আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
রাজনীতি

‌‌‌‌‌মধ্যবর্তী নির্বাচনের সম্ভাবনা নেই : প্রধানমন্ত্রী

pm4ওমেন আই: জাতিসংঘের ৬৯তম সাধারণ অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘দেশে মধ্যবর্তী নির্বাচনের কোনো সম্ভাবনা নেই। কেউ ভুল করে থাকলে ভুলের খেসারত তাকেই দিতে হবে।’

বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন নিউইয়র্ক আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টায় অংশ নিয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে নিউইয়র্ক সফরে নেয়া বিভিন্ন কর্মসূচির কথা সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

নিউইয়র্ক থেকে সম্প্রচারিত টাইম টেলিভিশনের সিইও আবু তাহেরের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যারা ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নেয়নি ও যারা এ নির্বাচনের বিরোধিতা করছেন তাদের ওয়ান-ইলেভেনের মতো আরও একটি অগণতান্ত্রিক সরকারকে ক্ষমতায় বসানোর সুপ্ত বাসনা ছিল?’ সাংবাদিকদের হুঁশিয়ার করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ ধরনের অগণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় এলে আপনাদের সবাইকে ছেঁচা খেতে হবে। সেটা কী আপনারা চান?’

মধ্যবর্তী নির্বাচন ও জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের সংলাপের আহ্বান বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কিসের জন্য মধ্যবর্তী নির্বাচন? দেশে কি কোনো সমস্যা আছে? দেশ চলছে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়।’ সাংবাদিকদের উল্টো প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কাদের স্বার্থে মধ্যবর্তী নির্বাচন? যারা নির্বাচনে অংশ নেয়নি তাদের সাথে কিসের সংলাপ? বিএনপির সঙ্গে কোনো সংলাপ নয়; দেশ চলবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়। জাতিসংঘ মহাসচিব সংলাপের বিষয়ে বলেছেন- আমরাতো সংসদে বিরোধী দলের সঙ্গে সংলাপ করছি। পার্লামেন্টারি রাষ্ট্র ব্যবস্থায় বিরোধী দলের সঙ্গেই সংলাপ হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে মধ্যবর্তী নির্বাচনের কোনো সম্ভবনা নেই। কেউ ভুল করে থাকলে ভুলের খেসারত তাকেই দিতে হবে। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সরকারের কোনো আঁতাত নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারায় এ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে টিভি টকশোতে কেউ কেউ মনে করেন’ এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ ভোট দিতে না গেলে এটা তার ব্যর্থতা। আসলে অসাংবিধানিক সরকার ক্ষমতায় এলে এক ধরনের লোকের গুরুত্ব বাড়ে। তাদের মন্ত্রী হবার খায়েস থাকলে তারা নির্বাচনে আসেন না কেন? শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা জনগণের সেবা করতে এসেছি। আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে সচেতন। পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংক টাকা বন্ধ করে দেয়। আমি চ্যালেঞ্জ দিলাম সেখানে কোনো দুর্নীতি হয়নি।’

প্রবাসী সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে সব অপকর্মের মূল রোপণ করে গেছে জিয়া। তার ক্ষমতা দখলকে অবৈধ বলেছে হাইকোর্ট। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব যা করেছে ১৯৭৫-৭৬ সালে জিয়া তাই করেছে। জিয়া জামায়াতকে রাজনীতির সুযোগ করে দিয়েছে। পাকিস্তানী পাসপোর্ট নিয়ে যারা গিয়েছিল তাদের দেশে ফিরিয়ে এনেছে।’

‘জামায়াত নিষিদ্ধের’ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘জিয়াউর রহমান সংবিধান পরিবর্তন করে দেশবিরোধীদের পুনর্বাসন করেছেন। তাদের গাড়িতে ফ্ল্যাগ উড়ানোর সুযোগ দিয়েছেন। তারা হাওয়া ভবনের মাধ্যমে দুর্নীতি করেছেন। আজকে টকশোতে বসে সবাই বড় বড় কথা বলছেন। বেসরকারি টিভি চ্যানেলে যারা কথা বলছেন; তারা কী ভুলে গেছেন, এই টিভি চ্যানেলগুলোর লাইসেন্স কে দিয়েছে? শেখ হাসিনা দিয়েছেন। ১৯৯৬ এর পর আমাদের সরকারই বেসরকারি টেলিভেশনের অনুমতি দিয়েছে বলেই আজকে সবাই এয়ারকন্ডিশনের ভেতর বসে বড় বড় কথা বলছেন। যদি আমি বিদ্যুৎ উৎপাদন না করতাম, তাহলে কীভাবে এই টিভি চ্যানেল চলত? কীভাবে আরাম-আয়েশে এসিতে বসে টকশো করতেন?’

সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক সমাবেশে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া, ‘জনগণের রোষানল থেকে বাঁচতে হলে শেখ হাসিনাকে ভিসা রেডি করে রাখতে হবে’ বলে যে মন্তব্য করেছেন তা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া ভারতের শিলিগুড়ি থেকে বাংলাদেশে এসেছেন। আমি এই দেশেরই মেয়ে। আমি এ দেশের টুঙ্গিপাড়ার গাঁও-গেরামের মেয়ে। কাউকে যদি ভিসা নিয়ে যেতে হয় তো খালেদা জিয়াকেই যেতে হবে। তিনিতো পোটলা বেঁধে সবসময় রেডিই থাকেন। জরুরি অবস্থার সময় তাকে যখন দেশ থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা চলেছে, আমিই তখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রতিবাদ করেছি। একমাত্র আমি তার দেশত্যাগের বিরোধিতা করেছি।’

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের বিগত সময়ের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের ফিরিস্তি এবং জাতিসংঘের চলতি অধিবেশনের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিশ্বের ৫৪টি দেশে নারীসহ ১ লাখ ২৮ হাজারের বেশি বাংলাদেশী শান্তিরক্ষী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

জাতিসংঘের ৬৯তম সাধারণ অধিবেশনে অংশ নিতে ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক সফরে এসে জাতিসংঘের বিভিন্ন অধিবেশন ও সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্র প্রধানদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে আলোচনা এবং বিভিন্ন ভোজে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২৬ সেপ্টেম্বর দিনের শুরুতেই বাংলাদেশের সদস্যপদ লাভের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ মিশনের প্রকাশনা বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়াও সকালে জাতিসংঘের পিস কিপিং সামিটে কো-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এরপর ২৬ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টায় বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন নিউইয়র্ক আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন।

ঢাকা, ২৭ সেপ্টেম্বর (ওমেনআই)/এলএইচ/

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close