আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
স্লাইড

আইনজীবীরা কী খালেদা জিয়াকে বয়কট করেছেন

ওমেনআই ডেস্ক: দুই কারণে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা কারাগারে স্থাপিত আদালতে যাচ্ছেন না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, যেহেতু আদালতে তার আইনজীবীরা যাচ্ছেন না তাহলে আমরা ধরে নিতে পারি তার আইনজীবীরা মনে করছেন খালেদা জিয়াকে নির্দোষ প্রমাণ করতে তাদের হাতে যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ নেই। অথবা-হয়তো আইনজীবীরা খালেদা জিয়াকে বয়কট করেছেন। এক্ষেত্রে কোনটা হয়েছে সেটা বিচার্য বিষয়। প্রধানমন্ত্রী গতকাল আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের  সভার সূচনা বক্তব্যে এসব কথা বলেন। আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ডাকা জরুরি এ বৈঠকে আলোচনা করেন।

সভার শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১০ বছর মামলা চলার পর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায় হয়েছে। একটা মামলায় তিনি সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন।

কোর্টের রায় হয়েছে বলেই তিনি কারাগারে। আরেকটি মামলারও কাজ চলছে। যে কোনো মামলার সময় বাঁধা তাকে। কিন্তু যে কোনো ছুঁতায় হোক খালেদা জিয়া কোর্টে যান না। খালেদা জিয়া তো কোর্টে যানই না আবার তার আইনজীবীরাও সময় নেন। এখানে আমার একটি প্রশ্ন- তিনি যদি নির্দোষ হবেন তাহলে মামলা মোকাবিলা করতে ভয় কিসের। আর তার আইনজীবীরা কেন কোর্টে যাবেন না? ইতিমধ্যে তারা বলল খালেদা জিয়ার নিরাপত্তার অভাব। উনার শারীরিক অসুস্থতা রয়েছে। উনি বেশি নড়তে-চড়তে পারছেন না। তাই তার শারীরিক অবস্থা ও নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে কোর্ট জেলগেটে বসানো হলো। সরকারি প্রজ্ঞাপনে কোর্ট যেকোনো জায়গায় বসতে পারে। কোর্টের ইচ্ছায় সে ব্যবস্থা করা যায়।

তিনি বলেন, ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আমাদের গ্রেপ্তার করেছিল। জেলখানা সাবজেল হয়ে গিয়েছিল আমাদের সংসদ ভবনগুলো। আর সেখানেই বাসানো হয়েছিল কোর্ট। আমিও ওই কোর্টে গিয়েছি। খালেদা জিয়াসহ আরো অনেকে ওই কোর্টে গিয়েছেন। ঠিক একইভাবে জিয়াউর রহমান যখন কর্নেল তাহেরের বিচার করেন সে বিচারও কিন্তু কারাগারেই হয়েছিল। সে বিচারে কর্নেল তাহেরকে ফাঁসি দেয়া হয়েছিল। কাজেই এভাবে যেকোনো বিচার কিন্তু হয়। বিডিআরের ঘটনার বিচার কিন্তু কারাগারেরই জায়গায় হয়েছে। ৮শ’ আসামি নিয়ে যে কোনো কোর্টে বসার জায়গা নেই। সেজন্য সেখানে ঘর বানিয়ে কোর্ট বসানো হয়। কাজেই কোর্ট বসতে পারে যেখানে প্রজ্ঞাপন জারি করে সেখানে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জেলগেটে বিচার কাজ এটা তো জিয়াউর রহমান শুরু করে গিয়েছেন। তিনি পথ দেখিয়ে দিয়ে গেছেন। কেউ কেউ বলছেন এটা নাকি গণতান্ত্রিক সময় হয় না মার্শাল ল’র সময় হতো। তাহলে তারা স্বীকার করছেন জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে মার্শাল ল’ জারি করেছিলেন বলেই ওই ধরনের স্বেচ্ছাচারিতার অধিকার তার ছিল।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, বিএনপি বলছে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা নাকি প্রতিহিংসাপরায়ণ। এখানে হিংসার কি আছে? এতিমের টাকা তো আর আমরা খেতে চাইনি ভাগবাটোয়ারা করে। নাকি কম দিয়েছে বলে হিংসা করবো? তাতো না। এতিমখানার জন্য টাকা এসেছে। সে টাকা এতিমদের না দিয়ে নিজেদের কাছে রেখে দেয়। আবার কেউ কেউ বলছেন টাকা তো আছেই।

