আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
রাজনীতি

বিনা ভোটে নির্বাচিত সরকার কথা রাখেনি : ড. কামাল

ওমেনআই ডেস্ক: গণফোরামের সভাপতি ও যুক্তফ্রন্টের অন্যতম শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী দেশের মালিক জনগণ, ক্ষমতার মালিক জনগণ, প্রধানমন্ত্রী নন। কিন্তু জনগণের সেই অধিকার পদদলিত করা হয়েছে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচন দিবেন। কিন্তু তিনি কথা রাখেননি। সুশাসন প্রতিষ্ঠা, তফসিলের আগে সংসদ ভেঙ্গে দেওয়া, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে খুলনার শহীদ হাদিস পার্কে যুক্তফ্রন্টের প্রথম জনসভায় প্রধান অতিথি’র বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

ড. কামাল হোসেন বলেন, হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যাংক লুটের কোন তদন্ত করেনি সরকার। এ জন্য আপনারা আসামি হতে পারেন। চার হাজার কোটি টাকাকে অর্থমন্ত্রী সামান্য বলায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই অর্থের মালিক আপনি নন, জনগণ। দেশের সকল স্তরে দুর্নীতি ও লুটপাট হয়েছে। সরকারি দলের নেতারা এর সঙ্গে জড়িত। তাদের বিচার হয়নি। অনেকে লুটের টাকায় বিদেশে বাড়ি করেছেন। ওদের খুঁজেও পাওয়া যাবে না। আপনারা মনে করবেন না আপনারা পালিয়ে রক্ষা পাবেন। আপনাদেরও বিচার হবে। পাচার করা টাকা দেশে ফেরত আনা হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় জাসদ সভাপতি আ স ম আব্দুর রব বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি একবারই এসেছে, আর আসবে না। জনগণের ভোটে সরকার গঠন করতে না দিলে দায়-দায়িত্ব আওয়ামী লীগকেই বহন করতে হবে। তিনি বলেন, শান্তি, নিরাপত্তা ও ভোটের অধিকারের দাবিতে জনগণ ঐক্যবদ্ধ হলে স্বৈরাচারীরা পালানোর সুযোগ পাবে না।

ডাকসুর সাবেক ভিপি ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, এই মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে বড় সংকট দেশের জনগণ ভোট দিতে পারবে কী না ! খুলনা সিটি করপেরেশন নির্বাচন কেমন হয়েছে- তা আপনারা দেখেছেন। এটা পুলিশের দেশ। পুলিশ ছাড়া সরকার থাকবে না।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমার জন্য খুলনায় যে হোটেলে রুম বুক করা হয়েছিল তা পুলিশের নির্দেশে গত ( সোমবার) রাতে বাতিল করা হয়। পরে স্থানীয় নেতাদের অনুরোধে পুলিশ কমিশনার হোটেল কর্তৃপক্ষকে রুম দেয়ার অনুমতি দেন। তিনি বলেন, সরকার নতুন ষড়যন্ত্রে নেমেছে। তার নাম ইভিএম। সরকার জানে মানুষ ভোট দিলে তারা জিততে পারবে না। তাই ওরা ষড়যন্ত্র করছে। আমরা লড়াইয়ের জন্য পথে নেমেছি। আমরা এই লড়াইয়ের শেষ দেখতে চাই।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরী বলেন, গণতান্ত্রিক সরকার যখন ফ্যাসিস্ট হয়, তখন তারা কারো কথা শুনতে চায় না। শহীদুল আলম কথা বলেছেন বলে ভার্সিটির শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও তাকে কেরানীগঞ্জের জেলে থাকতে হচ্ছে। তিনি বলেন, দেশে পরিবর্তন দরকার। সেই জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে রাস্তায় নামতে হবে।
যুক্তফ্রন্টের প্রথম জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর থাকার কথা থাকলেও অসুস্থতার জন্য তিনি আসতে পারেননি।

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন জেএসডির খুলনা জেলা সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আ ফ ম মহসীন। বক্তৃতা দেন জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক রতন, গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, বিকল্পধারা বাংলাদেশ এর সাংগঠকি সম্পাদক ব্যারিস্টার ওমর ফারুক, সোনার বাংলা পার্টির সভাপতি শেখ আব্দুর নূর, নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী শহীদুল্লাহ কায়সার, জেএসডির সহ-সভাপতি দবির উদ্দিন জোয়ার্দ্দার, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক তৌহিদ হোসেন, মাগুরা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এমএ আউয়াল, জেএসডির সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম, জেলা সাধারণ সম্পাদক কাওসার আলী সানা, স্থানীয় জেএসডি নেতা আব্দুল লতিফ, জিল্লুর রহমান, সুশাংশু সরকার ও অধ্যক্ষ শেখ আব্দুর খালেক প্রমুখ।

সূত্র/আপলোডেড বাই: নয়া দিগন্ত/অরণ্য সৌরভ

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close