আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
জাতীয়স্লাইড

সুষ্ঠু নির্বাচনে সরকার ইসিকে সহায়তা করবে : প্রধানমন্ত্রী

ওমেনআই ডেস্ক: নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পরও রাস্তায় চলাফেরায় সাধারণ নাগরিকরা সচেতন না হওয়ায় আক্ষেপ ঝরেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কণ্ঠে। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করবে সরকারএ তিনি জানান, বর্তমান নির্বাচন কমিশন তাদের অর্পিত সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও ড়ুহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের সকল কার্যক্রম ড়ুহণ করবে বলে সরকার প্রত্যাশা করে।

গতকাল বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের এমপি মো. মনিরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে নির্বাচন পরিচালনা করতে পারে। নির্বাচন কমিশনের ব্যবস্থাপনায় দেশের জনগণ সুষ্ঠুভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। বর্তমান নির্বাচন কমিশন তাদের অর্পিত সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের সকল কার্যক্রম গ্রহণ করবে বলে সরকার প্রত্যাশা করে। সরকার আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে।

শেখ হাসিনা বলেন, সুষ্ঠুভাবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনের চাহিদা অনুসারে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করতে জনবলের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরিকল্পনাকারীকের চিহ্নিত করতে কমিশন গঠন করা হবে। শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পূর্বের ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে অনেক তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। এতে দেখা যায় যে, পরোক্ষভাবে দেশি ও বিদেশি কিছু লোক ও সংস্থা বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল।
শেখ হাসিনা বলেন, এত বড় একটা দুর্ঘটনা ঘটল, এরকম একটা আন্দোলন হল, তারপরও আমরা দেখি মানুষের মধ্য সে সচেতনতা নাই। যত্রতত্র রাস্তা পার হচ্ছে।

গত জুলাইতে বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যুর পড় আন্দোলনে নামে ছাত্র-ছাত্রীরা, যা পরে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। টানা ১০ দিনের সেই আন্দোলনের মধ্যে ছাত্র-ছাত্রীদের রাস্তায় নেমে গাড়ির কাগজপত্র পরীক্ষা করতে দেখা যায়। রাস্তায় যান চলাচলে শৃঙ্খলা আনার চেষ্টাও করে তারা। কিন্তু ওই আন্দোলনের পর ঢাকার রাস্তায় আইন অমান্য করার পুরনো চিত্র আবার দেখা যায়, যা বিভিন্ন ভাবে উঠে এসেছে। জাতীয় পাটির নারী এমপিনূর ই হাসনা চৌধুরীর সম্পূরক প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী নাগরিকদের অসচেতনতার কিছু উদাহরণ তুলে ধরেন। এমনকি পত্রিকায় ছবি ওঠেছিল- এক বাবা বাচ্চাকে বুকে নিয়ে .. ফেন্সের মাথাগুলো সরু করে উঁচু করে দেওয়া, সে মাথাগুলো ডিঙিয়ে এমনভাবে পার হচ্ছে, কোনোভাবে যদি পা স্লিপ করে তাহলে ওই বাচ্চা ওই ফেন্সের সরু মাথায় একেবারে গেঁথে যাবে, সেখানেই মৃত্যু হবে। বাবার কি এই সচেতনতা থাকা উচিত ছিল না? সচেতনতার যথেষ্ট অভাব আমাদের। এত বড় একটা ঘটনার পরও দেখবেন, বাচ্চার হাত ধরে দ্রুত রাস্তা পার হচ্ছে। রাস্তা পারাপারে সবাইকে ট্রাফিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা আক্ষেপের সুরে বলেন, একটা অদ্ভূত মানসিকতা এদেশের মানুষের আছে যে তারা রাস্তা পারাপারের সময়, মানে একটা দ্রুত যান আসছে হাত দেখানোর সাথে সাথে গাড়িটা থেমে যেতে পারে না। এটা যারা গাড়ি চালায় তারা বলতে পারবে .. পট করে গাড়ি থামতে পারেনা। আমরা কি দেখি ছোট্ট শিশুর হাত ধরে মা রাস্তায় চলে যাচ্ছে অথবা বাবা বাচ্চাদের নিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। এমনভাবে একটা যেখানে অনবরত গাড়ি আসছে।

তরুণদেরও ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতার প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, তাদেরও দেখেছি কাছেই ওভারপাস আছে.. যেতে পারে.. সেখানে না গিয়ে ফট করে দৌঁড় মেরে পার হতে চায়। তার ফলে অ্যাকসিডেন্ট হয়। অ্যাকসিডেন্ট হলে এটাও বিবেচ্য বিষয় যারা রাস্তা পারাপার করছে তাদের দোষ কতটুকু দেওয়া যায়, সেটাও দেখা দরকার। আরেকটা বিষয় হয়- সেটা হল কোনো একটা অ্যাকসিডেন্ট হল বা গাড়িতে ধাক্কা লাগল, ড্রাইভার তখন জীবন বাঁচাতে এর ওপর দিয়ে দ্রæত চলে যেতে চেষ্টা করে। ফলে যার বাঁচার সম্ভাবনা ছিল, বাঁচে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা রাস্তা পার হবেন, ইতিমধ্যে জেব্রা ক্রসিং করা, আন্ডার পাস করার যেখানে জায়গা আছে করে দেওয়া, নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা, সব করে যাচ্ছি। তারপরও বলব আমাদের দেশের মানুষের একটু সচেতন হওয়া উচিত। যেকোনো সমস্যা হতে পারে, তখন ড্রাইভারকে দোষ দেবেন কি করে?” গণপরিবহন ব্যবহারেও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। গাড়িতে থেকে নামতেও তাদের একটু সচেতন হওয়া প্রয়োজন আছে। তাদেরও ট্রাফিক রুলটা মেনে চলা উচিত। ড্রাইভারের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। কিন্তু এদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া যাবে সেটা বলেন? এভাবে যদি যেখানে সেখানে রাস্তা পার হয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। তাহলেই এটা থামবে। নাহলে থামবে না।

সরকারি দলের এমপির মো. আবদুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ পরপর দু‘বার সরকার গঠনের পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পূর্বে ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে অনেক তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। এতে দেখা যায়, পরোক্ষভাবে দেশি ও বিদেশি কিছু লোক ও সংস্থা বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। এজন্য জাতির পিতাকে হত্যার অন্যান্য পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করার জন্য কমিশন গঠনের বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।

বঙ্গবন্ধু হত্যার পলাতক খুনিদের ফিরিয়ে আনার বিষয়টি সরকারের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে উল্লেখ করে এই সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর যেসব খুনি বিভিন্ন দেশে পালিয়ে আছে এবং আশ্রয় গ্রহণ করেছে, তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে আনার সব প্রকার প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। এ বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি সম্মিলিতভাবে কাজ করছে।

সূত্র/আপলোডেড বাই: ইনকিলাব/অরণ্য সৌরভ

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close