আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
রাজনীতি

সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রধান বাধা প্রধানমন্ত্রী নিজেই: রিজভী

ওমেনআই ডেস্ক: সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রধান বাধা প্রধানমন্ত্রী নিজেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করার বক্তব্য জনগণের মধ্যে হাসির খোরাক জুগিয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রধান অন্তরায় প্রধানমন্ত্রী নিজে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইসিকে সহযোগিতা দেয়ার অর্থ হলো- আগামী জাতীয় নির্বাচনে ফন্দি-ফিকির করার জন্যই যে তিনি সহযোগিতা দেবেন সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ সেটির বহু স্পষ্ট প্রমাণ তিনি ইতিমধ্যে দিয়েছেন। কীভাবে ইসি সরকারি দলের ভোট সন্ত্রাস ও ডাকাতির ফলাফলের বৈধতা দেয় সেটি গত নির্বাচনগুলোতে ফুটে উঠেছে। শেখ হাসিনার কমিশনকে সহযোগিতা করার অর্থ হলো ইসির আত্মসমর্থন নিশ্চিত করা। সেই ইসির নির্বাচনে সাধারণ ভোটারদের বাড়িতে বসে থাকতে হবে। ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার অধিকার থাকবে না। দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের একমাত্র গ্যারান্টি শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বেপরোয়া হওয়ার জন্য ক্ষমতাসীন মন্ত্রী ও উপদেষ্টারা ক্রমাগত মদদ দিয়ে যাচ্ছেন। যেমন এইচটি ইমাম বলেছেন- যে কোনো মূল্যে ক্ষমতায় থাকতে হবে। এই ‘যে কোনো মূল্যে ক্ষমতায় থাকার জন্যই’ এইচটি ইমামরা গণতন্ত্রকে নির্বাসিত করেছে- গুম-খুন আর ক্রসফায়ারের মনুষ্যত্বহীন কর্মসূচির দ্বারা।

রিজভী বলেন, পাইকারি গ্রেফতার ও মামলায় মানুষের স্বাভাবিক জীবন দুঃস্বপ্নের মধ্যে কাটছে। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতেও পাইকারি গ্রেফতার ও প্রবল বন্যার স্রোতের মতো মিথ্যা মামলার অভিঘাতে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন দুঃস্বপ্নের মধ্যে কাটছে। আগামী নির্বাচন সরকারি দলের নাগালের মধ্যে রাখার জন্যই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিএনপিকে দমন করতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, সরকার পুলিশি চাপ দিয়ে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নৈঃশব্দের ভীতিকর পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিবেকবর্জিত অমানবিক নিষ্ঠুরতায় বিরোধী দলের বিরুদ্ধে আগ্রাসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।

বিএনপির এ নেতার ভাষায় শোনা যাচ্ছে- সামনের দিনগুলোতে সরকার নিজ দলের ক্যাডারদের দিয়ে নাশকতা সৃষ্টি করে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর এর দায় চাপাবে। ককটেল বিস্ফোরণসহ নানা ধরনের জালাও-পোড়াওয়ের নাশকতা করা হবে পরিকল্পিতভাবে। এ জন্য নাকি আওয়ামী ক্যাডারদের সহযোগিতা করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, উনারা যে মিথ্যা বলে তা একেবারে সুস্পষ্ট, প্রমাণিত। লাশ যদি কবর থেকে ককটেল মারে আর ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য যদি এ রকম হয় তাহলে বুঝতে হবে যে উনি সত্য বলছেন নাকি মিথ্যা বলছেন। দেশের বাইরে আছেন, ভেতরে অবস্থান করছেন, হজে অবস্থান করছেন অথচ একই সময়ে এখানে মামলা দিচ্ছেন। সুতরাং ওবায়দুল কাদের সাহেবরা যেটা বলবেন আপনার তার বিপরীতটা ধরে থাকবেন।

রিজভী বলেন, আপনাদেরকে এর আগেও আমরা বলেছি, ছোটবেলায় রূপকথার গল্প পড়েছিলাম রাক্ষস-খোক্ষসের। রাজকুমারীকে যখন বন্দি করে রাক্ষস যখন চলে যেত আর বলত আমি আজকে দূরে যাব, তার মানে সে দূরে যেত না কাছাকাছি থাকত। রাজকুমারী ধরে নিয়েছিল দূরে যদি বলে তাহলে বুঝতে হবে কাছাকাছি যাবে। আর যদি বলে কাছাকাছি তাহলে দূরে যাবে। আর আপনারা ওবায়দুল কাদের যেটা বলবেন তার উল্টোটা ধরে নেবেন।

বিএনপির এ নেতা বলেন, এই মতবাদে বিশ্বাস করেন বলেই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে নিহত মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের লাশ ডিঙিয়ে তিনি মন্ত্রী পরিষদের শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেছিলেন এবং নিজে মন্ত্রী পরিষদ সচিবের পদ ধরে রেখেছিলেন। যেকোনো মূল্যে ক্ষমতায় থাকার জন্যই প্রতিযোগিতা ছাড়া তিনি ছাত্রলীগের ছেলেদের জনপ্রশাসনে ঢুকিয়ে বর্তমানে একদলীয় বাকশালী প্রশাসন ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করার আয়োজনে লিপ্ত আছেন।

মানবকণ্ঠ/অরণ্য সৌরভ

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close