আমাদের নুতন ওয়েবসাইট www.womeneye24.com চালু হয়েছে। নুতন সাইট যাবার জন্য এখানে ক্লিক করুন
আপন ভুবন

কিশোরী, তরুণী ও নারীদের বলছি

শাহরিন রহমান : হ্যা মানবী, আপনাকেই বলছি। আপনার কিছু সহজাত প্রবৃত্তি আছে যা জানা থাকলে আপনি নিজের সুরক্ষার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে পারবেন। সুরক্ষা মানসিক পার্থিব বা উভয়েরই গুরুত্বপূর্ণ। আশা করছি অযথা সমস্যা/বিপদ এড়াতে তথ্যগুলি আপনাকে সাহায্য করব।

প্রশংসা- আপনি না চাইলেও যা আপনার মন স্পর্শ করে তা হচ্ছে প্রশংসা। সচেতন অবচেতন দুইভাবেই প্রশংসা আপনাকে প্রভাবিত করে। রেগে গেলেও ভেতরের অপর মন আপনাকে প্রশংসাকারীকে ভালো লাগাতে শেখায়।
যদি দেখেন কোন সদ্য পরিচিত বা অল্প পরিচিত মানব নিয়মিতভাবে বা প্রায়ই আপনার প্রশংসা করে যাচ্ছে (রূপ, যোগ্যতা, মেধা ইত্যাদি), সেই ব্যাক্তির সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া সবচেয়ে ভালো সিন্ধান্ত । কেননা খুব দ্রুতই সে আপনার মনে প্রভাব ফেলতে সক্ষম হবে, আপনার মানসিক বা অন্য কোনো ধরণের ক্ষতি করার সুযোগ তার তৈরী হয়ে যাবে।
অনেক ক্ষেত্রেই নারীরা প্রশংসাকারীর উপর মানসিকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। খুব কম নারীই পাওয়া যাবে যারা রূপের প্রশংসায় মনে মনে খুশী হয়না, যার আধিক্য বিপদও ডেকে আনে।

সংবেদনশীলতা- নারীমনের কোমলতা মানষের কষ্টে সংবেদনশীল। অন্যের মানসিক কষ্টে সে ক্ষণিক স্বস্তি দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে এমনকি সামনের মানুষটি নিত্যান্ত অপরিচিত হলেও।
বিষয়টি শুধু ইচ্ছা বা দু’একটা শান্তিময় বাক্য দ্বারা সীমাবন্ধ হওয়াই ভালো যদি মানুষটিকে আপনি তেমন না চিনে থাকেন। বেশী সময় তার সাথে অতিবাহিত করার ইচ্ছা থাকলে জেনে নিন, আপনার প্রতি সংবেদনশীলতা ব্যবহার করে পরিচিত হওয়া এবং পরবর্তিতে এই পরিচয় থেকে টাকাসহ বিভিন্ন সুযোগ নেওয়া অনেকের একটা ভালো কৌশল।

অন্ধ-বিশ্বাস- বিশ্বাসে শ্রদ্ধা রাখা যায় যতক্ষণ পর্যন্ত তা অন্ধত্ব সৃষ্টি না করে। স্বচ্ছতা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নারী প্রবৃত্তি অনেক ক্ষেত্রেই সেটাকে অন্ধত্বের পর্যায়ে নিয়ে যায় ভালোবাসার নাম দিয়ে, অথবা ভালোবাসা হারানোর ভয়ে কাছের মানুষের আর কিছু বিবেচ্য বলে বোধ হয় না (সবার ক্ষেত্রে প্রযোগ্য না)।
একটা কথা এখানে বলে রাখি, আপনি যদি দেখেও না দেখার ভান করেন। সেটা নিজেকেই নিজে বোকা বানানোর মত। সম্পর্কের স্বচ্ছতার স্বার্থে সামান্য খোজখবরও আপনার কাছের মানুষ সম্মন্ধে যদি না নেন সেটার ক্ষতিপূরণ নিজেকেই দিতে হয়। তাই বিশ্বাস করুন স্বচ্ছতার সাথে। এতে সম্পর্ক দৃঢ় হবে। অন্ধবিশ্বাসে কোন গৌরব নেই। এটা বোকামি ছাড়া আর কিছু না।

