর্শিয়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে এরশাদকে (৪০) গ্রেফতার করা হয়। সে ওই এলাকার মৃত লাল চানের ছেলে। সোমবার তাকে টাঙ্গাইল কোর্টে চালান করে দেয়া হয়। এ ঘটনার মূল হোতা বাসের চালক আলম মিয়া এখনো পলাতক রয়েছে। তবে তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে ওসি জানান।

টাঙ্গাইলের কোর্ট ইন্সপেক্টর আনোয়ারুল ইসলাম জানান, সোমবার দুপুরে গ্রেফতারকৃত সুপারভাইজার এরশাদের বিরুদ্ধে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আশিকুজ্জামানের আদালতে তোলা হয়। রিমান্ড বিষয়ে শুনানীর জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য্য করেন আদালত। পরে এরশাদকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। এর আগে গ্রেফতারকৃত অপর আসামী বাসের হেলপার নাজমুল হোসেন শুক্রবার আদালতে স্বীকরোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়। এই ধর্ষণের ঘটনায় সুপারভাইজার এরশাদ জড়িত বলে নাজমুল তার স্বীকারোক্তিতে উল্লেখ করে।

সোমবার সকালে ধর্ষণের শিকার ওই নারীর ভাই ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল আদালতে আসেন। অ্যাডভোকেট শাহীন সিদ্দিকীর মাধ্যমে তিনি তার মানসিক প্রতিবন্ধী বোনকে পুলিশের নিরাপদ হেফাজত থেকে তার জিম্মায় প্রদানের জন্য আদালতে আবেদন করেন। অ্যাডভোকেট শাহীন সিদ্দিকী জানান, এই আবেদনের প্রেক্ষিতে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আশিকুজ্জামান ওই নারীকে তার ভাইয়ের হেফাজতে প্রদানের আদেশ দেন। সে মোতাবেক সকল আইনী প্রক্রিয়া শেষে সোমবার বিকেল ৪টা ৫মিনিটে ওই নারীকে তার ভাইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আদালত চত্বরে ওই নারীর ভাই বলেন, যারা আমার মানসিক প্রতিবন্ধী বোনের ওপর অত্যাচার করেছে আমি তাদের ফাঁসি চাই।

মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সিনিয়র অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান আজাদ বলেন, ধর্ষণের শিকার ওই প্রতিবন্ধী নারীর ২২ ধারার জবানবন্দী বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে গ্রহণসহ এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।

উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু সেতুর পুর্বপাড় বাসস্ট্যান্ডে গত বৃহস্পতিবার (৩০ আগস্ট) রাত সাড়ে ১২টার দিকে ওই বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারী বাস থেকে নামছিল। এ সময় সেই বাসের চালক আলম মিয়া, হেলপার নাজমুল হোসেন ও সুপারভাইজার এরশাদ আলী ওই নারীকে ফুঁসলিয়ে ও প্রলোভন দেখিয়ে বাস থেকে নামতে দেয়নি। পরে চালক ওই নারীকে ধর্ষণ করে। খবর পেয়ে টহল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসের ভেতর থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করে। এ সময় বাসের হেলপার নাজমুলকে গ্রেফতার করা গেলেও ধর্ষক আলম মিয়া ও সুপারভাইজার এরশাদ পালিয়ে যায়। ধর্ষণের শিকার ওই নারীর বাড়ি কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর থানার কুড়িপুর গ্রামে।

ওই প্রতিবন্ধী নারীর ভাই বলেন, আমাদের মা-বাবা কেউ নেই। চার বোন তিন ভাইয়ের মধ্যে এই বোনটি সবার ছোট। ১০/১২ বছর আগে এসএসসি পরীক্ষা দেয়ার সময় হঠাৎ সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। তবে ক্ষণে ক্ষণে ভাল থাকে। গত ঈদের ২০ দিন আগে কুষ্টিয়া থেকে সে ঢাকার সবুজবাগ থানার মাদারটেক সরকারপাড়ায় বড়বোনের বাসায় আসে। ঈদের পরদিন (২৩ আগস্ট) সেই বাসা থেকে এই বোনটি নিখোঁজ হয়। এ বিষয়ে সবুজবাগ থানায় একটি জিডি করি। পরবর্তীতে গত শুক্রবার পুলিশের মাধ্যমে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার খবর জানতে পারি।

সূত্র/আপলোডেড বাই : নয়া দিগন্ত/অরণ্য সৌরভ

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close