আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
নারী সংগঠন

‘নারী-পুরুষ সবার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে’

ayesaওমেনআই:বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম বলেছেন, ‘নারী নির্যাতন বন্ধে নারী-পুরুষ উভয়ের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন ও সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।’

রোববার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো নিজ নিজ দলের স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়ার ফলে ব্যাপক জনগোষ্ঠী তার প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’

আয়শা খানম বলেন, ‘নারী অধিকার রক্ষা, নারী নির্যাতন প্রতিরোধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের উল্লেখযোগ্য অর্জন আছে। কিন্তু পাশাপাশি গুম, হত্যাসহ বিভিন্ন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের ওপর নির্যাতন তবু বন্ধ হচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘নির্যাতনকারীদের আমরা আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছি, কিন্তু পারা যাচ্ছে না। রাষ্ট্র, প্রশাসন নিজে যদি আইন প্রতিষ্ঠা না করে, আইন মেনে না চলে তাহলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না।’

আদিবাসীদের প্রতি বৈষম্য বিষয়ে হিল উইমেনস ফেডারেশনের সভাপতি চঞ্চনা চাকমা বলেন, ‘বাংলাদেশ বহুজাতি, বহু ভাষাভাষীর দেশ। ৫৪টিরও অধিক আদিবাসী গোষ্ঠীর বসবাস এদেশে। কিন্তু বর্তমানে আদিবাসী নারীদের ওপর নির্যাতন যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তা উদ্বেগজনক। ২০১৪ এর জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত আদিবাসী নারীদের ওপর নির্যাতনের ২১টি ঘটনা ঘটেছে।’

আইন সালিশ কেন্দ্রের সিনিয়র উপপরিচালক অ্যাডভোকেট রওশন জাহান পারভীন বলেন, ‘নারীর প্রতি বৈষম্য নিরসনের জন্য আমরা কখনো একক, কখনো বা যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছি। সংবিধান আমাদের মানবাধিকার দিয়েছে। বিরাজমান এ সমস্যা ও বৈষম্য নিরসনের জন্য এবং সংবিধানের আলোকে মানবাধিকার রক্ষার জন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।’

বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সালমা আলী বলেন, ‘প্রতিনিয়ত আমরা নারীর ওপর নির্যাতন দেখে যাই। পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী আমরা দেখতে পাই, দক্ষিণ এশিয়ায় কিশোরী নির্যাতনে বাংলাদেশ শীর্ষে। কিন্তু এর প্রতিকার কোথায়? প্রশাসনের সহযোগিতার অভাবে আইন বাস্তবায়ন হয় না।’

সমাবেশে প্রস্তাব পাঠ করেন দি হাঙ্গার প্রজেক্টের প্রোগ্রাম ম্যানেজার দিলীপ কুমার সরকার।

প্রস্তাবগুলোর মধ্যে আছে- নারী নির্যাতন প্রতিরোধে নারী-পুরুষ, সরকার, প্রশাসন, নাগরিক সমাজ সবাকে ঐক্যবদ্ধ হওয়া; নারী নির্যাতনকারীদের রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়, প্রশাসনিক আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়া বন্ধ করা; জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; বৈষম্য নিরসনে সরকার ও রাষ্ট্রকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া।

প্রস্তাবে জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনে সরাসরি নির্বাচন এবং আসন সংখ্যা এক-তৃতীয়াংশ বৃদ্ধিসহ আরো কিছু দাবি উল্লেখ করা হয়।

সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, কর্মজীবী নারীর নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া রফিক বেবী, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীর, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের পরিচালক রীনা রায়, আমরাই পারির কো অর্ডিনেটর জিনাত আরা হক, স্টেপস টুওয়ার্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক রঞ্জন কর্মকার প্রমুখ।

ঢাকা, ৯ সেপ্টম্বর (ওমেনআই)/এসএল/

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close