আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
শিল্প-সংস্কৃতি

শহীদ মিনারে খালেদ খানকে শেষ শ্রদ্ধা

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধায় সিক্ত হলেন নন্দিত অভিনেতা-নির্দেশক খালেদ খান।শহীদ মিনারে খালেদ খানকে শেষ শ্রদ্ধা
খালেদ খান। ফাইল ছবি

শনিবার সকাল পৌনে ১১টায় তার মরদেহ শহীদ মিনারে নেওয়া হয়।

সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জামে মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। সেখান থেকে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য নিয়ে যাওয়া হবে।

এরপরই এই অভিনেতাকে নেওয়া হবে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মসদই গ্রামে। সেখানে বাবার কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন তিনি।

এর আগে সকালে বারডেম হাসপাতালের হিমঘর থেকে খালেদ খানের মরদেহ ধানমণ্ডিতে তার বাসভবনে নেওয়া হয়। সেখান থেকে নেওয়া হয় শেষ কর্মস্থল ইউনিভার্সিটি অফ লিবারেল আর্টসে (ইউল্যাব)।

শহীদ মিনারে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এই অভিনেতাকে শেষবারের মতো দেখতে যান যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ অন্যান্য আওয়ামী লীগের নেতারা।

এ ছাড়া সংস্কৃতি সচিব রণজিৎ কুমার বিশ্বাস, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শিক্ষা সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরীও শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারে যান।

বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক ম হামিদ, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল ঝুনা চৌধুরী, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সৈয়দ হাসান ইমামসহ অন্যান্য সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্বরা তাকে দেখতে শহীদ মিনারে যান।

এছাড়া সেখানে উপস্থিত ছিলেন মঞ্চ, টিভি ও বেতাররসহ বিভিন্ন নাট্য ও সংস্কৃতি সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

উল্লেখ্য শুক্রবার রাত ৮টা ১৮ মিনিটে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন খালেদ খান। তার বয়স হয়েছিল ৫৫ বছর।

প্রায় পাঁচ দিন হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। লাইফসাপোর্টসহ সব ধরনের চিকিৎসার কোনো ত্রুটি রাখেননি চিকিৎসকরা। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে পরপারে পাড়ি জমালেন এই নন্দিত শিল্পী।

তিনি স্ত্রী সঙ্গীতশিল্পী মিতা হক, মেয়ে জয়িতাসহ অসংখ্য ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।

প্রায় তিন দশক ক্ষুরধার অভিনয়ে নাট্যাঙ্গনকে রাঙিয়ে দিয়েছিলেন খালেদ খান। ‘ছি ছি ছি, তুমি এত খারাপ!’ সংলাপটি নব্বই দশকে বিটিভিতে প্রচারিত ‘রূপনগর’ নাটকে খালেদ খানের মুখে শুনেছিল দর্শক। এখনও সেই স্মৃতি অমলিন। ওই ধারাবাহিক নাটকে খলনায়ক হলেও তিনিই ছিলেন সবার প্রিয়। মঞ্চে তার মতো আরেকজন অভিনেতা খুব সহজে পাবে না বাংলাদেশ। পরিচিতজনদের কাছে তিনি যুবরাজ, অনেকের প্রিয় যুবদা।

মঞ্চের পাশাপাশি ছোট পর্দায়ও দর্শককে অভিনয়ে বিমোহিত করেছেন খালেদ খান। ‘সকাল সন্ধ্যা’, ‘এইসব দিনরাত্রি’, ‘রূপনগর’, ‘লোহার চুড়ি’, ‘সিঁড়িঘর’, ‘তুমি কোন কাননের ফুল’, ‘মফস্বল সংবাদ’, ‘ওথেলো এবং ওথেলো’, ‘দমন’ ইত্যাদি জনপ্রিয় নাটকে দেখা গেছে তাকে। তার অভিনীত ‘রূপনগর’ নাটকে হেলাল চরিত্রের কথা এখনও ভোলেনি দর্শক। ওই নাটকে তার আওড়ানো ‘ছি ছি ছি, তুমি এত খারাপ!’ সংলাপটি সব বয়সী দর্শকের পছন্দের শীর্ষে ছিল।

অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ খালেদ খান অর্জন করেছেন মোহাম্মদ জাকারিয়া পদক, নূরুন্নাহার স্মৃতিপদক, সিজেএফবি অ্যাওয়ার্ড, ইমপ্রেস-অন্যদিন অ্যাওয়ার্ড ইত্যাদি। খালেদ খান বিজ্ঞাপনে কণ্ঠ দেওয়ার কাজও করেছেন দীর্ঘদিন।

অভিনয় ও নির্দেশনার বাইরে ধানমণ্ডির ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশে (ইউএলএবি) রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। প্রশাসনিক এ দায়িত্বের পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীদের মিডিয়া স্টাডিজ অ্যান্ড জার্নালিজম বিষয়েও পড়াতেন।

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close