আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
উন্নয়নে নারী

মঠবাড়িয়ায় ৫ নারীর জয়িতা হওয়ার গল্প

ওমেনআই ডেস্ক: পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার অসহায় পাঁচ নারী সমাজের সব বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে এ বছর পেয়েছেন জয়িতা পুরস্কার।

মহিলাবিষয়ক অধিদফতর অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী সাম্মী আক্তার, শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে মাহমুদা বেগম, সফল মা হিসেবে করুণা রানী কর্মকার, সংগ্রামী নারী মাকসুদা আক্তার ও সমাজ উন্নয়নে সাহিদা বেগমকে মঠবাড়িয়া উপজেলার শ্রেষ্ঠ পাঁচ জয়িতা নির্বাচন করেছে। লিখেছেন- আবদুস সালাম আজাদী

প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের স্বাবলম্বী করছি : সাম্মী আক্তার

অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী সাম্মী আক্তারের বাবার নুন আনতে পানতা ফুরাত। সংসারে অভাবের কারণে বেকার এক পাত্রের সঙ্গে ছেলেবেলায় মেয়ের বিয়ে দেন। দুই সন্তান জন্মের পর স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করে সাম্মীকে তালাক দেয়।

এ প্রসঙ্গে সাম্মী আক্তার বলেন, সন্তানদের দায়িত্বও আমার ওপরই বর্তায়। দুমুঠো ভাতের জোগাড়ের জন্য শিশু সন্তানদের নিয়ে ঝিয়ের কাজ থেকে শুরু করে রাস্তায় ইটভাঙা, পান-সিগারেটের দোকান করি।

এসব কাজ করতে গিয়ে নানা নির্যাতন ও সামাজিক বঞ্চনার মুখোমুখি হই। কিন্তু মনোবল হারাইনি। এক ভাবীর সহায়তায় বিউটি পার্লারের কাজ শিখে অন্যের পার্লারে চাকরি করি। নিজের কিছু পুঁজি ও ভাবীর দেয়া অর্থ দিয়ে নিজ নামে একটি বিউটি পার্লার দিই। বিউটি পার্লার দিয়ে আমি নিজে স্বাবলম্বী হয়েছি, অসহায় নারীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের স্বাবলম্বী করছি।

স্বপ্ন পূরণ করাই ছিল মূল লক্ষ্য : মাহমুদা বেগম

বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছিলেন মাহমুদা বেগমও। কিন্তু লেখাপড়া শিখে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর হাল ছাড়েননি তিনি। সংসার, সন্তান সবকিছু সামলিয়ে লেখাপড়া চালিয়ে যান। এ প্রসঙ্গে মাহমুদা বেগম বলেন, লেখাপড়া শিখে স্বপ্ন পূরণ করতে আমাকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে।

সংসারের সব কাজ সেরে রাতে না ঘুমিয়ে পড়াশোনা করতাম। সে সময় কষ্টকে কষ্ট মনে করিনি। আমার জীবনের স্বপ্ন পূরণ করাই ছিল মূল লক্ষ্য। সেদিন কষ্ট করে লেখাপড়া শিখেছিলাম বলেই শিক্ষকতা পেশায় নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পেরেছি।

আমার জীবনের পরম প্রাপ্তি : করুণা রানী কর্মকার

বিধবা হয়ে চারদিক অন্ধকার মনে হয়েছিল করুণা রানী কর্মকারের। কিন্তু সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে মনকে শক্ত করেন। সংসারের টানাপোড়নের মধ্যেও ওয়ার্কশপ করেছেন তিনি। পাশাপাশি ছেলেমেয়েদের মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের ব্যবস্থা করেছেন।

তার মতে, দুই ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও একমাত্র মেয়ে বিএম কলেজ থেকে ডিগ্রি সম্পন্ন করেছে। বড় ছেলে একটি টেক্সটাইল কোম্পানির এমডি, দ্বিতীয় ছেলে নিজে ভাস্কর্য তৈরির প্রতিষ্ঠান করেছে ও মেয়ে এমএ পাস করেছে। সন্তানদের এ কৃতিত্বের জন্যই আমি সফল মা হওয়ার স্বীকৃতি পেলাম। এটা আমার জীবনের পরম প্রাপ্তি।

অসহায় নারীদের মধ্যে আস্থা সৃষ্টি করছে : মাকসুদা আক্তার

পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন মাকসুদা আক্তার। কিন্তু মনোবল হারাননি। ঘুরে দাঁড়িয়ে সমাজে নিজ যোগ্যতার প্রমাণ রাখেন। উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়ী হন। দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

জয়িতা পুরস্কার প্রাপ্তিতে মাকসুদা আক্তার অনুভূতি প্রকাশ করেন এভাবে, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে জয়িতাদের চিহ্নিত করে তাদের যথাযথ সম্মান, স্বীকৃতি ও অনুপ্রেরণা সমাজের অসহায় নারীদের মধ্যে আস্থা সৃষ্টি করছে। যা সমাজ উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। এতে করে তৃণমূল, পিছিয়ে পড়া, নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করার চেষ্টা যেসব নারী করছেন তারা উৎসাহ পাবেন।

দারিদ্র্য বিমোচনে কাজ করছি সাহিদা বেগম

সাহিদা বেগমের সংসারে সচ্ছলতা ছিল না। কিন্তু অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে কখনও পিছু হটেননি তিনি। সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে সম্পৃক্ত থেকে তিনি বাল্যবিয়ে বন্ধ, সালিশ, সঠিক পরামর্শ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাউন্সিলিং ও সমাজ সেবামূলক কাজ করেছেন এখনও করছেন।

এ সম্পর্কে সাহিদা বেগম বলেন, নারী উন্নয়নে গতি বৃদ্ধি, নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিসহ নারী-পুরুষের বৈষম্য হ্রাস, নারীর ক্ষমতায়ন এবং পর্যায়ক্রমে দেশের দারিদ্র্য বিমোচনে কাজ করছি।

আপলোডেড বাই: অরণ্য সৌরভ

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close