মনোযোগ আকাংক্ষা- এই বিষয়টা বিশেষ করে নব কিশোরীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। নতুন অনুভবের এই সময়টা কোন মানবের বিশেষ মনোযোগে তোড়পাড় হওয়ার মতই সময়। অনেক মানবই সামান্য মনোযোগ ব্যয় করে কিশোরি মনোজগৎ নিয়ে খেলা করার অফুরন্ত সুযোগ পায়, বিশেষ করে যাদের মানবদের সাথে মেলামেশার সুযোগ হয়নি তেমন। এর থেকে সুরক্ষার উপায় হচ্ছে, কেউ আপনাকে বেশি মনোযোগ দিতে শুরু করলে তার থেকে দূরে থাকুন। পরিবারের বড় কারো সাথে বা শিক্ষিকার সাথে স্বাচ্ছন্দবোধকর সম্পর্ক থাকলে আপনার সমস্যা তার সাথে আলোচনা করে দেখতে পারেন। পরিবারের মানুষ আপনাকে নির্দেশনা দিয়ে সাহায্য করতে পারবে।

বিয়ে-পূর্ব বিছানা- এটা আজকাল এত জনপ্রিয় হয়ে গেছে যে এর বিরুদ্ধে কিছু বললে হয়তো ক্ষ্যাত, সেকেলে, বোরিং জাতীয় কথা শুনতে হয়। আপনি যখন অনিচ্ছাকৃতভাবে সন্তানসম্ভবা হয়ে পড়েন এই কথকগণ কিন্তু দ্বায়িত্ব নিতে আসেন না। এমন কি আপনার ভালোবাসার মানুষটিও না। বিছানার কথা ভাবার আগে, আপনার বিছানা-সংবাদ জনগণের কাছে মা বাবার কাছে চলে গেলে আপনার কেমন লাগবে ভেবে দেখুন। অনেকেরই গিয়েছে, সচিত্র আকারে। আপনারটা যাবে না কোন নিশ্চয়তা নেই।
তাই ভালোবাসার মানুষটিকে ভালোবাসা রক্ষার্থেই সবিনয়ে বলুন, “বিছানা বিয়ের আগ পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাক। তাকে অসময়ে জাগানোর কোন প্রয়োজনীয়তা নেই।”
ভালোবাসার মানুষ যদি রেগে যায়, আপনাকে ছেড়ে চলে যেতে চায়, তাকে যেতে দিন। এ ধরণের মানুষ শুধু বিপদেই ফেলতে পারে। আর কিছু নয়। আপনার সত্যিকারের ভালোবাসার মানুষ আপনাকে ছেড়ে কখনো যাবে না।

বিয়ের পাত্রের খোজখবর- বিষয়টা বিস্ময়কর হলেও সত্যি যে অনেক সময় পাত্র বা তার পরিবারের প্রদর্শিত তথ্যের উপর ভিত্তি করে, পাত্র সম্পর্কে ঠিকঠাক খোজখবর না নিয়েই পিতা-মাতা মেয়ের বিয়ে দিয়ে দেন। ফলাফল স্বরূপ বিয়ের পর জানা যায়-

-পাত্র মাদকাসত্ত
-পাত্র একজন বিশিষ্ট বেকার এবং এখন যৌতুক চায় নিজে দাঁড়ানোর জন্য
-পাত্রের কোন বিশেষ শারীরিক রোগ আছে যা সন্তান ধারণে বাধা স্বরূপ
-পাত্র মানসিক রোগী
-পাত্রের প্রথম স্ত্রী আছে, যার সাথে এখনো তালাক হয়নি
-পাত্র মানবী-বাণিজ্যের সাথে যুক্ত (বিয়ে করে রংমহলে বিক্রি করে দেওয়া)
-পাত্র অন্যান্য মারাত্বক অপরাধ চক্রের সাথে যুক্ত

ওদের বিয়ে- পরবর্তি জানা জীবনের কথা বলে আপনাদের ভয় পাওয়াতে চাইছি না। তাই সতর্ক থাকার স্বার্থে বলবো,আপনার বিয়ের কথা চললে আপনার মা-বাবাকে উপরোক্ত বিষয়ে খোজ নিতে বলুন। মা-বাবার সহযোগীতা না পেলে ভাই বা বন্ধুকে খোজ নিতে বলুন। তথ্যের উৎস হতে পারে- তার বর্তমান এবং পূর্বের কর্মস্থল এবং রেকর্ড, বর্তমান কোম্পানীগুলো তাদের কর্মচারীদের অনেক তথ্যই সংগ্রহে রাখে নিরাপত্তার খাতিরে। বন্ধুদের সাথে কথা বললে তথ্য যোগাড়ের আরো অনেক উপায় বের হয়ে আসবে।