টাকা যদি থেকে থাকে তাহলে এত বছর আগে টাকা আসলো অর্থাৎ ৯২ সালে টাকা আসলো তাহলে একটা টাকাও এতিমরা পেলো না কেন? আর সে টাকা খালেদা জিয়া ব্যাংকে রেখে সুদ খেলো। ২৫ বছর ধরে এ টাকা সে রেখে দিলো আপন মনে করে। জিয়া অরফানেজ নাম দিয়েছে সে অরফানেজ কই? ঠিকানাটা কোথায়? সে ঠিকানা তো দেখাতে পারেনি, অরফানেজ দেখাতে পারেনি। কিন্তু অরফানেজের নামে টাকা তো আত্মসাৎ করেছে। এতিমের টাকা খেয়ে যদি কেউ জেলে যায় তাহলে সে দায় দায়িত্ব কার? ১০ বছর ধরে মামলা চলছে। এ সময়ের মধ্যে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা প্রমাণ করতে পারলো না যে তিনি নির্দোষ। সে দোষটাও কি আমাদের সরকারের?

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোর্ট বসলে খালেদা জিয়া হাজির হয়েছেন কিন্তু তার আইনজীবীরা যান নাই। মাত্র একজন আইনজীবী গিয়েছেন। কিন্তু তার প্যানেল আইনজীবীরা যাননি। এই যে তারা গেলো না এখানে আমরা কি মনে করব? যে এই প্যানেল জানে যে খালেদা জিয়া দোষী। তাকে ডিফেন্ড করে খুব বেশি একটা লাভ হবে না। তাই কোন ছুঁতা ধরে তারা বোধহয় তাকে ডিফেন্ড করতে চায় না। সেজন্যই তারা কোর্টে যায় নাই। সাধারণ মানুষ তো এটাই ধারণা করবে। যেখানে কোর্ট বসবে সেখানে আইনজীবীরা যাবেন, যেখানেই জজ সাহেবরা বসবেন সেখানেই তারা যাবেন। মামলা করতে গেলে আইনজীবীদের কাজ হলো যেখানে কোর্ট বসবে সেখানেই তারা যাবে। তারা না গিয়ে খালেদা জিয়াকে বয়কট করলো কেন?

শেখ হাসিনা বলেন, তারা বলছে এটা ক্যামেরা ট্রায়ার। এটা তো ক্যামেরা ট্রায়াল না। কোর্টের দরজা তো খেলাই ছিলো। তাদের কোনো কোনো আইনজীবী কোর্টের গেটে গিয়ে বসেছিল কিন্তু কোর্টরুমে ঢোকে নাই। অবাধে সবাই যাতায়াত করতে পারছিল। তাহলে এটা ক্যামেরা ট্রায়াল হলো কি করে। বিএনপি নেতারা বলা শুরু করেছেন যে কোন কোর্ট বসানো অসাংবিধানিক। দুর্ভাগ্য আমাদের যে দলের জন্ম হয়েছিল অসাংবিধানিক উপায়ে। সংবিধান লঙ্ঘন করে ক্ষমতা দখলকারী যারা তাদের কাছে এখন সংবিধান শিখতে হবে আমাদের। এখানে অসাংবিধানিকটা কি হলো? তার মানে জিয়াউর রহমান মার্শাল ল’ দিয়েছিলেন অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা দখল করেছিল বলে। সেটা স্বীকার করুক। কিন্তু সেটা তারা করে না।

সভায় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সূচনা বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী নেতাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার আলোচনা করেন। আলোচনায় আসন্ন নির্বাচন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দলীয় কর্মসূচি স্থান পায় বলে বৈঠক সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র/আপলোডেড বাই: মানবজমিন/অরণ্য সৌরভ

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close