আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
রাজনীতি

কঠোর হচ্ছে আওয়ামী লীগ

ওমেনআই ডেস্ক : আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ দলীয় প্রতীকে অংশ নিতে একক প্রার্থীর নাম তৃতীয় ধাপ পর্যন্ত ঘোষণা করেছে। বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এই নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় ক্ষমতাসীনরা উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান, মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদেও দলীয় প্রার্থী উন্মুক্ত রেখেছে। প্রথম ধাপের একক প্রার্থীর নাম ঘোষণা করার পর থেকে কেন্দ্রীয় নেতারা কিছুটা উদাসীন ছিলেন। তাই বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

তৃর্ণমূলে এমন অভিযোগ ওঠার পর থেকে কেন্দ্রীয় নেতারা কঠোর হচ্ছে বলে মিডিয়ায় জানিয়েছেন দলটির সিনিয়র নেতারা। দলীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ভাইস-চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে কোনো দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া হবে না, এগুলো উন্মুক্ত রয়েছে। বিএনপি স্থানীয় সরকারের এই ভোটে না আসায় নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিপূর্ণ করার লক্ষ্যেই সিদ্ধান্তের এই পরিবর্তন বলে আওয়ামী লীগ নেতারা জানিয়েছেন। প্রথম পর্বের ৮৭টি এবং দ্বিতীয় পর্বে ১২২টি এবং তৃতীয় পর্বে ১২৭ উপজেলায় দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগ। গত ৪ ফেব্রুয়ারি সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ভাইস-চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন ফরম বিক্রি করা হয়েছিল। চার দিনে বিক্রি হয় ৩ হাজার ৪৮৫টি ফরম। শুধু ফরম থেকেই প্রায় ছয় কোটি টাকার মনোনয়ন ফরম বিক্রি করে আওয়ামী লীগ।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীকে থেকে ভাইস-চেয়ারম্যান পদটি দূরে রেখেছেন। তৃণমূলের বিভিন্ন দিক বিবেচনা করেই দলীয় শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক অবস্থা বিচার বিশ্লেষণ করে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস-চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদ দুটি উন্মুক্ত রাখা হয়। প্রতিটি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী থাকলেও ভাইস-চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে রয়েছে একাধিক প্রার্থী রয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় প্রার্থী হিসেবে কমপক্ষে তিনজন আর সর্বোচ্চ ৮ জনও রয়েছে এই দুই পদে। তবে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছে, ‘জেলা পর্যায়ের নেতারা চাইলে একক প্রার্থীও দিতে পারবে। যদি কোনো বিশৃঙ্খলা না হয়।’ তৃণমূল একক প্রার্থী ঘোষণা করলে সেই প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

কেন্দ্র থেকে প্রার্থিতা নিয়ে বার বার উন্মুক্ত করার কথা বলা হলেও তৃণমূল নেতাকর্মী রয়েছে দো’টানায়। ভুগছে সিদ্ধান্তহীনতায়। একাধিক প্রার্থী লবিং করছে জেলা পর্যায়ের নেতাদের কাছে। কিন্তু একক প্রার্থী দেয়া নিয়ে একক সিদ্ধান্তে আসতে না পেরে তৃণমূল নেতারাও উন্মুক্ত রাখতে আগ্রহী। তবে কাকে ভোট দেবে, কার পক্ষে কাজ করবে সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে দো’টানায় রয়েছে নেতাকর্মী।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল আওয়ামী লীগে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। একক প্রার্থীর প্রতি দলের উধাসীনতার কারণে বিদ্রোহী প্রার্থীরা বিভিন্ন বিশৃঙ্খলা জড়িয়ে পড়ছে। এই নির্বাচনকে কেন্দ্রে করে একই উপজেলা কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত হচ্ছে। একদল আরেক দলের মুখও দেখতে পারছে না। সারাদেশের তৃণমূলে প্রার্থীরা পরস্পরকে ঘায়েল করতে নানাভাবে চরিত্র হননে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। অনেক স্থানে বিতর্কিত নেতাকেই দলীয় মনোনয়ন দেয়ার হয়। সেজন্যই অনেক স্থানে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীর ভরাডুবি হতে পারে। এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে দলের শীর্ষ পর্যায়ের অনেকে নেতা বিদ্রোহীদের বিষয়ে উড়িয়ে দিচ্ছে না।

স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার কারণে বিদ্রোহী প্রার্থীকে অনেটাই নমনীয়তা দেখাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তবে নির্বাচনের দিন যতই এগিয়ে আসছে বিদ্রোহী ও দলীয় প্রার্থীকে নিয়ে দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীর মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল সৃষ্টি হচ্ছে। তাই কোন্দল ঠেকাতে কেন্দ্র থেকে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীর কঠোর বার্তা পাঠাচ্ছে ক্ষমতাসীন দলটি।

আরো জানা যায়, তৃণমূল অনেক নেতাকর্মী নিজ নিজ বলয় সৃষ্টি করে মাঠ পর্যায়ে নিজের শক্তির জানান দেন। একে অন্যের বিরুদ্ধে সমাবেশ-পাল্টা সমাবেশ ও এক প্রার্থীর আরেক প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিতর্কমূলক আলোচনায় জরিয়ে পড়েন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে একই অবস্থা তৈরি হচ্ছে ক্ষতাসীন দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীর মধ্যে। বিশেষ করে ভাইস-চেয়ারম্যান পদটি উন্মুক্ত রাখার কারণে একাধিক নেতা প্রার্থী হয়ে ভোটের মাঠে কাজ করছে। একটি পদে একাধিক প্রার্থী হওয়ার কারণে তারা পরস্পরবিরোধী গ্রুপ তৈরি করে নেতাকর্মীর মধ্যে সংঘর্ষে জড়াতে পারে বলে ধারণা করছে আওয়ামী লীগ। এসব সমস্যা যেন দলীয় নেতাকর্মীর মধ্যে তৈরি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে শুরু করেছে টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা দলটি। তাই দলীয় ও বিদ্রোহী প্রার্থী এবং তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কঠোর বার্তা পাঠাচ্ছে তারা। বিএনপিবিহীন নির্বাচনে কোনো ধরনের সংঘাত দেখতে চায় না বলে দাবি করছে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক বলেন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোনো কোন্দল নেই। আর যদি কেউ কোন্দলে জড়িয়ে তৃণমূলে নেতাকর্মীর মধ্যে দূরত্ব তৈরি করে দল তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।                                                                                                                                                                                      আপলোডেড বাইঃ নুশরাত সামিয়া

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close