আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
উদ্যোক্তা

শিউলীর সাফল্য

shuyle--888ওমেন আই:লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সিংগিমারী ইউনিয়নের ধুবনী গ্রামের দিনমুজর দম্পতি ফজলুল হক-নবিরন নেছার মেয়ে ফারজানা আক্তার শিউলী। দুই বোনের মধ্যে শিউলী ছোট।
সংসারের একমাত্র কর্মক্ষম মানুষ ছিলেন বাবা। তিনি এখন অসুস্থ হয়ে ঘরে পড়ে আছেন। তাই বাধ্য হয়ে মায়ের সঙ্গে ক্ষেতে-খামারে কাজ করতে হয়েছে শিউলীকে। লেখাপড়ায় তার ভীষণ আগ্রহ। তবুও শুধুমাত্র সংসারে আর্থিক টানাপোড়েনের কারণে স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায় এ মেধাবী ছাত্রীর।

জানা যায়, তার পরিবার থেকে টাকা না দিতে পাড়ায় স্কুলের নির্বাচনী পরীক্ষাও দেওয়া হয়নি তার। পরে নিজের দিনমজুরির জমানো টাকা ও স্থানীয়দের সহায়তায় এ বছর মাধ্যমিক পরীক্ষার ফরম পূরণ করেন শিউলী। ক্ষেতে কাজের পাশাপাশি লেখাপড়া করেছেন। অবশেষে পরীক্ষার পর কষ্টের ফলও পেয়েছেন এ মেধাবী ছাত্রী। নানা সমস্যার মধ্যে থেকেও মেধা আর অদম্য মনোবলের জোরে শিউলী মাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
তার স্বপ্ন উচ্চ শিক্ষা নিয়ে ব্যারিস্টার হবেন তিনি। তার এ স্বপ্ন ছেড়া কাঁথায় শুয়ে লাখ টাকার স্বপ্ন দেখার মতো হলেও শিউলী তার লক্ষ্যে অবিচল।

শিউলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “চা বিক্রেতা থেকে নরেদ্র মোদি যদি ভারতের মতো দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন, তাহলে দিনমজুরের মেয়ে হয়ে আমি কেন ব্যারিস্টার হতে পারবো না?”

শিউলী আরো জানান, তার বাবা-মা দু’জনই দিনমজুরের কাজ করতেন। কিন্তু এক বছর আগে তার বাবা অসুস্থ হওয়ায় আর কাজ করতে পারেন না। এরপর থেকেই পরিবারের সমস্যায় তিনিও মায়ের সঙ্গে ক্ষেতে-খামারে কাজ শুরু করেন। টাকার অভাবে নির্বাচনী পরীক্ষাও দেওয়া হয়নি আমার।

তিনি আরো জানান, জিপিএ-৫ পেয়ে তার পরিশ্রম সার্থক হয়েছে। ভালো ফলাফল করে সবাই আনন্দে মিষ্টি খায়। কিন্তু তাদের সে সামর্থ্যও নেই। তাছাড়া বছরের দুই ঈদ ছাড়া তাদের মাংস খাওয়ার সৌভাগ্যও হয় না। তবে পরীক্ষার ফলাফল জানার পর বাবা-মাকে নিয়ে মাংস দিয়ে ভাত খেয়েছেন তিনি। এতে ভীষণ আনন্দিত তিনি।

পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করার পর তার লক্ষ্য ভালো কোনো কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া। তাই ভর্তির জন্য খরচ জোগাতে ক্ষেতে-খামারে দিনমজুরি করে কিছু টাকা জমাচ্ছে শিউলী।

শিউলীর মা নবিরন নেছা বলেন, “জজ-ব্যারিস্টার হতে কত টাহা লাগে বাহে? শিউলী ব্যারিস্টার হবার চায়। কোনঠে পাম এত টাহা।”

ঢাকা ১৪ জুন (ওমেন আই) // এলএইচ//

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close