চাকরীক্ষেত্র – মানব-মানবীদের কার্যস্থান বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এক হওয়ায় কিছু তথ্য জেনে রাখলে আপনার ঠান্ডা মাথায় সঠিক সিন্ধান্ত নিতে সুবিধা হবে।

-সহজে গায়ে পড়ে কেউ চাকরী নেওয়ার আমন্ত্রণ জানায় না। জানালে বুঝতে হবে তাতে সমস্যা আছে।
-আপনি যে কোম্পানীর বিজ্ঞাপন দেখে চাকরী পাওয়ার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন, সে সম্পর্কে গুগল সার্চ ইঞ্জিনে একটু দেখে নিন আওদো এমন কোন কোম্পানী আছে কিনা। (কোম্পানী “ভূয়া” বা রেজিস্টার্ড কিনা এটা জানার উপায় আমি এখনো জানি না। কেউ জানলে এখানে জানাতে পারেন, কৃতজ্ঞ থাকবো)
-কিছু ক্ষেত্রে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সুযোগ পেলে স্পর্শ করতে পারে, স্পর্শজনিত কথা বলতে পারে, এমনকি বিছানা-প্রস্তাবও দিতে পারে প্রমোশনের কথা বলে।

বিষয়টা অনেকটা বাচ্চা মেয়েদের ললিপপ দিয়ে ভোলানোর চেষ্টার মত। এদের এড়িয়ে চলুন। এড়ানো সম্ভব না হলে বিনয়ের সাথে ব্যক্তিত্যে কিছুটা কাঠিন্য আনুন তাকে অনুৎসাহিত করার জন্য, খারাপ আচরণ নয়। তাতে কাজ না হলে আপনার কাছের কারো সাথে বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করে দেখতে পারেন যে কি করা যায়।
আশা করা যায়, আলোচনা করে একটা ভালো সমাধান বেরিয়ে আসবে। সমস্যার কাছে হেরে যেতে হয়না, সমাধান খুজে বের করতে হয়।

বন্ধুর বাসা- বিশেষ করে আপনি যদি কিশোরী বা তরুণী হন এবং বন্ধুত্বের সূত্র ধরে কম বয়স্ক বন্ধু বা বান্ধবীর বাসায় নিমন্ত্রণ পেয়ে থাকেন (জন্মদিন, সারপ্রাইজ পার্টি বা যেকোন সেমিব্রেশন), তাহলে আপনাকে বলে রাখা ভালো যে কিছু ঘটনা আছে যেখানে নিমন্ত্রণে গিয়ে আবিষ্কার করা হয় মানবী হয়তো আপনি একা অথবা আপনার সাথে বান্ধবীটি শুধু। বাকীরা সবাই মানব এবং তাদের সংখ্যাই বেশী। বড় কেউ বাড়িতে নেই।
আরো স্পষ্ট করার জন্য বলছি, বাড়ীতে ডেকে এনে বান্ধবীর খাবারে অচেতন করার ঔষধ মেশানোর ঘটনা কিন্তু নতুন না। বাকীটা আর না বললাম।
তাই সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে, কোথায় যাচ্ছেন সে সম্পর্কে বাবা মাকে সম্পূর্ণ ধারণা দিয়ে রাখা। প্রয়োজনে সেই বন্ধুর ফোন নম্বর এবং ঠিকানা আপনার মা বাবাকে দিয়ে রাখুন, যেনো আপনার কোন বিপদে তারা সাহায্য করতে পারেন।
এছাড়া স্মার্ট ফোনে শুনেছি কিছু সফটওয়্যারের মাধ্যমে সংস্পর্শে থাকা যায়। পরিবারের কারো সাথে নিমন্ত্রণে গিয়ে সেভাবে সংস্পর্শে থাকতে পারেন।

www.amrabondhu.com/shahreen

আরও পড়ুন

Back to top button
Close
Close