আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
অপরাধ

বাবার সহযোগিতায় স্কুলছাত্রীকে হত্যা

hotta wmnওমেনঅাই: বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা সদরের সুদিন গ্রামের ৮ম শ্রেণীর স্কুল ছাত্রী রুমা খাতুনকে খুন করেছে বাবা-চাচা ও দাদীসহ ছয় পাষণ্ড। প্রতিবেশীদের ফাঁসাতে পরিকল্পিতভাবে খুনের ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে তারা শুক্রবার সকালে পুলিশ ও সাংবাদিকদের নিকট স্বীকার করেছে।

গ্রেফতাররা হলেন, রুমার বাবা আব্দুল ওহাব আকন্দ (৪৩), চাচা জোনায়েদ আকন্দ (৩৫), চাচা সাইফুল আকন্দ (২৩), চাচাত ভাই ঘটনার মূলপরিকল্পনাকারী রবিউল (২৪), রবিউলের ভগ্নিপতি হাসান মণ্ডল (২৮) ও রুমার দাদী ফেরেজা বেগম (৫৫)।

দুপুরে বগুড়া পুলিশ সুপার কার্যালয়ের হলরুমে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বগুড়া পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক, অতিরিক্ত পুলিশসুপাররা উপস্থিত ছিলেন।

আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, এর আগে নিহত রুমার বাবা আব্দুল ওহাব আকন্দ বাদী হয়ে ধর্ষণ ও খুনের যে মামলা করেছিল সেটির ফাইনাল রিপোর্ট দেওয়া হবে। পুলিশ বাদী হয়ে ওই মামলার বাদীসহ অপর আসামিদের নামে অপর একটি খুনের মামলা করা হবে।

শুক্রবার সকালে আদমদীঘি থানায় পুলিশ ও উপস্থিত সাংবাদিকদের নিকট ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে রুমার বড় চাচা জোনায়েব আকন্দ, ছোট চাচা সাইফুল ইসলাম এবং দাদী ফেরেজা বেগম জানান, তাদের প্রতিবেশী আব্দুর রহমান, শফির উদ্দিন ও আহসানসহ কয়েকজনের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধ থেকে রেহাই পেতে হলে নিজেদের কাউকে খুন করে ওই প্রতিবেশীদের ওপর দোষ চাপানোর পরিকল্পনা করে রবিউল ইসলাম। তার পরিকল্পনা গ্রহণ করে নিহত রুমার বাবা-চাচা ও দাদী।

এ নিয়ে ৩১ আগস্ট সোমবার রাত ৯টার দিকে তারা রুমার চাচা সাইফুল ইসলামের বাড়িতে শলাপরামর্শ করে। প্রথমে রুমার দাদী ফেরেজাকে খুনের প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু ফেরেজা এতে রাজী না হলে রুমাকে খুন করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।

সিদ্ধান্ত মোতাবেক ওই দিন রাত ১১টার দিক থেকে আলাদা আলাদা বাড়ি থেকে বের হয়ে তারা রুমাদের বাড়িতে সমবেত হয়।

রাত ১২টার দিকে রুমার বাবা আব্দুল ওহাব ঘর থেকে বের হয়ে আসেন এবং রুমার ঘুমন্ত মাকেও ঘরের বাইরে বের করে দেওয়া হয়।

পরে সবাই মিলে আসেন ঘুমন্ত রুমার ঘরের নিকট। রুমার বড় চাচা জোনায়েব আকন্দ ঘরের বাইরে থেকে লোহার শিক দিয়ে দরজার খিল কৌশলে খুলে ঘরে প্রবেশ করেন। এর পর ঘুমন্ত রুমাকে তার দুই চাচা জোনায়েব ও সাইফুল চৌকি থেকে মেঝেতে নামায়। এ সময় রুমা জেগে উঠে এবং কি হয়েছে জানতে চায়। কিন্তু পাষণ্ডরা কোনো কথা না বলে আরও শক্ত করে ধরে রুমাকে শুইয়ে রাখার চেষ্টা করলে রুমা চিৎকার করে ওঠে। এ সময় তার দাদী মুখ চেপে ধরে। তার বাবা ধরে মাথা।

ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী রবিউল ও তার বোন জামাই হাসান আলী রুমার পা ধরে রাখে। আর চাচা জোনায়েব ও সাইফুল রুমার গায়ের ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেয়। এ সময় প্রচণ্ড ধস্তধস্তিতে রুমার দাদী ফেরেজা বেগমের কানের লতি ছিড়ে যায়।

তারা রুমার মৃত্যু নিশ্চিত করার পর যার যার বাড়িতে চলে যায়। রাত দেড়টার দিকে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী রুমাকে কে বা কারা ধর্ষণ ও খুন করেছে মর্মে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে।

ঢাকা, ৬ সেপ্টেম্বর (ওমেনআই)/এসএল/

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close