আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
জাতীয়স্লাইড

কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অধিকাংশ দাবি বাস্তবায়িত : সংসদে প্রধানমন্ত্রী

ওমেনআই ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে নির্বাচন পরিচালনা করতে পারে। কমিশনের ব্যবস্থাপনায় দেশের জনগণ সুষ্ঠুভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। বর্তমান নির্বাচন কমিশন তাদের অর্পিত সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে সব কার্যক্রম গ্রহণ করবে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনে নির্বাচন কমিশনকে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে সরকার। বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত ত্রিশ মিনিটের প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলামের প্রশ্নে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সুষ্ঠুভাবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুসারে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করার জন্য জনবলের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নে কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সংসদ সদস্য মো. আবদুল্লাহর প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী জানান, আওয়ামী লীগ পর পর দুবার সরকার গঠন করার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পূর্বে ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে অনেক তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। এতে দেখা যায়, পরোক্ষভাবে দেশি ও বিদেশি কিছু ব্যক্তি ও সংস্থা বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। তাই এ ব্যাপারে অন্য পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত করার জন্য একটি কমিশন গঠনের বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন। তিনি জানান, বঙ্গবন্ধুর যেসব খুনি বিভিন্ন দেশে পালিয়ে আছে এবং আশ্রয় নিয়েছে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। এ সংক্রান্ত একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটিতে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্মিলিতভাবে কাজ করছে। এখনো যেসব খুনি বিভিন্ন দেশে পালিয়ে বা আশ্রয় নিয়ে আছে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। তিনি জানান, পলাতক আসামি নূর চৌধুরী কীভাবে কানাডায় বসবাস করছেন সে সম্পর্কে তথ্য দিতে ফেডারেল কোর্ট অব জাস্টিসের আদালতে আবেদন করা হয়েছে। পলাতক আসামি রাশেদ চৌধুরীকে আমেরিকা থেকে ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক ও আইনি কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া অন্য পলাতক আসামিদের ফিরিয়ে আনতে টাস্কফোর্স কাজ করছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।
সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য বেগম নূর-ই-হাসনা লিলি চৌধুরীর প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের নিরাপদ সড়ক সংক্রান্ত ৯ দফা দাবির অধিকাংশই বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ বিলটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে, যা সংসদের চলতি অধিবেশনে উপস্থাপিত ও বিবেচিত হবে। এ আইনে অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদ-ের বিধান রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলনের প্রতি আমি অত্যন্ত ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার পর পরই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার কার্যক্রম নিবিড়ভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে। এতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে।
এ ছাড়া চার বছর মেয়াদি ন্যাশনাল রোড সেইফটি অ্যাকশন প্লান ২০১৭-২০ প্রণয়ন করা হয়েছে, যা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/সংস্থার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ ছাড়া একটানা পাঁচ ঘণ্টার বেশি গাড়ি না চালানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দূরপাল্লার বাসে দুজন চালক রাখার জন্য মালিকদের অনুরোধ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, কোনো অবস্থাতেই স্পেসিফিকেশনবহির্ভূত মোটরযান রেজিস্ট্রেশন না দেওয়া, ত্রুটিপূর্ণ মোটরযানের ফিটনেস নবায়ন না করা এবং স্পেসিফিকেশনবহির্ভূত বাস ও ট্রাকের বডি নির্মাণের কারখানাগুলো পরিদর্শন করে এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মহাসড়কে চলন্ত গাড়ির স্পিড কন্ট্রোলের বিষয়ে দূরপাল্লার বিভিন্ন বাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার এবং ট্রাকের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে।
ট্রাফিক আইন মেনে চলার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিরাপদ সড়কের জন্য যতই ব্যবস্থা নিই না কেন, দেশের মানুষের মানসিকতা পরিবর্তন না হলে কিছুই হবে না। অনেককেই ফুট ওভারব্রিজ কিংবা আন্ডারপাস ব্যবহার না করে ছোট শিশু নিয়ে চলন্ত গাড়ির মধ্য দিয়েই রাস্তা পারাপার হতে দেখা যায়। এ সময় দ্রুত যানবাহন কীভাবে হঠাৎ করে থামবে? সে বিষয়টিও দেখতে হবে। তিনি বলেন, কোথাও দুর্ঘটনা না হলে আইন নিজের হাতে না নিয়ে ড্রাইভারকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা উচিত। অনেক সময় ড্রাইভার প্রাণের ভয়ে গাড়ি না থামিয়ে দ্রুত গাড়ি টেনে চলে যান। এতে অনেকের প্রাণে বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও এ ঘটনায় থাকে না। তাই সবার প্রতি অনুরোধ ট্রাফিক আইন মেনে চলুন। আমরা জড়িত ড্রাইভারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। কিন্তু যারা যত্রতত্রভাবে রাস্তা পার হচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা না নিলে তো সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধ হবে না।
সংসদ সদস্য একেএম রহমতুল্লাহর প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী জানান, আওয়ামী লীগ সরকার রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসন ও নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকল্পে এলিভেটেড এক্সপ্রেস সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্প, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প এবং ঢাকা ইস্ট-ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, ঢাকা শহরে রিং রোড করারও পরিকল্পনা আছে। এ রিং রোড এলিভেটেড করা হবে। বিভিন্ন স্থানে পরিকল্পিতভাবে ল্যান্ডিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। স্থাপিত এলিভেটরগুলোর সঙ্গে প্রয়োজনে সংযোগ দেওয়া হবে। বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, বালু, তুরাগ নদীতে নৌপথ এবং এরই পাড় ধরে ভবিষ্যতে রিং রোড করে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
ঢাকার যানজট নিরসন সম্পর্কে স্বতন্ত্র দলীয় সংসদ সদস্য ডা. রুস্তম আলী ফরাজীর প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর বহু দেশের রাজধানীতেই যানজট হয়। দেশ দ্রুত উন্নত হচ্ছে, দেশের মানুষ অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হচ্ছেন ও আর্থিক সচ্ছলতা বাড়ছে বলেই গাড়ি কিনছে। গাড়ি রাস্তায় বেশি ব্যবহার হচ্ছে বলেই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। তাই যানজট নিরসনে রাজধানীতে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও গোটাকে ঢাকাকে ঘিরে রিং রোড নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছি। সরকারদলীয় সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরীর প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী জানান, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি সুগভীর ও সুদৃঢ় হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য আমাদের সর্ববৃহৎ শ্রমবাজার। এ অঞ্চলের দেশগুলোতে বর্তমানে প্রায় ৬০ লক্ষাধিক বাংলাদেশি কর্মরত।
সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার ‘এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’- এর আলোকে আগামী তিন বছরের মধ্যে রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নের শেষ পর্যায়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিপ্রেক্ষিত পরিকল্পনা ‘রূপকল্প-২০৪১’ প্রণয়ন করে জাতির সামনে উপস্থাপন করব। এ পরিকল্পনার লক্ষ্য হচ্ছে, আগামী ২৩ বছরের মধ্যে উন্নত ও সমৃদ্ধিশালী দেশের কাতারে দেশকে নিয়ে যাওয়া। রূপকল্প-২০৪১ এর বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০৪১ সালের বাংলাদেশ হবে উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তুলনীয় এক শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ, সুখী এবং উন্নত জনপদ। রূপকল্প-৪১ বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও বাড়ানো হবে। বিশেষ করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বহির্বিশ্বের সঙ্গে নতুন সম্পর্ক স্থাপনের ওপর জোর দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সূত্র/আপলোডেড বাই: আমাদের সময়/অরণ্য সৌরভ

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close